ষ্টাফ রিপোর্টার:
একটা একটা লীগ ধর,ধইরা ধইরা জবাহ,আওয়ামীলীগের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান এরুপ কতইনা শ্লোগানে নগরীর প্রতিটি অলি-গলি প্রকম্পিত করে তুলেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। অথচ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ঠেকাতে প্রশাসনের নির্দেশে যখন পুলিশ কোন আওয়ামী ডেভিলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসছে পথিমধ্যে অনেক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সেই ডেভিলকে ছাড়িয়ে রাখছেন আবার অনেকে থানার মধ্যে গিয়েও ডেভিলদের পক্ষালম্বন করে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনছেন অহরহ।
ঠিক তেমনী ভাবে বুধবার ১২ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় আওয়ামীলীগের এক ডেভিলকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ফতুল্লা থানা যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী ওরফে বডি রতন। আর সেই ডেভিল হচ্ছেন আওয়ামী দোসর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মামলা আসামী ধর্মগঞ্জ এলাকার মো.হাবিবুলের ছেলে মো.সাইফুল ইসলাম পবন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায় যে,বিগত আওয়ামী শাসনামলে মো.সাইফুল ইসলাম পবন আওয়ামী রাজনীতিতে সর্ম্পৃত্ক ছিলেন। ৫ আগষ্টে তার নেতারা পালিয়ে গেলে মোহাম্মদ আলী ওরফে বডি রতনের সাথেই উঠা-বসা শুরু করে এমনকি সার্বক্ষনিকভাবেই সে বডি রতনের আশপাশে থাকে। নিজেকে রক্ষা করতেই কৌশলে সে বডি রতনের পাশে থাকতো। বুধবার বিকেল প্রায় ৩টা পর্যন্ত বডি রতন থানায় অবস্থান করেন পবনকে ছাড়িয়ে আনতে কিন্তু বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জড়িত থাকায় এবং মামলা আসামী হওয়ায় তাকে ছাড়েনি থানা পুলিশ।
আওয়ামী দোসরকে ছাড়িয়ে আনতে দীর্ঘ সময়ে থানায় অবস্থানকারী যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী ওরফে বডি রতনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক যুবদল নেতা বলেন, এটা দলের সাথে বেঈমানী এবং শত্রুকে আপন করে নেয়ার অপকৌশল। তারা বলেন,আপনারা বিগত সময়ে এ পবনগংদের অত্যাচারে এলাকায় ঠিকমত থাকতে পারিনি। অথচ নিজের স্বার্থের জন্য মোহাম্মদ আলী ওরফে বডি রতন ও তার সহযোদ্ধারা একজন চিহিৃত ডেভিলকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে তদ্বির করে এটা খুবই দু:খজনক একটা বিষয়।
এ বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,পবন কি বিএনপির রাজনীতির সাথে সর্ম্পক্ত কিনা তা জানতে হবে। কারন ৫ তারিখের পর অনেক বিএনপি নেতাদের নামেও থ্যিা মামলা দেয়া হয়েছিল। যদি সে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত না থাকে এবং ছাড়িয়ে আনতে থানায় যাওয়া নিন্দনীয় একটা বিষয়। কারন বিগত ১৭ বছরে আমরা আওয়ামীলীগের হাতে নির্যাতিত হয়েছি তাদেরকে পুর্নবাসন করতে নয়। আমরা আন্দোলন করেছি দেশে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য।
ফতুল্লা মডেল থানা অতিরিক্ত অফিসার ইনচার্জ ( ইন্সপেক্টর তদন্ত ) মো.আনোয়ার হোসেন বলেন,আমরা ৪ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছি। তারা সবাই বৈষম্যবিরোধী মামলা আসামী ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে ফতুল্লা থানা যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী ওরফে বডি রতনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
উল্লেখ যে, ১১ নভেম্বর রাতে ফতুল্লা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ ৪ ডেভিলকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফতুল্লার ভুইগড় পুরান বাজার এলাকার মৃত.আলী আকবরের ছেলে মো.নিজাম সাউদ,পিলকুনি এলাকার মো.ইউসুফের ছেলে মো.সানি, ধর্মগঞ্জ এলাকার মো.হাবিবুলের ছেলে মো.সাইফুল ইসলাম পবন এবং একই এলাকার মৃত.বাদশা মিয়ার ছেলে মো.আবু বক্কর সিদ্দিক @ সেন্টু।




