নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার লাদুরচর এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে এ হামলা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকালে আহত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. ফারুক বাদী হয়ে ১১ জনকে আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ফারুক ও মো. সাগর লাধুরচর এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে প্রচারপত্র বিলি করেন। শেষে শুক্রবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় স্থানীয় চৌরাপাড়া কাঠের ব্রিজ এলাকায় আগে থেকে প্রস্তুত থাকা নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল্লাহ সরকারে নেতৃত্বে মো. সাব্বির হোসেন, মো. নয়ন, সাইফুল ইসলাম, রাকিব হোসেন, আকতার হোসেন, মো. বাচ্চু মিয়া, আতাউর রহমান, ফিরোজ মিয়া, মো. বাবুল মিয়া ও মোক্তার হোসেন দেশীয় অস্ত্র (রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক ও লোহার রড) নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. ফারুক ও মো. সাগর আহত হয়। আহতদের উদ্ধারের পর সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
সেখানে সাগরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত ফারুকের দাবি, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চৌরাপাড়া এলাকায় মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল্লাহ সরকার জানান, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় থাকেন না। বর্তমানে তিনি অসুস্থ জীবন যাপন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি এলাকায় যান না। তবে এলাকার দুই ছেলের সঙ্গে তাদের (স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা) মারামারি হয়েছে। সেখানে আমাদের নাম জড়িয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




