নারায়ণগঞ্জ বুধবার | ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  সর্বশেষঃ
অগ্রবাণী প্রতিদিনের প্রকাশক-সম্পাদক স্বপন কুমার পোদ্দার আর নেই
কাশিপুর ভোলাইলে মূর্তিমান আতংক নামধারী যুবদলের ক্যাডার পাগলা সোহেল!
সিদ্ধিরগঞ্জে কথিত বিএনপি নেতার শেল্টারে রমজান বাহিনীর কোটি টাকার মাদক ব্যবসা !!  
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল হতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
লক্ষী নারায়ণ দূর্গা মন্দির নিয়ে বিএসপি নেতা টনি মল্লিকের হুশিয়ারী!
আমতলীতে অসহায় বৃদ্ধার পাশে স্বপ্নছোঁয়া,
সৌদিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনারের ব্যর্থতার বলি “নজরুল-সিতি”
রাজনৈতিক সরকারের সময়ও মব থামছে না কেন, নেপথ্যে কী?
বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক
কবিরাজির আড়ালে নারীদের ফাঁদ: স্ত্রী ফেলে নতুন নারীকে নিয়ে ফতুল্লায় আস্তানা!
রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সোনারগাঁয়ে পানাম নগরী ও জাদুঘর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক হোসেন
শেরপুরে পূজামণ্ডপ ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারিতে সিআইডি
সোনারগাঁয়ে কারবারি-সেবীসহ গ্রেফতার ২১
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, অস্ত্র, মাদক এবং কিছু প্রশ্ন
সাত খুন, সিনহা ও আবরার হত্যা মামলা আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ
মিরুর ক্যাডার সাদ্দামের বিরুদ্ধে বৃদ্ধার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
“ভয় নেই, পাশে আছি” নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করুন-কর্নেল আরাফাত
লালপুর অর্ণিবান ক্রীড়া সংঘকে সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্যারাম ও টিভি উপহার
সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-২২, ইয়াবা উদ্ধার 
সোনারগাঁয়ে চণ্ডীপাঠ ও মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৯
কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ : দগ্ধ ৪ জনই না ফেরার দেশে
শারদীয় দূর্গাপুজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিএসপি’র বস্ত্র বিতরন
আড়াইহাজারে স্ত্রীর প্রেমিকের ঘর থেকে স্বামীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক ক্ষতি করেছে: পর্যটনমন্ত্রী মিল্লাত
জামালপুরে অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু
Next
Prev
প্রচ্ছদ
দীপাবলী ও কালীপূজা

দীপাবলী ও কালীপূজা

প্রকাশিতঃ

রণজিৎ মোদক

সনাতন হিন্দু ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব হচ্ছে, শ্যামা পূজা- দীপান্বিতা বা দীপাবলী। কেউ কেউ এই উৎসবকে দেওয়ালী উৎসবও বলে থাকেন। ত্রেতা যুগে চৌদ্দ বছর বনবাসে থাকার পর নবমীতে শ্রীরাম রাবণ বধের বিজয় আনন্দ নিয়ে দশমীতে রাজ প্রাসাদ অযোধ্যায় ফিরে আসেন। রামের আগমন বার্তা শুনে সমস্ত প্রজাকূল তাদের গৃহে প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ উৎসব পালন করেন। সেই উৎসবকে দীপাবলী উৎসব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার বৈষ্ণব শাস্ত্রীয় মতে কার্তিক মাস তথা দামোদার মাস। এ মাসেই স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর মাতৃ¯েœহের বন্ধনে আবদ্ধ হন। ভক্তির রশিতে ভগবান ভক্তের হাতে বন্দি। এই দামোদার মাস ভগবানের প্রিয় মাস। এ মাসে ভগবানের উদ্দেশ্যে যা কিছু করা হয়, তাঁর অক্ষয় ফল প্রদান করেন ভগবান। দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনবাসী গোপ ললনাবৃন্দ অন্ন কুটের উৎসব করেন এই দামোদার মাসে (কার্তিক)। শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ভক্তবৃন্দ এ মাসে রাখের উৎসব ব্রত পালন করেন। শাস্ত্রীয় মতে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে দীপান্বিতা পার্বন শ্রাদ্ধ ও শ্যামা পূজা করা হয়। প্রয়াত পিতৃপুরুষদের স্মরণে উল্কাদানের মাধ্যমে আশীর্বাদ কামনা করা। কালহারিণী কালী মাতার শ্রীচরণে প্রার্থনা জানায় “অগ্নিদগ্ধাশ্চ যে জীবা যেহপা দগ্ধা কুলে মম। উজ্জ্বল জ্যোতিষা দগ্ধান্তে যান্তু পরমাং কাল হরণ কারিনী কালী হচ্ছে শ্যামা”। ইনিই দশ মহাবিদ্যারূপিনী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলামুখী মাতংগিনী, কমলা, কালী তারা, ষোড়শী, কামাক্ষ্যা, ভূবেনশ্বরী। বহু রূপে বহু নামে ডাকা হয় মাকে। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের “কালী- দ্যা মাদার”। শ্রীরাম প্রসাদের বেড়া বাধুনী কণ্যা রূপী কালী মা, শ্রী রাম কৃষ্ণের দক্ষিণেশ্বরী কালী মাতা। বামাক্ষেপার তারা পীঠের তারা মা।

