বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দেবরের ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোক জনের নির্যাতনের শিকার হয়ে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন জাকিয়া আক্তার মীম নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় এদিন রাতেই স্বামীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বন্দর উপজেলার ২নং মাধবপাশা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সেলিমের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক জাকিয়া আক্তার মীম (২৪)-এর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর ছোট ভাই মোঃ হানিফ একাধিকবার জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ৬ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মাধবপাশা এলাকায় তাদের বাড়িতে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হানিফ কক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেয়।
পরবর্তীতে গৃহবধূ বিষয়টি তার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদদের জানিয়ে বিচার চাইলে তারা উল্টো তাকে মারধর করে এবং বিষয়টি চেপে যেতে চাপ দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার জের ধরে ৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে স্বামী সেলিম, দেবর হানিফ, শাশুড়ি শিউলী বেগম ও দুই ননদ দুলালী বেগম এবং আয়েশা বেগম মিলে তাকে বাড়িতে আটকে মারধর করে। এক পর্যায়ে শাশুড়ির নির্দেশে ননদরা তাকে ধরে রাখে এবং স্বামী গ্যাস লাইট দিয়ে তার পরনের কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার বুক, পেট, স্তন, গলা, মুখ ও ঠোঁট আগুনে ঝলসে যায়।
পরে অভিযুক্তরা চিকিৎসার কথা বলে তাকে বন্দর ঘাট এলাকায় রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে গত ১২ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে বন্দর ঘাট থেকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর শাশুড়ির স্বজন রেশমা আক্তার বাদী হয়ে বন্দর থানায় স্বামী, দেবর, শাশুড়ি ও দুই ননদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




