খুলনার সাংবাদিক মিলনকে হত্যা ও দেশের দুই শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে সন্ত্রাসী হামলা, সংবাদপত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা।
তারা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের কোনো গণমাধ্যমের অফিসে এই ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। এই হামলা কেবল দুটি পত্রিকার উপরে নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাংবাদিক এমদাদুল হক মিলনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকরা বলেন,অনতিবিলম্বে সাংবাদিক হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
বুধবার সকাল ১১টায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও খুলনার সাংবাদিক মিলনকে হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে তারা এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকরা, হত্যা ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে সারাদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি জানান।
সোনারগাঁয়ে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, সাংবাদিক আল আমিন তুষার, মনিরুজ্জামান মনির,আবুবকর সিদ্দিক, ফরিদ হোসেন,মোকাররম মামুন, মোঃ নুর নবী জনি,শাহাদাত হোসেন রতন, হাবিবুর রহমান, রবিউল ইসলাম,মিজানুর রহমান, কামরুজ্জামান রানা, মাজহারুল ইসলাম,ইমরান হোসেন,ফারুক হোসেন,কবির হোসেন,সজিব,নজরুল ইসলাম শুভ, নাসির উদ্দিন, সজিব, রুবেল ও এরশাদ হোসেন অনন্যসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।
এসময় বক্তারা বলেন, “পত্রিকার অফিসে হামলা মানে পুরো বাংলাদেশের উপর হামলা। এটি গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার জ্বালিয়ে দেওয়া এবং সাংবাদিক মিলন হত্যার ঘটনা প্রমাণ করে আমরা কতটা সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। গত ৫৪ বছরে আমরা এমন ঘটনা দেখিনি। যারা হামলা চালিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়, তারা দুর্বৃত্ত, অপরাধী। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।
শুধু হামলাকারী নয়, এর নেপথ্যে যারা ইন্ধন জুগিয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেন তারা।