কামরূপের কামাক্ষ্যা, কলিকাতার কালী, ঢাকার ঢাকেশ্বরী, জামালপুরের দয়াময়ী, চট্টগ্রামের চট্টেরশ্বরী, নবদ্বীপের পোড়ামা ভবতারিনী। সত্য যুগে মহামায়া, চন্ডী ত্রেতাতে। দ্বাপর যোগমায়ায় যোগেশ্বরী বৃন্দে (বড়াই বুড়ি)। প্রতিটি মানব দেহে তিনিই কূল কুন্ডলিনী শক্তিরূপে বিরাজ করছেন। আদ্যাশক্তি জগদ্মাতা শক্তিভূতা, সৃষ্টি শক্তিরূপী পরমাশি মায়া, সর্বকারণের কারণ রূপী। সৃষ্টির প্রারম্ভে স্বয়ং বিষ্ণু দেবীকে স্মরণ করে মধু-কৈটব নামে দুই অসুরকে বধ করেন। পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মায়া শক্তি ভুবনপূজিতা দুর্গা; তাঁরই ভয়ংকর উগ্রমূর্তি হলেন কালীমাতা। তবে কিভাবে তিনি খড়গ হাতে সন্তানের মস্তক ছিন্ন করেন? এ কেমন মা? দেবীকালী জগন্মাতা হয়েও উগ্র কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, রাষ্ট্রের সকল জীবই রাষ্ট্রের প্রজা এবং তারা রাজার সন্তানের মতো। তবুও অপরাধীকে দন্ড দেওয়া রাজার কর্তব্য, এমনকি নিজের সন্তান হলেও। এব্যাপারে রাজাকে অবশ্যই অত্যন্ত কঠোর হতে হয়। অন্যথায় দেশ অনাচারে ছেয়ে যাবে। তখন রাজাকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। তথাপি সন্তানদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও অসুরদের দন্ডদান করতে তাঁকে ভয়ংকর উগ্ররূপিণী কালী রূপ ধারণ করতে হয়। অসুর কারা? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, যারা শাস্ত্র বিধি পরিত্যাগ করে পাপাচারে লিপ্ত হয় তাঁরাই অসুর। আবার গীতার ৭ম অধ্যায়ের ১৫তম শ্লোকে ভগবান বলেছেন, (মূঢ়, নরাধম, মায়া দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে এবং আসুরিক ভাবাপন্ন) তাঁরাই অসুর। সেই অসুরদের মেদ (মাংস) থেকে এই মেদেনীর সৃষ্টি। তাই আজও এই মাটিতে অসুরের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সব অসুরদের হাত থেকে রক্ষা পেতেই আজ দেবী শক্তির আহবান। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অর্জুনের বাহুতে শক্তি সঞ্চার করেন দেবী মহামায়া চন্ডী। এছাড়াও দেবী যোগমায়া রূপে মধুর বৃন্দাবনে রাধা গোবিন্দের যুগল মিলনে সহায়িকারূপে কাজ করে। অদ্যবধি দেবী তুলসী সারা বিশ্বে সনাতনী নর-নারীর হৃদয়ে কৃষ্ণ ভক্তির সহায়িকা শক্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে।

