স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ড এলাকায় জাতীয় পার্টি নেতা জাহাঙ্গীর বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে ওএমএস এর ডিলার নিয়োগ বাগিয়ে নিয়ে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে সেই ডিলারশীপ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একে তো তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টির পার্টি নেতা। সেই সাথে তার ভাই ২৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহার সাথে মিলে তার বিরুদ্ধে টিসিবির পন্য আত্মসাতের অভিযোগের রয়েছে। জনগণের জন্য দেওয়া সরকারি এই টিসিবির পন্য বাইরে বিক্রির প্রতিবাদ করায় স্থাানীয় নারী কাউন্সিলরকে মারধর সহ শ্লীলতাহানীর ঘটনাও ঘটিয়েছে জাহাঙ্গীর। ঘটনাটি গড়িয়েছে থানা পুলিশ এবং বিভাগীয় তদন্ত কমিটিতেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার ভাই সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জোহাকে কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তও করে রাখা হয়েছিল। এমন একটি ব্যক্তির ওএমএস এর ডিলারশীপ নিয়োগ পেতে আবেদন বৈধতা পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে।
পাশাপাশি নিজ নামে ওএসএম এর ডিলারশীপ নিয়োগ পেয়ে তিনি মাকসুদ হোসেন নামের একজন বিশেষ পেশার ব্যক্তিকের ডিলারশীপ পরিচালনা করছেন বলেন নিজেই স্বীকার করেছেন। ফ্যাসিস্ট দোসর জাহাঙ্গীর এর ওএমএস ডিলারশীপ পাওয়া নিয়ে খোঁজ করলে এমন চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
এসব অনিয়মের ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, জাহাঙ্গীর হোসেন জাতীয় পার্টির নেতা কিনা তারা জানেন না। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে টিসিবির পন্য আত্মসাতের যে অভিযোগ ছিল সেটি নিয়োগের পূর্বে তারা পাননি।
এ ব্যাপারে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আর নিজ নামে ডিলারশীপ নিয়ে অন্যকে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়মবর্হিভুত বলে উল্লেখ করেন তারা।
টিসিবির পন্য আত্মসাতের ঘটনায় থানায় অভিযুক্তের কথা শিকার করে ওএমএস ডিলার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার ভাই শামসুজ্জোহার সাথে আমাকেও অভিযুক্ত করেছে তবে আমি ঘটনার দিন এলাকায় ছিলাম না। ষড়যন্ত্র করে আমার নাম দিয়েছে। ওএমএস এর ডিলার নিয়োগ পাওয়ার পর অন্য লোক দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমার ব্যবসা আমি পরিচালনা করছি, কাগজপত্রের বিষয়ে আমি একটু কম বুঝি তো এজন্য মাকসুদ সাহেব কাগজপত্র পরিচালনা করছে।
ওএমএস এর ডিলারশীপ নিয়োগ প্রক্রিয়ার শর্ত হিসেবে নিজের ডিলারশীপ অন্যকে হস্তান্তর করা অবৈধ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমি কাগজপত্র হস্তান্তর করিনি। আমার কাগজপত্র দিয়ে মাকসুদ পরিচালনা করছে সে আমার ডিলারশীপের পার্টনার। আর এই বিষয়ে খাদ্য অফিসার জুয়েল সাহেব সব ভাল বলতে পারবেন আপনি তার সাথে কথা বলেন।
তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের পরিদর্শক আমিনুর রহমান জুয়েল জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। ওএমএস ডিলার নিয়োগের ব্যাপারে আলাদা নিয়োগ কমিটি রয়েছে উনারা বিস্তারিত বলতে পারবেন।
সেই সাথে নিজ নামে লাইসেন্স নিয়ে অন্যকে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন ভাবে ওএমএস ডিলারশীপ চালানোর নিয়ম নেই। যদি এভাবে চালাতে হয় তাহলে অবশ্যই সেটি খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ে লিখিত আকারে জানাতে হবে। কিন্তু তিনি সেটি করেননি।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল জানান, যখন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তখন আমরা তদন্ত করে এসব অভিযোগ আমাদের সামনে আসেনি। কেউ অভিযোগও করেনি। যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সহকারে অভিযোগ গুলো থাকলে আমরা সেটা জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থাাপন করবো উনি ব্যবস্থাা নিবেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ বন্দরে টিসিবির পন্য চুরির বিরুদ্ধে অবস্থাান নেয়ায় নারী কাউন্সিলর সানিয়া সাউদকে প্রকাশ্য মারধর করার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় নির্যাতিত সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সানিয়া সাউদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার ( ৫ মার্চ) রাতে কাউন্সিলর সামছুজ্জোহা ও তার ভাই জাহাঙ্গীরসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন তিনি । এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বন্দর থানার ২৬ নং ওয়ার্ডের ঢাকেশ্বরী বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।
নির্যাতিত মহিলা কাউন্সিলার সানিয়া সাউদ বন্দর থানার দক্ষিণ লক্ষনখোলা এলাকার আনিসুর রহমান টিটু মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা বন্দর থানার রামনগর এলাকার মৃত সিদ্দিক মাস্টারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্দর থানার ঢাকেশ্বরী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৯ পরিবারের জন্য টিসিবি আসে। পরে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সানিয়া সাউদ খবর পেয়ে বিতরণ স্থালে আসে।
পরে সে টিসিবি মালামাল বুঝে নেওয়ার সময় ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা ও তার ভাই জাহাঙ্গীর একই এলাকার অটো রিপন সহ অজ্ঞাতনামা ১০-/১৫ জন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এক পর্যায়ে বাধা প্রদান করে।
এই ঘটনায় সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার এর প্রতিবাদ করলে ওই সময় কাউন্সিলর শামসুজ্জোহাসহ উল্লেখিতরা প্রকাশ্যে মহিলা কাউন্সিলর কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ সহ চড় থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ওই সময় তার সচিব নাঈম তাদেরকে বাধা প্রদান করলে উল্লেখিতরা তাকেও বেদম ভাবে পিটিয়ে নীলা ফুলা জখম করে।
এ ব্যাপারে সানিয়া সাউদ সাংবাদিকদের জানিয়ে ছিলেন, আমাকে জনগন ভোট দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণের মাল আত্মসাৎ করার জন্য ভোট দেয়নি। টিসিবির পন্য বিতরণে প্রতিবারই সামছুজ্জোহা ডিলারের সাথে যোগসাজশে জনগণের হক আত্মসাৎ করে। সে কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বে ঘটনাস্থালে গিয়ে দেখি চাল, ডাল, তেল ও ছোলা অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে।
১ হাজার ৯ শত কার্ডধারী লোককে এগুলো দেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশই সরিয়ে রেখেছে।
এতে প্রতিবাদ করতে গেলেই সামছুজ্জোহা দুই দফা হাত তুলেন মহিলা কাউন্সিলর সানিয়া সাউদের উপর। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ৬/৮ টি চর থাপ্পড় দিয়েছে বলেও জানান।




