নারায়ণগঞ্জ রবিবার | ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
  সর্বশেষঃ
সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় গণপিটুনিতে তরুণ নিহত, মোটরসাইকেলে আগুন
এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন
ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত 
ঘুষ, অবৈধ সম্পদ পাহাড় ও শত কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস অফিসারের বিরুদ্ধে!
ফতুল্লায় নগদ টাকাসহ ১১ জুয়াড়ি গ্রেফতার
শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী পেটকাটা রকিসহ গ্রেপ্তার ৫
সাংসদ আলআমিনকে অবরুদ্ধকারী রাসেল মাহমুদ কি আইনের উর্ধ্বে ?
ফতুল্লায় পরিত্যক্তাবস্থায় ওয়ান শুটারগান উদ্ধার
ব্রাহ্মনগাওয়ে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ৩১তম মন্দির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎসব অনুষ্ঠিত
মো. সাহাবুদ্দিনই রাষ্ট্রপতি থাকছেন নাকি পরিবর্তন করবে বিএনপি?
এদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই – মো: জহিরুল ইসলাম জনি
ফতুল্লায় এসএসসি ২০০০ ব্যাচের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
ফতুল্লায় একাধিক মামলার আসামি সন্ত্রাসী জুয়েল গ্রেফতার
নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল 
জালকুড়ি পশ্চিমপাড়া যুব উন্নয়ন রোড এলাকাবাসীর পক্ষে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
সোনারগাঁয়ে পিস্তল ও গুলিসহ যুবক আটক
সিদ্ধিরগঞ্জে রাতভর পুলিশের অভিযানে ৩৪ জন গ্রেফতার: মাদক উদ্ধার
তিন দিনেও সন্ধান মিলেনি শারীরিক প্রতিবন্ধী জুতির
লালপুরে পঞ্চায়েত গঠনে, মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
ফতুল্লায় অভি’র সহযোগি ছিনতাইকারী ন্যাড়া বাহিনীর প্রধান কিলার বাবু নিহত
সিদ্ধিরগঞ্জে যাত্রীবেশে ২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১
আড়াইহাজারে কচুরিপানা থেকে শটগান উদ্ধার
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ: হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা, উচ্চঝুঁকিতে জ্বালানি বাজার
সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ভূমি অফিস প্রশ্নবিদ্ধ – ভূমি প্রতিমন্ত্রী
৬ সিটির প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমি অফিসে ঝুলছে তালা আর অপেক্ষায় প্রতিমন্ত্রী !
নারী কেলেঙ্কারিতে ক্লোজ সদরের সেকেন্ড অফিসার মিলন
বন্দরে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় রহমত গ্রেপ্তার
বিশ্লেষণঃ পরাজয় অথবা আরও আক্রমণের দোটানায় পড়েছেন ট্রাম্প
হাতেমকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলায় এমপি আল আমিন অবরুদ্ধ
Next
Prev
প্রচ্ছদ
এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন

এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন

প্রকাশিতঃ

বিপিসি ও পদ্মা মেঘনা যমুনার অদূরদর্শিতা

তথ্যসুত্রঃ যুগান্তর

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি এবং তিন তেল বিতরণ কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশ অনেকটা বিপাকে পড়েছে। সময়মতো জ্বালানি তেল মজুতের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মজুত না করায় সারা দেশে তেল নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালে সর্বনিম্ন ৬০ দিনের তেলের ধারণ ক্ষমতা বা মজুত রাখার সক্ষমতা তৈরি করার সিদ্ধান্ত হলেও এখন আছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মতো। সেই ৩৫ দিনের মধ্যে ডিজেল আছে ১০-১১ দিনের মতো। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এখন তেলের মজুত আছে ৭৪ দিন, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় ৩০ দিন এবং নেপালে আছে ১০ দিনের। অন্যদিকে এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে তেলের মজুত আছে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে ২৫০ দিনের। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন যুগান্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশে ৩০-৩৫ দিনের মজুতের ধারণ ক্ষমতা আসলে কোনো কিছুই নয়। এটাকে কোনোভাবে মজুতের ক্ষমতা বা আপৎকালীন সক্ষমতা বলা যায় না। এটা একেবারে পরিচালনের মজুত ছাড়া কিছুই নয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, তেল বিতরণ কোম্পানিগুলো জ্বালানি তেলের ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ গ্রহণে আগ্রহী। গত অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের প্রতি কর্মচারীকে ১৮ লাখ টাকা করে লভ্যাংশের বোনাস দেওয়া হয়েছে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম তামিম তেল খাতের এ পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, বিপিসি একটি অদক্ষ প্রতিষ্ঠান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে গত এক মাস আগে থেকে। তাদের এ ব্যাপারে আরও সতর্ক হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ইরানের ওপর হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর ৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মজুত নেমে আসে ৯ দিনে। এরপর সারা দেশে তেলের রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এই রেশনিং করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে পুরো তেল খাতে। জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্টরা পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে জানতে পেরেছে, বিপিসি এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর অদক্ষতা ও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূলত দুই কারণে এমনটি হয়েছে। ২০২০ সালে করোনাকালীন তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তেলের মজুতের ধারণ ক্ষমতা থাকবে কমপক্ষে ৬০ দিন। সেদিকে কেউ কোনো নজর দেয়নি। দ্বিতীয়ত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে। এর মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। এই কার্যকলাপ দেখে তেলের ৩০ দিনের মজুত করলেও তেমন সমস্যা হতো না। সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের এই সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে বিপিসির কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। এমনকি যুদ্ধের ফলাফল কী হতে পারে সেদিকেও তাদের নজর ছিল না। তৃতীয়ত, যুদ্ধ শুরুর পর বিপিসি ও তিন বিতরণ কোম্পানি ২ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন এবং ডিলারদের ডিপো থেকে প্রায় দ্বিগুণ তেল বিক্রি করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। অথচ ওই সময়ে তেল বিক্রিতে সবচেয়ে সচেতন হওয়া দরকার ছিল। ওই তিন দিনে ৭০ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিক্রি হতো ৪৫ হাজার টন।

জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম শুক্রবার যুগান্তরকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জুমে বৈঠক করে পুরো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। এতে করে বিপিসির অদক্ষতা প্রমাণ পেয়েছে। জানা গেছে, ওই বৈঠকের পর সরকার বিপিসির দুই পরিচালক আজাদুর রহমান এবং মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে ওএসডি করেছে। বিপিসিতে আরও রদবদল হতে পারে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা বাড়াতে কোনো আগ্রহ নেই : ২০২০ সালে করোনার সময়ে তেলের দাম ৩০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তখন কম দামের তেল ক্রয় এবং আপৎকালীন সময়ের জন্য ৬০ দিনের মজুতের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। বিপিসি এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি গত ৬ বছরেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি। কারও এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহও নেই। বিপিসির আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। যুগান্তরের সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপকালে একজন আরেকজনকে দোষারোপ করেছেন। তেল মজুতের ব্যাপারে খবর নিয়ে দেখা গেছে হতাশাজনক চিত্র। দেশে এখন তেল মজুত আছে ১০ থেকে ১২ দিনের মতো। আর মজুতের সক্ষমতা আছে ৩০ দিনের মতো। এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ১ জুলাই ডিজেল মজুতের সক্ষমতা ছিল ৬ লাখ ৪ হাজার ৪৯৫ টন। এখন সেখানে কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। একইভাবে ২০২১ সালে অকটেন মজুতের সক্ষমতা ছিল ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। এখন সক্ষমতা বেড়ে হয়েছে মাত্র ৫৩ হাজার ৩৬১ টন। পেট্রোলের ক্ষেত্রে ২০২১ সালে ছিল ৩১ হাজার ৮৮৫ টন। এখন মজুতের সক্ষমতা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৩ টন। ২০২১ সালে ফার্নেস অয়েল মজুতের সক্ষমতা ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৫ টন। এখন সক্ষমতা কমে হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৯ টন। দেশে ছোট-বড় ২৭টি ডিপো আছে। এই ডিপোতে মজুতের জন্য ট্যাংক আছে ৪৬৩টি। এর মধ্যে চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনায় সবচেয়ে বেশি ডিজেল মজুত আছে ২১ দিনের। গত বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী বিপিসির ডিপো গোদনাইলে ডিজেলের মজুত ৪ দিন, ফতুল্লায় ২০, দৌলতপুরে ৩০, বাঘাবাড়ী ১৮, বরিশাল ২৫, ঝালকাঠি ৯, চাঁদপুর ৭, পার্বতীপুর ৬, রংপুর ৫, সিলেটে ২, আশুগঞ্জ ১ এবং সাচনা বাজারে আছে ১ দিনের ডিজেল। তবে একেবারে ডিজেল নেই নাটোর, হরিয়ানা, চিলমারী বাজ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কেএডি, ঢাকা, এসআইএ, চট্টগ্রাম, ওসমানী সিলেট এবং কক্সবাজারে। দেশে প্রতিবছর ৭০ লাখ টনের বেশি জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ডিজেল ব্যবহার হয় ৪০ লাখ টনের বেশি।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের ব্যবহার হু-হু করে বাড়ছে। ২০১৯-২০ সালে তেল ব্যবহার হয়েছে ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৯১ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তেল ব্যবহার হয়েছে ৬২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩০ টন, ২০২১-২২ সালে ৬৯ লাখ ১৫ হাজার ১০ টন, ২০২২-২৩ সালে ৭৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫ টন এবং ২০২৩-২৪ সালে ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২০ টন। আগামী ৫ বছরে তেলের চাহিদা ১ কোটি টনের বেশি হবে বলে মনে করে বিপিসি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেলের মজুত বাড়ছে। কিন্তু মজুত সেই তুলনায় কিছুই বাড়ছে না। এখনকার পরিকল্পনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় তিন বিতরণ কোম্পানি ৪০ হাজার টনের মজুতের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এছাড়া পার্বতীপুরে ২৮ হাজার টন এবং পিতলগঞ্জে ২৮ হাজার টন জেট ফুয়েল মজুতের ট্যাংক বসানো হচ্ছে। তবে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বিপিসির সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প-এসপিএম নিয়ে। ওই প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২৮ হাজার টনের তেল মজুতের ট্যাংক করা হয়েছে। সেই প্রকল্প চালু না হওয়ায় দুই বছর ধরে সেই ট্যাংক অলস পড়ে আছে।

