সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের বিভিন্ন জায়গায় দলের নাম করে চাঁদাবাজি, দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী। এর মধ্যে ‘হাইব্রিড’ ও ‘নব্য বিএনপির’ নামধারীরাই বেশি বেপরোয়া। এমনকি তারা তৃণমূল বিএনপিতে কোন্দল ও গ্রুপিংয়েও সম্পৃক্ত। নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে মুনলাইট পূর্ব এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতীলীগের অফিস দখল করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তোলার প্রধান হোতা আওয়ামী লীগ ডেভিল পুলিশ কনস্টেবল মফিজ হত্যা ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের ক্যাশিয়ার নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল নেতা ও সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান মৃর্ধা ওরফে কাইল্ল্যা আকতার কে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র। ইতোমধ্যে বিতর্কিত কাইল্ল্যা আকতারের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা নিয়ে পত্র পত্রিকায় একাধিকবার শিরোনাম রচিত হয়েছে। সম্প্রতি নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের মুড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন আদমজী নতুন বাজারের এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে হুমকি ধামকি প্রধান করে কাইল্ল্যা আকতার বাহিনী। এছাড়াও এ বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদকসহ বেপরোয়া চাঁদাবাজিরও অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। মূলত ৫ আগস্টের পর ডিপো দখল ও আওয়ামী লীগ নেতাদের অফিস ব্যবসা বাণিজ্য দখলে নিয়ে চাঁদাবাজি সহ দখল বাণিজ্যে মেতে উঠে কতিপয় নামধারী বিএনপি নেতাকর্মীরা। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের জন্য অনুসন্ধান চালাচ্ছে বিএনপি। তালিকা ধরে চলবে শুদ্ধি অভিযান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। নাসিক ৬নং ওয়ার্ডবাসী জানায়, গত ০৫ আগস্টের পর কিশোর গ্যাং লিডার পানি আকতার দেশ ছেড়ে পালালে নিষ্ক্রিয় হয়ে পরে পানি আকতার বাহিনী। স্বস্তি ফিরে ৬নং ওয়ার্ড বাসীর জনজীবনে। কিন্তু সে স্বস্তির মধ্যে বর্তমানে অস্বস্তি তৈরি করেছে কাইল্ল্যা আকতার বাহিনী। বিএনপি নেতা পরিচয়ে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে বহিরাগত আক্তারুজ্জামান মৃধা বাহিনীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এলাকাবাসী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের অনুসারী পরিচয় দেয়া আক্তারুজ্জামান মৃর্ধা ও হানিফ বেপারী দুজনেই ৬নং ওয়ার্ডে বহিরাগত। আকতার মৃধা রূপগঞ্জের বরপা এলাকার ও হানিফ বেপারী নাসিক ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।আকতারুজ্জামান মৃধা প্রয়াত শ্রমিক লীগ নেতা রেহান উদ্দিনের অস্ত্র ভান্ডারের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন এবং শ্রমিকলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিরাজ মন্ডলের সাথে নানান ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িয়ে পড়েন আক্তারুজ্জামান মৃধা।
গত ০৫ আগস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে ৬নং ওয়ার্ডে তাঁতীলীগের অফিস দখলে নিয়ে আকতার ও হানিফ বেপারী মাদক ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। এ সিন্ডিকেট মাদক সম্রাট নাহিদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দোকান পাট দখল করাসহ নানান অপরাধ কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে ৬নং ওয়ার্ডে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে আদমজীর মুড়ি ফ্যাক্টরি সংলগ্ন একটি বাড়িতে বাহিনী নিয়ে চাঁদার দাবিতে হুমকি ধামকি প্রদান করে কাইল্ল্যা আকতার বাহিনী। হুমকি দেয়া হয় থানা পুলিশ কে জানালে লাশ গুম করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়ার। তাঁতীলীগের অফিসে বসে হানিফ, মনির, সুমন, সোহেল, পারভেজ ও কিশোরগ্যাং লিডার নাহিদ বাহিনী নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছেন আকতার। প্রতি শুক্রবার নাগিনা জোহা সড়কের পাশে ভাসমান দোকান থেকে হাজার হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে কাইল্ল্যা আকতার বাহিনীর বিরুদ্ধে।কিশোরদের দিয়ে মাদক ব্যবসা করিয়ে ৬ নং ওয়ার্ডকে আক্তারুজ্জামান মৃধা মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এছাড়াও ইপিজেডের বৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হলে চাঁদার দাবিতে নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছেন ভিজিটিং কার্ড পাঠিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। ৬নং ওয়ার্ডের জনগণ আকতার মৃধার মতো সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে চায়। এর আগেও সন্ত্রাসী আক্তারুজ্জামান মৃধাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি হলেও প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থায়ই পারে এই সন্ত্রাসীর হাত থেকে মুক্তি দিতে।এছাড়া ৬ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে বড় অংকের টাকা চাঁদা নিচ্ছে এই সন্ত্রাসী আকতারুজ্জামান। সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের কাছে এলাকাবাসীর দাবি ৬নং ওয়ার্ডে বহিরাগত সন্ত্রাসী আকতারুজ্জামান মৃধা, হানিফ বেপারী সহ সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ৬নং ওয়ার্ড কে মানুষের বসবাসের যোগ্য করে তোলার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপিতে এখন ‘হাইব্রিড’দের অনেক দাপট। দলের দুর্দিনে যারা আওয়ামী লীগের সাথে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, তাল মিলিয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে, তারাই এখন বিএনপির হর্তাকর্তা। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে নব্য বিএনপি নামধারী অনেকে। যারা কখনোই বিএনপিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না। অথচ তারাই এখন দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। এমনকি যুবদলের বিভিন্ন কমিটিতেও তাদের অনেককে রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে ত্যাগী এবং দুঃসময়ের নেতাকর্মীরা বিব্রত এবং অনেক স্থানে কোণঠাসা। আকতার মৃধা ৬নং ওয়ার্ডে বহিরাগত এবং আওয়ামীলীগের সাথে থেকে ১৭ বছর সুবিধা নিয়েছেন এখনও তাঁদের সাথেই রয়েছেন। এখন চাঁদাবাজি ও মাদকের সাথেও জড়িয়ে পড়েছেন। এদের মতো বিতর্কিত নেতাকর্মীদের ব্যবস্থা না নিলে দলকে অনেক খেসারত দিতে হবে।




