বন্দর প্রতিনিধি : সরকারি জমি দখল করে ঈদগাহ নির্মাণের কথা বলে সেখানে গোডাউন তুলে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ২৬নং ওয়ার্ডের ঢাকেশ্বরী ইলিয়াস মেম্বারের গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুধু গোডাউন তুলে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঈদগাহ নির্মাণের জন্য রেলওয়ের জমিটি দখল করেছেন। ঈদগাহের জন্য বালু ভরাট করা ওই জমি অন্য এক ব্যক্তির কাছে পজিশন বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, জৈনক জাহাঙ্গীর হোসেন রেলওয়ের থেকে জমিটি লিজ নেন। গত ৫ বছর পূর্বে শামসুজ্জোহা ওই জমিটি দখলে নেন। এরপর ঈদগ্রাহ নির্মাণের জন্য তিনি এলাকাবাসীদের মধ্য থেকে কারো কাছ থেকে ১০ হাজার কারো কাছে ২০হাজার ৫০হাজার করে টাকা নিয়ে জমিটি বালু ফেলে ভরাট করেন। সে সময় এলাকাবাসী ঈদগাহ হবে এই খবরে সবাই উৎসাহিত হয়ে টাকা দিয়েছিল।
বালু ভরাটের ৫ বছর অতিবাহিত হলেও সেখানে ঈদগাহ নির্মাণ করা হয়নি। বরং বর্তমানে সেখানে তিনি ব্যাক্তিগত গোডাউন নির্মাণ করে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অন্যদিকে জমির একটি অংশ ইটালি প্রবাসী মাসুমের কাছে পজিশন বিজি করে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শামসুজ্জোহা। তবে এ নিয়ে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
শুধু জমি দখলই নয় শামসুজ্জোহা কাউন্সিলর থাকাকালীন সময় তার বিরুদ্ধে টিসিবি পন্য চুরি করে বিক্রি অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর সোনিয়া সাউদ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর সহ শ্রীলতাহানী করেন শামসুজ্জোহা। এ ঘটনায় সিটি কর্পোরেশন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কাউন্সিলর শামসুজ্জোহাকে সাময়িতক ভরে অব্যাহতি প্রদান করেছিলেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় সানিয়া সাউদ বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন।
সম্প্রতি শামসুজ্জোহার বিরুদ্ধে মনারবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশে বনবিভাগের গাছ কর্তন করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সময় স্থানীয় ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে অবগত করলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেন।
এবিষয়ে ২৬নং ওয়ার্ডের স্থানীয় সাবেক এক যুবদল নেতা জানান, ঈদগাহ জন্য স্থানীয় হাজী জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে জায়গাটি নয়ো হয়েছে। সেই জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েন এবং সরকারি ভাবেও টাকা নিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৫ বছর ধরে সে ঈদগাহ জায়গা নিজেই দখল করে গোডাউন করেছে এবং ভাড়া দিয়ে রেখেছে। তাছাড় এক ব্যাক্তির কাছে কিছু জায়গাও পজিশনে বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি এলাকায় ডাকাত লালন পালন করে, তার রয়েছে বিশাল একটি সিন্ডিকেট। এমনকি আমাদের জমি-জমা মাপতে গেলেও মোটা অংকের টাকা দিতে হয় তাকে।
এ ব্যাপারে জানতে সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।




