নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচনী প্রচারণা। ২০২৫-২৬ সালের কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির নির্বাচনে অংশ নেওয়া তিনটি প্যানেলেই তোড়জোড়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে।
আগামী ২৮ আগষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ১৭ টি পদের জন্য ৩টি প্যানেলের ৪৮ জন ও স্বতন্ত্র ১জন সহ মোট ৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সকাল ৯ থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে।২৮ আগষ্টকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই তিনটি প্যানেলের ভোটাদের কাছে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা সম্পূর্ণ করেছেন।আবার কেউ কেউ প্রতিপক্ষকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।
২০২৫-২৬ সালের নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির দুইটি প্যানেল দাঁড়িয়েছে।তারমধ্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির মনোনীত হুমায়ন-আনোয়ার প্যানেল ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের মনোনীত রেজা-গালিব প্যানেল। ইতিমধ্যে রেজা গালিব প্যানেলের সহ-সভাপতি পদ প্রার্থী এড. আনিছুর রহমান মোল্লা ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদ প্রার্থী এড.শাহ আলম শামীম দলের নির্দেশে হুমায়ন-আনোয়ার প্যানেলকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এনিয়ে চলছে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্তার আলোচনা ও সমালোচনা। ভোটারদের কারো মতে বিএনপি সমর্থিত হয়ে বিএনপি মনোনীত প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করাটা উচিত হয়নি রেজা-গালিব প্যানেলের। তাই সময় থাকতে আনিছ ও শামীম দলকে ভালোবেসে এবং দলের সম্মান রক্ষায় নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে সঠিক কাজ করেছে। অন্যদিকে অনেক ভোটার মনে করছে রেজা-গালিব প্যানেলকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এই কাজটি করছে তারা। বিএনপির বিদ্রোহী দল হিসেবে যখন আরেকটি প্যানেল ঘোষনা করা হয় তখন তারা ভবিষ্যৎ দল থেকে চাপ আসবে এই বিষয় জেনে শুনেই অংশগ্রহণ করে। তাহলে নির্বাচনের শেষ পর্যায় এসে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোটাকে বেইমানি হিসেবে অনেকেই মনে করছে। এছাড়াও কেউ কেউ দাবী করছে দলের প্রেশার অথবা কোন প্রলোভন আর নয়তো পরিকল্পিতভাবে রেজা-গালিব প্যানেলকে চাপ প্রয়োগ করতেই তাদের এই সরে যাওয়া।
অন্যদিকে বিএনপির দুই প্যানেলের রেষারেষিতে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়াস কাউন্সিল মনোনীত হাফিজ-মাঈন সবুজ প্যানেল নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে গিয়েছে। তবে আগামী ২৮ আগষ্ট ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ হবে কে কে বা কোন প্যানেল যোগ্য এবং বিজয়ী।
এদিকে ফ্যাসিস আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোন প্যানেল না থাকায় অনেকটা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন আইনজীবিরা এনিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে অনেক আইনজীবি।বিগত সময়গুলোতে জোর করে ভোট প্রয়োগ এবং ভয় ভীতির কারনে অনেক আইনজীবিই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতো।একই সাথে নির্বাচনের দিন আইনজীবিদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলেও এবার তা থেকে নিস্তার পেয়ে অনেকটা উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে মনে করছে আইনজীবিরা।
বস্তুনিষ্ঠ, গণতান্ত্রিক ও আধুনিক আইনজীবি সমিতি গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সমর্থিত ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার মনোনীত হুমায়ন-আনোয়ার প্যানেল দাঁড়িয়েছে। এই প্যানেলে এড. সরকার হুমায়ুন কবির ও এড. এইচএম আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এড. কাজী আঃ গাফফার, সহ-সভাপতি পদে এড. সাদ্দাম হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এড.ওমর ফারুক নয়ন, কোষাধ্যক্ষ পদে এড. শাহাজাদা দেওয়ান, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে এড. মাইন উদ্দিন রেজা, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে এড. হাবিবুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এড. আমিনুল ইসলাম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এড. সারোয়ার জাহান, সমাজসেবা সম্পাদক পদে এড. রাজিব মন্ডল, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে এড. মামুন মাহমুদ, সদস্য পদে এড. আনিসুর রহমান, এড. ফাতেমা আক্তার সুইটি, এড. তেহসিন হাসান দিপু, এড. দেওয়ান আশরাফুল ইসলাম ও এড. আবু রায়হান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী দল সাধারণ আইনজীবিদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ ও দূর্নীতিমুক্ত আধুনিক বার গঠনের প্রত্যয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের মনোনীত রেজা-গালিব প্যানেলের। এই প্যানেলে সভাপতি পদে এড. রেজাউল করিম খান রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এড. শেখ মো. গোলাম মোর্শেদ গালিব নেতৃত্বে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে এড. সামসুজ্জামান খোকা, সহ-সভাপতি পদে এড.আনিছুর রহমান মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এড. মো. কামরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ এড. মো. আব্দুল মোমেন, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে এড. শাহ আলম শামীম, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে এড. আলী আজম, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এড. মো. আফজাল হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতি পদে এড. নার্গিস পারভীন, সমাজসেবা সম্পাদক পদে এড. শেখ মোহাম্মদ গোলাম রসূল রসরু, আইন ও মানবাধিকার পদে এড. মো. হাবিবুর রহমান মাসুম, সদস্য পদে এড. আব্দুল রউফ ও এড. আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
দূর্নীতিমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক বার ও বিচারালয়ের প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ল’ইয়াস কাউন্সিল মনোনীত হাফিজ-মাঈন সবুজ প্যানেল দাঁড়িয়েছে। এই প্যানেলে সভাপতি পদে এড. এ. হাফিজ মোল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক পদে এড. মোহা. মাঈন উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর দেওয়ান, সহ-সভাপতি পদে এড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এড. আল আমিন, কোষাধ্যক্ষ পদে এড. ইস্রাফিল, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে এড. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে এড. মোহাম্মদ গোলাম। সারোয়ার, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এড. ইমরান হোসেন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এড. মো. মজিবুর রহমান, সমাজসেবা সম্পাদক পদে এড. নূরে আলম, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে এড. মাসুদুর রহমান, সদস্য পদে এড. গোলাম মোস্তফা, এড. আফরোজা জাহান, এড. রাকিবুল হাসান, এড. সাইফুল ইসলাম ও এড. তাওফিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।




