নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইরে নাহেদুর রহমান পারভেজ নামে একজনকে মারধর ও তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একজনকে দেখা গেলেও পুলিশের দাবি, গুলির আলামত পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় মাইসদাইর বাজারের বেগম রোকেয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত পারভেজ স্থানীয় মো. ফিরোজের ছেলে ও নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আহত মো. নাহিদুর রহমান পারভেজ ১৩ নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। একই সাথে তিনি মুদি ব্যবসায়ী।
তার ছোট কনফেকশনারি দোকান ও ইন্টারনেট ব্যবসা রয়েছে। তিনি ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির আড্ডা হিসেবে পরিচিত।
আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে এখানে মাদক বিক্রি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুইট্টা মাসুদ, গিইট্টু রিপন এবং জাহিদ—এ তিনজন মাসদাইর রোকেয়া স্কুলের সামনে নিয়মিত মাদক কারবারি চালাত। দুপুরে তারা লেনদেন করছিল। ঠিক সেই সময় পারভেজ ঘটনাটি দেখে ফেলে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনজন প্রথমে পিস্তল দিয়ে গুলি চালায়। গুলি শরীরে না লাগলেও তারা রামদা দিয়ে তাকে কোপায়।
আহত নাহিদুর রহমান পারভেজ বলেন, মাসদাইর বাজার থেকে আসার পথে বেগম রোকেয়া স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে একজনকে দেখছিলাম। এসময় বুইট্টা মাসুদ বলে তাকিয়ে আছোস কেন? এই কথা বলেই অস্ত্র বের করে গুলি করে দিলো। বলতে থাকে তুই কে? এরপর পেছন থেকে দৌড়ে এসে রিপন সুইস গিয়াস হাতের মধ্যে পোজ দিলো।
আরেকজন জাহিদ এসে লোহা দিয়ে মাথায় বাড়ি দিল। সেই সাথে বুইট্টা মাসুদ আবার গুলি করে। আমি দৌড়ে চলে আসি।
তিনি আরো বলেন, আমি শুনেছি এই গলিতে বুইট্টা মাসুদরা মাদক ব্যবসা করে। এইজন্য তারা মনে করছে আমি তাদেরকে দেখছি। কিন্তু আমি এখানে দাঁড়িয়ে অন্যজনকে দেখছিলাম। আমি এর বিচার চাই।
নাহিদুর রহমান পারভেজের মা মোকারিমা বলেন, তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
পারভেজের বাবা ফিরোজ মাস্টার জানান, গুরুতর আহত ছেলেকে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা দ্রুত ঢামেকে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তার মাথা ও হাতে জখমের চিকিৎসা চলছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার মাঝে চারজন ছুড়ি দিয়ে পারভেজকে আঘাত করছে। যার মধ্যে একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, “গুলি চালানোর কোনো আলামত আমরা পাইনি। আহত পারভেজ গুলিবিদ্ধ হয়নি, একই সাথে প্রত্যক্ষদর্শীরা গুলি চালাতে দেখেনি, এমনকি গুলির শব্দও পায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজে আগ্নেয়াস্ত্রের মতো কিছু একটা দেখা গেছে।”
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) হাসিনুজ্জামান বলেন, আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আসামি জাহিদ আগেও পুলিশের ওপর হামলা মামলার আসামি। ঘটনার সব কিছু যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




