জাগো নারায়ণগঞ্জ
এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকেও বিএনপির মনোনয়ন পাননি বিএনপির সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন। এ আসনে জোটের শরীক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনিত করেছে বিএনপি। এই আসনে যখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তখন গিয়াসকে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছেন তাকেই পল্টি দেয়া বারী ভুঁইয়াসহ অন্যান্যরা।
২৩ ডিসেম্বর জোটের প্রার্থী ঘোষণার পর মনির হোসাইন কাসেমী ছুটে যান ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়ার কাছে। ওই সময় গিয়াসের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে ঘরোয়া আলোচনা আসলে বারী ভুঁইয়া নিজেই গিয়াসকে ঠেকানোর ঘোষণা দেন এবং বারী ভুঁইয়ার ছেলে আশরাফ ভুঁইয়া গিয়াস ও তার সন্তানদের নিয়ে অশ্রাভ্য ভাষায় কটাক্ষ করে কটুক্তি করেছেন বলে ওই ঘটনাস্থল সূত্রে জানা গেছে।
বারীর ছেলে গিয়াসকে নিয়ে নানা ধরণের কটুক্তিমুলক মন্তব্য করেন। সভা শেষে গিয়াসকে নিয়ে গালিগালাজ শুরু করে দেন বারীর ছেলে। এ আসনে গিয়াসের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নেতাকর্মীদের সূত্রে জানাগেছে, আদালতপাড়ার রাজনীতিতে ছিলেন আব্দুল বারী ভুঁইয়া। ২০২২ সালের পূর্ব পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানা কিংবা নারায়ণগঞ্জের বাহিরের রাজনীতিতে সক্রিয়তা দুরের কথা, কোর্টপাড়ার রাজনীতিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলেও সক্রিয় ছিলেন না বারী ভুঁইয়া। এর আগে ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এমপি হওয়ার পর গিয়াসের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেছিলেন বারী ভুঁইয়া। সেই বারী ভুঁইয়াকে কোর্টপাড়া থেকে টেনে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন গিয়াস। অথচ সেই বারী ভুঁইয়া গিয়াসকে পল্টি দিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহামুদের বলয়ে রাজনীতিতে ডুকেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০২২ সালে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হোন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার। ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তৈমূর আলমের ছায়াতলে থেকে কোর্টপাড়ায় ছড়ি ঘুরিয়েছেন বদমেজাজী বারী ভুঁইয়া। এর আগে থেকেই তৈমূর আলমের চেম্বারে থেকে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লার বাসিন্দা বারী ভুঁইয়া। ২০২২ সালে গিয়াস জেলা বিএনপির দায়িত্ব পাওয়ার পর বারী ভুঁইয়াকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক পদে বসান।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী গিয়াসের বিরোধীতা করে রাজনীতি শুরু করলেও গিয়াসের পক্ষে অবস্থান নেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বারী ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ, আলমগীর হোসেন। সরকার পতনের পর ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় প্রায় অর্ধশতাধিক বৈষম্যবিরোধী মামলা বিভিন্ন বাদীকে দিয়ে রুজু করানোর ব্যবস্থা করেন এবং হলফনামার নামে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান বারী ভুঁইয়া।
এমন অবস্থায় ৪ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে দিলে নেতৃত্ব হারান গিয়াস। পরবর্তীতে জানুয়ারী মাসে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হোন মামুন মাহামুদ। তখন গিয়াসকে পল্টি দিয়ে মামুন মাহামুদের বলয়ে ভীড়েন ওয়ানম্যান শো খ্যাত বারী ভুঁইয়া। মামুন মাহামুদের বলয়ে গিয়েও গিয়াসের বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগ তুলতে থাকেন এবং গিয়াস ও গিয়াসের ছেলেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে নানা সময় ফেসবুকে ও বিভিন্ন স্থানে সমালোচনা করতে থাকেন বারী। যা স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরী বহিষ্কার হয়েছেন। বারী ভুঁইয়া পূর্বের মত গিয়াসের সঙ্গে থাকলে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটির অন্তত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতো গিয়াসের। টিটু একা থানা বিএনপি চালাতে পারতো না। ফলে ফতুল্লা থানা বিএনপির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন ছিনিয়ে আনাটা গিয়াসের জন্য সহজ হতো। কিন্তু বারী ভুঁইয়ার পল্টির কারনে এই আসনটিও গিয়াসের হাতছাড়া হয়েছে। এমন অবস্থায় গিয়াসের পক্ষে এই আসনে সুলতান মোহাম্মদ মোল্লা সহ নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।




