বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের জান্নাতুলবাকী কবরস্থান মোহনপুর এলাকায় মাদক ব্যবসার এক চক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আজ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা শ্রেষ্ঠ আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্ল্যাক জনির নিয়ন্ত্রণে চলছে জান্নাতুলবাকী কবরস্থান মোহনপুর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক মাদক বাণিজ্য।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্ল্যাক জনি বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সুচিয়ারবন্দ এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমান উল্লাহ আমুর ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ঊনিশটি মামলা, যার মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলা। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার একাধিক আসামি শিপন মাহমুদ।
অভিযোগ রয়েছে, ব্ল্যাক জনি তার সহযোগী সেবনকারী ও বিক্রিত যুবক-যুবতীদের মাধ্যমে এলাকাজুড়ে মাদক বিক্রির একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। ব্রহ্মপুত্র, ঢলেশ্বরী ও মেঘনা নদীসহ মহাসড়কের বিভিন্ন সংযোগ রাস্তা ব্যবহার করে প্রতিদিন এলাকায় প্রবেশ করছে লাখ লাখ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট। এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পাশাপাশি শেষ বিদায়ের জায়গা কবরস্থানও মাদকের ঘাটি তৈরি করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মোহনপুর এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ১৭ থেকে ২০টি সিসি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে ব্ল্যাক জনি তার মাদক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। কেউ মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়, এমনকি হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, মাদকের ভয়াবহতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ওই এলাকাগুলোতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাথে আইন-শৃঙ্খলারও মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক সম্রাট মতিউর রহমান জনি ওরফে ব্ল্যাক জনি।
তার অন্যতম সহযোগী ও স্ত্রী হাবীবা বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রিপন, ঘারমোড়া এলাকার তুহিন, হাজরাদী এলাকার শুভ ও সেকান্দর, নরপদী এলাকার মাসুদসহ বেশ কয়েকজনকে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, অবৈধ ড্রেজার বালু ব্যবসা ও চোরাই তেলের বাণিজ্য পরিচালনা করছে ব্ল্যাক জনি সিন্ডিকেট।
অভিযোগ রয়েছে, তার বাড়ির পাশেই প্রতিদিনই মাদকসেবীদের আড্ডা ও আসর বসে। এলাকায় এখন মাদকদ্রব্য হাত বাড়ালেই সহজে পাওয়া যায়। ফলে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও উঠতি বয়সের যুব সমাজ দ্রুত মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশিং কার্যক্রম শিথিল থাকার কারণেই মাদক স্পটগুলোতে প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা। প্রশাসনের চোখের সামনে এভাবে অবাধে মাদক ব্যবসা চললেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযান ছাড়া মহনপুরে মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু ব্যবসা ও ব্ল্যাক জনির প্রভাব বন্ধ করা সম্ভব নয়।
তারা বলেন, “আমরা চাই এই এলাকাকে মাদকমুক্ত করা হোক, না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।”
এদিকে, কিছু দিন আগে ব্ল্যাক জনির স্ত্রী হাবীবা একুশে আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সংবাদ সম্মেলন করে বন্দর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমাকে ধরে নিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। আমি ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পরও বাকি ১ লাখ না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ১০ পিস ইয়াবা দিয়ে চালান করা হয়।




