ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শাহ আলম তার প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তির আশার সঞ্চার কতটুকু এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফতুল্লায় বিএনপির রাজনীতির তৃনমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফতুল্লা থানা বিএনপির এক প্রবীন নেতা বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার জেল, জুলুম নির্যাতনে যখন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিষ্পেষিত তখন তিনি তার ব্যবসা রক্ষা আর মামলা থেকে বাঁচার জন্য দলের পদপদবী ত্যাগ করে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গিয়েছিলেন।
৫ আগষ্টের পর এমপি হওয়ার বাসনায় রাজনীতি থেকে রিজেক্ট হওয়া কিছু সিকি নেতাদের সাথে নিয়ে দলীয় মনোনয়নের আশায় মাঠে নেমেছেন।
শাহ আলমের সাথে থাকা এসব রিজেক্ট নেতাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সাংসদ শামীম ওসমান ও তার সহধর্মিণী সালমা ওসমান লিপির আজ্ঞাবহ গোমস্তা এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। বিগত ১৭ বছর আওয়ামীলীগের সাথে চাটুকারী করে এখন সুযোগ বুঝে লেবাস পরিবর্তন করে বিএনপির কাঁধে ভর করলে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ আলম, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বর্তমান রাজনীতি মাঠে তিনি অস্তিত্বহীন। কেন্দ্রের কাছে আমাদের দাবি থাকবে সুযোগ সন্ধানী শাহ আলম না, যারা দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিল তাদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেয়ার।
২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরীর নিকট পরাজিত হয়েছিলেন। পরে নেতা হওয়ার সুপ্ত বাসনায় বিএনপির রাজনীতিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন শাহ আলম। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক পরে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়ে আলোচনায় আসেন।
তারই ধারাবাহিকতায় ফতুল্লা থানা বিএনপির প্রবীন পরীক্ষিত নেতাদের মাইনাস করে আজ্ঞাবহ নেতাদের নিয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি বনে যান শাহ আলম। সাধারন সম্পাদক করেন তার শ্বশুর বাড়ির পরম আত্মীয় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যা এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে। আর এতেই দুই ভাগে বিভক্ত হয় যায় ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতি।
বিএনপির প্রবীন নেতা তৎকালীন ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক খোন্দকার মনিরুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু
শাহ আলমের বিরুদ্ধে আলাদা শক্তিশালী বলয় তৈরী করে পাল্টা কমিটি গঠন করেছিলেন।
সে সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নেতাকর্মীরা সভাপতি হিসেবে শাহ আলমকে গ্রহন করলেও সাধারণ সম্পাদক আজাদ বিশ্বাসকে গ্রহন করতে পারেনি। কারন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সে সময় মনিরুল আলম সেন্টুর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বি, তারপরও আজাদ বিশ্বাসের উপর আস্থা ছিল শাহ আলমের। বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে আজাদ বিশ্বাসের উত্থান।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে বিএনপির সমর্থনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের তিন হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও আজাদ বিশ্বাস বিএনপির প্রথম সারির কোনো নেতা ছিলেন না। আদালত অঙ্গনে বিএনপি প্যানেলের আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক ছিলে, সদ্য আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পরেই উপজেলা নির্বাচন হওয়ায় স্থানীয় বিএনপির প্রথম সারির নেতাদের উপজেলা নির্বাচনে আগ্রহী না হওয়ায় জেলা বিএনপির সমর্থন চলে যায় এড.আজাদ বিশ্বাসের পক্ষে। আওয়ামিলীগ নিজেদের মধ্যে একাধিক প্রার্থী থাকায় কপাল খোলে তার। নির্বাচনে জয়ী হয়ে যান দেশের বৃহত্তম নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
বিএনপির সমর্থনে চেয়াম্যান ও ফতুল্লা থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আজাদ বিশ্বাস তৎকালীন সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমানের গোমস্তা বনে যান।
শামীম ওসমানের সহধর্মিণী জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপির আস্থা ভাজন হিসেবে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন আজাদ বিশ্বাস। সে সময় আওয়ামীলীগের সভা সমাবেশে শামীম ওসমান ও সালমান ওসমান লিপির পাশের চেয়ারে বসে আজাদ বিশ্বাস দক্ষ গোমস্থার মত পালন করতেন আদেশ ও নির্দেশ।
আজাদ বিশ্বাসের বিশ্বস্থতায় শামীম ওসমানের ইচ্ছায় সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত সামন্য মামলার অজুহাতে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের আওয়ামী লীগ প্রীতিতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও প্রকাশ পায়নি শাহ আলমের কারনে। সে সময় দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আজাদ বিশ্বাসের আওয়ামীলীগ প্রীতির সংবাদ প্রকাশ হলেও তিনি তার পদে রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম দলীয় নেতা-কর্মীদের কথা না ভেবে আওয়ামীলীগের মামলা আর নিজ ব্যবসা রক্ষায় জেলা ও বিএনপির পদ থেকে পদত্যাগ করে তারই ছায়া হিসেবে আজাদ বিশ্বাসের হাতে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। স্বৈরাচার আওয়ামিলীগ সরকারের পতনের পর আবারো খোলস থেকে বের হন শাহ আলম। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হওয়ার প্রত্যাশায় ফতুল্লা থানা বিএনপির কূল কিনারা বিহীন কিছু রিজেক্ট নেতাদের সাথে নিয়ে মাঠে নেমেছেন সুচতুর শিল্পপতি শাহ আলম। প্রথমে থানার ৫ টি ইউনিয়নে লোক দেখানো ফ্রী মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন শুরু করে বর্তমানে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করছেন। এখানেও দেখা যায় আজাদ বিশ্বাসের সবর উপস্থিতি, শাহ আলমের পাশে আজাদ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে সাধারন নেতাকর্মীদের ভাষ্য, লিপি ওসমানের বিশ্বাসে শাহ আলমের আস্থা।