পদ্মা মেঘনা যমুনা অয়েল কোম্পানি বোনাস নেয় কত : দেশের সবচেয়ে পুরোনো তিন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। বিপিসির আমদানি করা তেল এই তিন কোম্পানি শুধু বিতরণ করে। তিন কোম্পানির আওতায় ফিলিং স্টেশন আছে ২ হাজার ৩০৭টি। দেশের তেল মজুতের বেশির ভাগ ট্যাংকারও এই তিন কোম্পানির আওতায়। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ৬০ দিনের মজুতের সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দায়িত্ব ওই তিন বিতরণ কোম্পানির। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেনি। যার কারণে দেশ বড় বিপাকে পড়েছে। জানা গেছে, প্রতিটি কোম্পানির কাছে লভ্যাংশের অর্থ আছে ৭ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। এগুলো বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রেখে প্রতিবছর তারা শত শত কোটি টাকা লাভ নেয়। তিন কোম্পানির এখন মূল লাভ আসছে ব্যাংকের সুদ থেকে। তিনটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। গত অর্থবছরে প্রতিটি কোম্পানি ৫০০ কোটি টাকার বেশি লাভ করেছে। তেল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানা সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ ওই তিন কোম্পানির নেই। বরং প্রতিবছর কোম্পানিগুলোর স্টাফরা লাখ লাখ টাকা বোনাস নিচ্ছেন। এর মধ্যে গত অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের প্রতিটি স্টাফ নিয়েছেন ১৮ লাখ টাকা, যমুনা অয়েল ১৩ লাখ ৫০ হাজার এবং পদ্মা অয়েলের স্টাফরা নিয়েছেন ৬ লাখ টাকা বোনাস। এছাড়া চুল কাটার বিলসহ অর্ধশতাধিক সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন তেল কোম্পানির স্টাফরা। সংশ্লিষ্ট একজন জানান, সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতার কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই। ১৯৬৫ সাল থেকে তিন কোম্পানি দেশে তেল বিক্রি করছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কেউ তেল বিতরণের ব্যবসা করতে পারে না। অথচ তারা এত বছর কী করেছে। কোনো ফিলিং স্টেশনের একটি টয়লেটে পর্যন্ত যাওয়া যায় না।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহিরুল হাসান, যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমির মাসুদ এবং পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমানের মন্তব্য চাওয়া হয়। মেঘনার এমডি স্বীকার করেন তার স্টাফরা ১৫ লাখ টাকার বেশি গত বছর বোনাস নিয়েছেন। তবে তিনি তেলের মজুত ঠিক আছে বলে দাবি করেন। তেলের মজুতের ধারণ ক্ষমতা ৬০ দিন করার কথা থাকলেও কেন হয়নি-এই প্রশ্নের কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি। বলেন, কাজ চলছে। যমুনা অয়েলের এমডি বলেন, এখন তেলের মজুত ৬০ দিনের করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্যাংকে কত দিনের তেল আছে-এই প্রশ্নের জবাব কিছুতেই দিলেন না পদ্মা অয়েলের এমডি। তিনি বলেন, মজুত পর্যাপ্ত আছে। তাহলে জনগণ তেল পাচ্ছে না কেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোববার থেকে পাবে। তেলের মজুতের ব্যাপারে পদ্মা অয়েল এতদিন কিছু করেনি কেন-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিপিসি ভালো জানে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, করোনা ও গত বছরের ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা ছিল। বাংলাদেশ সেই বার্তা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের মতো দেশে কমপক্ষে ৯০ দিনের তেলের রিজার্ভ থাকা দরকার। জ্বালানি তেলের রিজার্ভ বাড়লে দেশের লাভ। কারণ বছরে চার বিলিয়ন ডলারের ডিজেল প্রতিবছর লাগে। ৯০ দিনের মতো রিজার্ভ রাখতে হলে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। সেটি বিপিসি এবং তিন বিতরণ কোম্পানি করতে চায় না। তারা ব্যাংকে টাকা রেখে নগদ লাভ চায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের দায়িত্ব আছে। তারা এখন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেন, বিতরণ কোম্পানির টাকা ব্যাংকে না রেখে দেশের জন্য ব্যবহার হওয়া দরকার।

 

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোঃ শহীদুল্লাহ রাসেল

প্রধান নির্বাহীঃ

মোঃ রফিকুল্লাহ রিপন

সতর্কীকরণঃ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সকল স্বত্ব
www.jagonarayanganj24.com
কর্তৃক সংরক্ষিত
Copyright © 2024

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ

বনানী সিনেমা হল মার্কেট
পঞ্চবটী ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ফোন নম্বরঃ ০১৯২১৩৮৮৭৯১, ০১৯৭৬৫৪১৩১৮
ইমেইলঃ jagonarayanganj24@gmail.com

Website Design & Developed By
MD Fahim Haque
<Power Coder/>
www.mdfahim.com
Web Solution – Since 2009

error: Content is protected !!