ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন দক্ষিন মাসদাইর এলাকার হাজী আবুল কালামের ছেলে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী উত্তর নরসিংপুর এলাকার স্বপন মোল্লা হত্যা মামলাসহ প্রায় ১২ মামলার আসামী সাব্বির হোসেন দিপুকে গ্রেফতার করেছে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ। রবিবার ২৯ জুন দুপুর ১টা ৫ মিনিটে রামপাল কলেজের সামনে থেকে দিপুকে আটক করা হয়। এ সময় দিপুর কাছ থেকে একটি রিভলবার,২ রাউন্ড গুলি,তিন রাউন্ড খোসা ও ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা। এ সময় তার সাথে থাকা একপি প্রাইভেটকার আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে জানা যায় যে, রামপাল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে রাস্তার উপর জানযটের দেখা দেয়। এ সময় দিপুসহ আরও দুইজন একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার যোগে ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিল। পেছন থেকে আসা একটি হোন্ডা দিপুর প্রাইভেটকারটি ধাক্কা দিলে দিপু গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদেরকে উদ্দ্যেশ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে কে শিক্ষাথীসহ সবাই এদিক ওদিন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। এ সময় হাতিমাড়া পুলিশ তদন্ত কেদ্রের পুলিশ এসে দিপুকে গাড়ি থেকে নামতে বললে সে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এক সময় পুলিশকে লক্ষ্য করেও নাকি গুলি ছোড়ে দিপু। পরে পুলিশ সদস্যরা ঝুকি নিয়ে দিপুকে আটক করতে পারলেও তার সাথে থাকা দুই সহযোগি পালিয়ে যায়।
এদিকে গত ১৪ জুন এনায়েতনগরের নরসিংপুর এলাকায় মাদকের হিসাব নিয়ে স্বপন মোল্লা নামে একজনকে বাসা থেকে ডেকে এনে সহযোগিদেরকে নিয়ে হত্যা করে দিপু। এ ঘটনায় স্বপনের স্ত্রী রোকসানা আক্তার ফতুল্লা মডেল থানায় দিপুসহ ১০জন নামীয় এবং ৩/৪জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। স্বপন হত্যাকান্ডের পর মাদক সম্রাট দিপু তার সহযোগিদের নিয়ে বীরদর্পে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্নস্থানে তার ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি নিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং ফতুল্লার বিভিন্নস্থানে মাদক সাপ্লাই করেন।
স্বপন হত্যা ছাড়াও দিপুর বিরুদ্ধে মাসদাইর ছোট কবরস্থান এলাকায় আরো একটি হত্যা মামলা রয়েছে। যদিও সেই হত্যাকান্ডের বিষয় মাত্র ৩লক্ষ টাকা বিনিময়ে নাকি সুরাহা করেছেন এমনটাই বলেন স্থানীয়রা। এছাড়া মাদক সংক্রান্ত বিষয়েও দিপুর বিরুদ্ধে প্রায় ১০টির অধিক মামলা রয়েছে।
শহর ও শহরতলীর একজন শীর্ষ মাদক সম্রাট হলেও সে কখনও পুলিশের হাতে ধরা পড়েনি। স্থানীয়রা জানান,গত প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে দিপুর বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল আটক হলেও তা কখনও মিডিয়াতে আসেনি। তারা আরও জানান,প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মবাবুদেরকে ম্যানেজ করেই হাজী আবুল কালামের ছেলে সাব্বির হোসেন দিপু দীর্ঘদিন যাবত মাসদাইর গুদারাঘাট,ঘোষেরবাগ,নরসিংপুরসহ বিভিন্নস্থানে দিব্ব্যি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার সহযোগি হিসেবে ঘোষেরবাগ এলাকার জাহিদসহ প্রায় অর্ধশতাধিক সঙ্গী রয়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানান,দিপু এতটাই দূর্ধর্ষ ছিলো যে,ওর মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে কোন পুলিশ কিংবা সংবাদকর্মীদেরকে যারাই তথ্য প্রদান করতো তাদেরকেই হত্যাকান্ডের শিকার হতে হতো। যেমনটা হয়েছিলো মাসদাইর ছোট কবরস্থান এলাকার সেই ছেলেটি। তবে দিপুর এতটা দূর্ধর্ষ হয়ে দাড়াবার পিছেনে রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় অর্থলোভী সদস্যদের সাথে সুসর্ম্পক।




