ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লা বিসিক শিল্পনগরীর নব্য জুট সন্ত্রাসীর খেতাব পেলেন এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. মাহমুদুর রহমান আলমগীর।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যদিয়ে গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসির পতন হওয়ার পর ফতুল্লার বৃহত্তর শিল্পনগরী বিসিকের বিভিন্ন ফ্যাক্টরী থেকে জুট ও ওয়েষ্টিজ মাল নামানোকে কেন্দ্র করে স্থনীয় বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছিলো চরম ক্ষোভ ও চলমান ছিল গ্রুপিং দ্বন্দ্ব, এরই মাঝে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে। সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও বিকেএমই’র সভাপতি মো.হাতেম এর মধ্যস্থতায় বিসিক শিল্পনগরীর ঝুট সেক্টও ও ওয়েষ্টিজ মালামালের ভাগ ভাটোয়ারার সমঝোতা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাড.আলমগীর ও সাধারন সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন মাসদাইরের নেতাকর্মীদের মাঝে বিসিকের ঝুট ও ওয়েষ্টিজ মালামালের লভ্যাংশ ভাগ করে দেন। এতে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এনায়েনতনগর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড শাসনগাঁওয়ের বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ১৯ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার সকালে বিসিকের জুট নামানোকে কেন্দ্র করে এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. মাহমুদুর হক আলমগীর গ্রুপ মাসদাইর ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ গ্রুপ শাসনগাও দুই গ্রুপের মধ্যে বিরাজ করছিলো চরম উত্তেজনা। দুই গ্রুপ পৃথক ভাবে করেছেন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাসেল মাহমুদ বলেছেন, বিসিক শিল্পনগরী এনায়েতনগর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের শাসনগাওয়ের অন্তর্গত। এখানের সুযোগ সুবিধা শাসনগাওয়ের নেতাকর্মীরা পাওয়ার কথা কিন্তু তারা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সব মাসদাইরের নেতারা নিয়ে যায়।
নব্য ঝুট সন্ত্রাসী এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. আলমগীর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি শেল্টারে এসব অপকর্ম করছে। ৫ আগষ্টের পর ফকির গার্মেন্টসের মাল নামানোর জন্য ব্যাংকে পে -অর্ডার করলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিন সাহেব ও বিকেএমইর সভাপতি মোঃ হাতেম সাহেবের মধ্যস্থতায় শাসনগাওয়ের নেতাকর্মীদের অর্ধেক দেয়ার কথা বললে আমরা ব্যাংকের পে-অর্ডার তুলে নেই। দীর্ঘ ৬ মাস অতিবাহিত হলেও আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে কিছুই পায়নি। আমি আজ রাস্তায় নেসেছি আমার জন্য নয় শাসনগাঁও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অধিকার আদায়ের জন্য।
রাসেল মাহমুদ আরো বলেন,বিএনপি শুধুমাত্র আলমগীর ও রনি একাই করেনি,বিএনপি আমরাও করেছি। প্রতিটি আন্দেঅরন সংগ্রামে রাজপথে থেকে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জেল খেটেছি তারপরও দলের কমান্ডের বাহিরে যাইনি। অ্যাড.আলমগীরকে উদ্যেশ্যে করে তিনি আরো বলেন,আপনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেও সাথে আতাত করে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। বিগত সময়ে আপনি ছিলেন মামলা-হামলা বাহিরে। মশিউর রহমান রনির আত্মীয়-স্বজন আওয়ামীলীগের বড় ছিলো। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেসক্রিপশনে রনি বর্তমানের বিসিকের রাজনীতি করছেন। আমরা আপনাদের হুশিয়ার করে বলতে চাই,শাসনগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের দেহে প্রান থাকতে বিসিকের সুবিধা মাসদাইরের লোকদেরকে দেয়া হবেনা।
এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. মাহমুদুর হক আলমগীর এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওতো একটা লুইচ্চা বদমাইশ ওর সাথে কোন কথা নাই। আমরা আজকে হরতাল বিরোধী মিছিল করেছি। ও সকাল থেকেই কয়েক হাজার লোক নিয়ে বিসিকে মহড়া দিয়েছে। ওর বাড়ির সামনেও হাজার লোক নিয়ে অবস্থান করছে। জেল থেকে বের হওয়ার পর রাসেল উন্মাদ হয়ে পড়েছে। বিসিকের বিভিন্ন গার্মেন্টস এ যাচ্ছে মাল নামাতে। ও চেষ্টা করছে আমাদের সাথে বসতে। আমরা কোন লুইচ্চার সাথে বসতে রাজি না।




