বন্দর প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বন্দর থানার উদ্যোগে জশনে জুলুস ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ঐতিহ্যবাহী মদনগঞ্জ বটতলা থেকে বিশাল জশনে জুলুস মিছিল বের হয়ে নবীগঞ্জ বাগে জান্নাত কবরস্থান সংলগ্ন মাঠে সমাবেশে পরিণত হয়।
জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন আওলাদে রাসূল, পীরে কামেল আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল-আবেদী (মা:জি:আ:), চেয়ারম্যান ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, সাজ্জাদানশীন ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড আবুল কালাম। সভাপতিত্ব করেন নাসিক’র সাবেক ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা।
সমাবেশে বক্তব্যে আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী বলেন, “মানবতার মুক্তির জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আল্লাহতায়ালা রাহমাতাল্লিল আলামিন হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে শান্তি ও মানবতার ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজ আমাদের জন্য একমাত্র মুক্তির পথ হলো তাঁর আদর্শ অনুকরণ ও অনুসরণ।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আজ আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মহান আদর্শ থেকে দূরে সরে গিয়ে দুনিয়ার মোহে নিমজ্জিত হচ্ছি। দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, দুর্নীতি বেড়ে গেছে। এমনকি ইসলামের নাম ব্যবহার করে উগ্রবাদীরা মাজার ভাঙচুর, লুটপাট চালাচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করছে। এরা নবী বিদ্বেষী ও মিলাদুন্নবী বিদ্বেষী।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলাম শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেয়। উগ্রবাদের কোনো স্থান ইসলামে নেই। আওলিয়ায়ে কেরামগণ এই দেশে শান্তি ও মানবতার ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু উগ্রপন্থীরা বারবার দেশকে অস্থিতিশীল করছে। তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে।”
এ সময় বক্তারা বলেন, “দেশকে উগ্রবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হবে।”
জশনে জুলুসে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় স্লোগানে বন্দর এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।




