নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকদল এর কমিটি এখন কৃষকলীগ কমিটির পরিনত হচ্ছে দিন, দিন। কমিটি বানিজ্য, আওয়ামিলীগ দোসরদের কমিটির মধ্যে আনা তাদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায় রূপগঞ্জের গাজীর এর অবৈধ ইনকাম এর ক্যাশিয়ার ছিলো আলম মিয়া। জমি দখল, চাঁদাবাজি এমন কিছু বাদ নেই যে আলম মিয়া করেনেই।
তৃনমুল নেতাকর্মীরা জানান, বৈষম্য ছাত্র হত্যাকারী আসামী সাবেক মন্ত্রীর ক্যাশিয়ার কিভাবে নতুন করে কৃষকদলের কমিটি সদস্য সচিব গুরুত্বপূর্ণ পদে আসে এই চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করার আহবান জানান মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, বিগত দিনে ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হয়। সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জ এক রনক্ষেত্রে পরিনত হয়েছিল। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমেছিল নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে। কিন্তুু সেদিন এই সাধারণ মানুষের উপর হায়নার মত ঝাপিয়ে পড়েছিল আওয়ামী দোষররা। প্রকাশ্যে গুলি চালিয়েছিলো সাধারন মানুষের উপর। এই মুহূর্তে বর্তমান সরকারের কাছে দেশবাসীর একমাত্র চাওয়া জুলাই বিপ্লবে যেই সব ফ্যাসিস্ট সাধারণ জনতার উপর অত্যাচার নির্যাতন করছে তাদের দ্রুত সময়ের মাঝে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
কেন্দ্রের মোটা অংকের টাকা খেয়ে আওয়ামিলীগ দোসরদের কমিটির মধ্যে আনছে আর যারা রাজপথে নিজের জীবনবাজি রেখেছিলো তাদের কে অবমুল্যায়ন করা হচ্ছে। ১৭ বছর যারা বি,এন,পি নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন করেছে তারাই যদি এখন পদ পায় এরথেকে বড় কষ্টের আর কিছু থাকেনা। আর জেলা কমিটি আহবায়ক যদি বলে ব্যাক্তি ও ব্যাবসায়ীক সার্থে আতাত করতে পারে তা হলে বুজা যায় সেও আওয়ামিলীগ এর দোসর ছিলো, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মোঃ আলম মিয়া রূপগঞ্জের ভূমিদস্যু সাবেক এম,পি গাজীর ঘনিষ্ঠ আস্তাবাজন ছিলো, আলম মিয়া গাজীর নাম ব্যাবহার করে অনেক নিরীহ মানুষ এর জমি দখল ও চাঁদাবাজি করেছিলো
আমরা একটা কথাই বলতে চাই আমাদের দেশ নায়ক তারেক রহমান এর কাছে এই অবৈধ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে কমিটি দেওয়া হউক, যারা রাজপথে ছিলো মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে বুক পেতে দিয়েছিলো তাদের কে মুল্যায়ন করা হউক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষকদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে হত্যা মামলার আসামিকে স্থান পাওয়া নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ করছে ক্ষোভ। কমিটিতে জায়গা পাওয়া ওই আসামির নাম হচ্ছে হাজী দেওয়ান মাহমুদ। যাকে জেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে।
জানা যায়, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তার মত হত্যা মামলার একজন আসামি কি করে জেলা কৃষকদলের গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করলেন তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
গত ২৫ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডা. মো. শাহীন মিয়াকে আহবায়ক, মো. আলম মিয়াকে সদস্য সচিব এবং হাজী দেওয়ান মাহমুদকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করে ৭৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটির অনুমোদন দেয়।
মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মাবরুর হোসাইন হত্যার ঘটনায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। যে মামলায় ২৫ নম্বর আসামি হচ্ছেন হাজী দেওয়ান মাহমুদ। এছাড়া ওই মামলায় সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ফতুল্লা যুবলীগ নেতা মীর সোহেল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির নাম রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজী দেওয়ান মাহমুদ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর সময়কালে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কিন্তু বিগত ১৬ বছর আওয়ামী সরকারের শাসনামলে এই মোহাম্মদ দেওয়ান বিএনপির কোনো প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন নাই। বরং সে তৎকালীন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর একান্ত লোক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে গাজীর প্রভাব খাটিয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটের পর তিনি নতুন করে কিভাবে কৃষকদলের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, যাচাই বাছাই করে বিতর্কিত এই ব্যক্তিকে বাদ যোগ্য কাউকে স্থান দেওয়া হোক।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষকদল কৃষকদল যুগ্ম আহবায়ক মোঃ শাহ আলম এক সময় জাতীয় পার্টি করতো এখন সে সোনারগাঁ উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক এতে তৃনমুল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
ফতুল্লা থানা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ইব্রাহিম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চোরা প্রাইভেট কার এর ব্যবসা, মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, বিয়ার, চোরা হোন্ডা ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাকে ফতুল্লা থানা কৃষকদলের যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে, একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে কিভাবে কমিটির মধ্যে আনা সেটাই প্রশ্ন তৃনমুল এর।৷
সুত্রঃ টাইমস নারায়ণগঞ্জ.কম:




