নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “প্রত্যেকটি প্রান আমাদের কাছে মূল্যবান। আমরা প্রতিটি প্রাণকে বাঁচাতে চাই।আমরা রাস্তায় কোন রক্ত দেখতে চাই না।রাস্তায় আহত হয়ে কেউ তার পরিবারের ও সমাজের বুঝা হয়ে থাকুক তা দেখতে চাই না।”
৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমীর থিয়েটার হলে পেশাদার গাড়িচালক, হেলপারদের বিশেষ প্রশিক্ষণ পরবর্তী ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্র প্রদান অনুষ্ঠানে ডিসি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ।রাস্তায় ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী এবং ট্রাফিক আইন মেনে নিরাপদে গাড়ী চালানোর আহ্বান করেন তিনি।
এসময় সরকারি গাড়ি চালক ২৮ জন সহ বেসরকারি পরিবহনের ৪৬ জন চালক ও ২১ জন হেল্পারকে পরিচয়পত্র ও পোশাক প্রদান করা হয়। এবং নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ পরিবারের মাঝে চেক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমাদের সমাজে এত বড় পরিবহন সেক্টর যারা ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাইনা তারা অবহেলিত থাকুক এবং তাদেরকে কেউ ছোট করুক। আজকে যারা জাহাজ চালাচ্ছে, প্লেন চালাচ্ছে তাদের মর্যাদা কি আর আমাদের ড্রাইভার ভাইদের কেন আপনারা মর্যাদা দিবেন না। আজকের উন্নত দেশগুলোতে আমাদের ড্রাইভারদের যে চাহিদা রয়েছে আমরা নিজেদেরকে সেভাবে গড়তে পারছি? পৃথিবীর পরিবর্তন হচ্ছে তার সাথে আমাদের কাছে যে উন্নত গাড়ীগুলো আসছে নতুন গাড়ি গুলোতে যে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার হচ্ছে সেগুলোর সাথে আমাদের পরিচিত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যে উন্নত রাষ্ট্র দেখি এবং উন্নত রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন দেখে, আমরা যে উন্নত সমাজ করতে চাই তা কি করতে পারি? এই যে এত বড় একটা সেক্টরকে অবহেলায় রেখে তাদের যদি সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারি তাহলে সমাজ ব্যবস্থাকে উন্নত রাষ্ট্রে নিয়ে আসতে পারবো না।আমাদের ড্রাইভার ভাইয়ের জীবনের যে মূল্য, হেলপার ভাইয়ের জীবনের যে মূল্য, যাত্রীদেরও একই জীবনের মূল্য।আমরা চাই না কারো জীবন রাস্তায় অকাতরে শেষ না হোক।আমাদের সেইজন্যই এই উদ্যোগ।
ডিসি গাড়ী চালকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই পোশাক ও প্রশিক্ষণ আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস দিবে এবং এই পোশাক আত্মমর্যাদার জায়গায় নিয়ে যাবে।তাহলেই আমরা আত্মবিশ্বাসে মনে করতে পারতো রাস্তাটাকে আমরা নিরাপদে রাখবো পারবো এবং যাত্রীদের সুবিধা দিতে পারবো।আমরা যারা পোশাক পড়লাম তাদেরকে আচারণে, কথাবার্তায় আমাদের সেই মর্যাদা রাখতে হবে। আমরা যদি সেই মর্যাদা রাখতে পারি তাহলে আমাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হবে।আমার মালিক ভাইদের বলবো ড্রাইভার ভাইদের যন্ত্র ভাববেন না। অতিরিক্ত কাজ করাবেন না।প্রত্যেকটা মানুষের কাজ করার একটা ক্ষমতা আছে। আমরা যদি সচেতন সমাজ ব্যবস্থা গড়তে চাই তাহলে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিলুফা ইয়াসমিন এবং সিনিয় র সহকারী কমিশনার উম্মে হাবিবা ফারজানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ-এর উপ সচিব মো. হেমায়েত উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন (সার্বিক) আলমগীর হোসাইন, বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সিনিয়র সহ সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়তে ইসলামী মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ, আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, গণ সংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, ইসলামী আন্দোলন মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, খেলাফত মজলিস মহানগরের সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, গণঅধিকার পরিষদ জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন জেলার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম হিমেল, বাস-মিনিবাস কেন্দ্রীয় মালিক সমিতির সভাপতি মো. রওশন আলী সরকার, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সেলিম হোসেন, বাস-মিনিবাস ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।




