প্রতিবছর রমজান মাস কিংবা ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীরা যেমন নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে, তেমনি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তা–কর্মচারীর বিরুদ্ধেও ঘুষ ও উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতিকে ঘিরে একটি বহুল আলোচিত শব্দ ছিল— “পুলিশের ঈদ হান্টিং”। যদিও বর্তমানে সেই শব্দটি তেমন আলোচনায় নেই, তবে অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কিছু অসাধু কর্মকর্তা এখনও একই ধরণের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এমন অভিযোগ বিশেষভাবে উঠেছে নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি অসাধু চক্রকে ঘিরে। স্থানীয় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইটভাটা ও ডাইং কারখানার মালিকদের অভিযোগ— অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়মিতভাবে তাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করে থাকে। পিয়ন থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত অনেকেই এই অনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইটভাটা মালিকদের দাবি, নিয়মিত মাসোহারা বা ঘুষ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার ভয় দেখানো হয়। অনেক সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করে অভিযানের পরিবেশ তৈরি করা হয়। পরে অভিযানের নামে জরিমানা কিংবা ভাটা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ইটভাটাকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে এই জরিমানা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—
বক্তাবলী পূর্ব গোপালনগরের মেসার্স এস ইউ এ ব্রিকস – ৩ লাখ টাকা
মেসার্স বোখারী ব্রিকস – ৩ লাখ টাকা
নিজাম উদ্দিন ব্রিকস (এনবিএম সেভেন) – ৩ লাখ টাকা
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল জানান, অভিযানে তিনটি ইটভাটা থেকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে মেসার্স বোখারী ব্রিকসের কিলন আংশিক ভেঙে দেওয়া হয় এবং ভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোবারক হোসেন প্রসিকিউশন প্রদান করেন।
তবে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের একটি অংশের দাবি, এসব অভিযানের আড়ালে মূলত “ঈদ হান্টিং” চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়কে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। আর কেউ সেই দাবিতে সাড়া না দিলে তার বিরুদ্ধে হঠাৎ করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পরিবেশ রক্ষার নামে যদি কোনো সংস্থা দুর্নীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা শুধু প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং প্রকৃত পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমকেও দুর্বল করে দেয়। তাই নারায়ণগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সুত্র: যুগের নারায়ণগঞ্জ