শাস্ত্র মতে জানা, শ্রী বৃন্দাদেবীর কৃপা না হলে, শ্রীধাম বৃন্দাবনে প্রবেশাধিকার সম্ভব নয়। ভক্তিরমামৃতে বলা হয়েছে, বৃন্দাদেবীর কৃপা হলে, শ্রীমতি রাধা রাণীর কৃপা হয়! প্রেমময়ী রাধা রাণীর কৃপায় শ্রী গোবিন্দ দর্শন হয়। বহুরূপে বহুভাবে দেবীর সাধন ভজন করার বিধান রয়েছে। এখানে তন্ত্র মন্ত্রে দেবীকে তুষ্ট করে অনেকেই সাধকখ্যাত হয়েছেন। আবার ভক্তির মাধ্যমে দেবীর কৃপা লাভ করেছেন। তাদের স্মরণ করলে পাপ বিনষ্ট হয়। তাদের পরশে গঙ্গা পবিত্র হয়।

দেবী সৃষ্টি রক্ষায় মাতৃরূপে গৃহে গৃহে অবস্থান করেন। আবার অসুর বধে দেবী মাতাংগিনীরূপে সব ধ্বংস করেন। সৃষ্টি রক্ষায় সমস্ত দেবতারা যখন ব্যর্থ, তখন বৈষ্ণব শক্তি শব (মরদেহ) রূপে দেবীর আগমন পথে পড়ে রইলেন। মুন্ডুমালিনী উন্মাদিনী তার ডাকিনী-যোগিনী সঙ্গে রণরঙ্গিনী বেশে ছুটে যাচ্ছেন। পায়ের নিচে শব (মরা) রূপে পতি শিবকে দেখে দেবী লজ্জ্বিত হয়ে জিভে কামড় দেন। যে দেবী রক্ত পিপাসায় নিজের মস্তক কেটে ছিন্নমস্তারূপে রক্ত পান করেছিলেন। সেই দেবী লজ্জ্বায় রণে ক্ষান্ত হলেন। লজ্জ্বা যে নারীর ভূষণ- এ সত্যই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আজকাল সত্যি কথা বলতে কি, এসব লজ্জ্বাটুকু অনেকটা দূর হয়ে যাচ্ছে। কালী বা শ্যামা রূপের মাঝে আমরা আমাদের বাঙালী মায়েদের চরিত্র দেখতে পাই। স্বামীর প্রতি স্ত্রীর যে ভক্তি প্রদর্শন কালী চরিত্রে তা প্রস্ফুটিত হয়েছে। পদ্মা পুরাণ, মহাভারত ও রামায়নের নারী চরিত্রে লজ্জ্বাই নারীর ভূষণ এবং (স্বামী) পতি পরম গুরু রূপে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে কালী বা শ্যামা পূজা শুধু পূজাই নয়, একটি উৎসবও বটে। শ্রীচন্ডীতে দেবী বলেছেন, যখনই যেথায় দানবের উথান হবে তখনই আমি সেখানে অবতীর্ণ হয়ে দানব শক্তি ধ্বংস করবো। শ্রীরাম কৃষ্ণ দেব তাই বলেছেন, তোমরা যাকে ব্রহ্ম শক্তি বলো, আমি তাকে বলি কালী। মোট কথা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই সনাতনী জীবন বিধান পরিচালিত হচ্ছে। দীপান্বিতা পার্বণ শ্রাদ্ধে পিতৃ পুরুষের আশীর্বাদ-প্রার্থনা, প্রদীপ বা উল্কা দান দেওয়ালী উৎসব মধূর হোক দীপাবলী উৎসব সবার জীবনে সুখ-শান্তি বয়ে আনুক এই হোক প্রার্থনা।

লেখক : রণজিৎ মোদক
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোঃ শহীদুল্লাহ রাসেল

প্রধান নির্বাহীঃ

মোঃ রফিকুল্লাহ রিপন

সতর্কীকরণঃ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সকল স্বত্ব
www.jagonarayanganj24.com
কর্তৃক সংরক্ষিত
Copyright © 2024

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ

বনানী সিনেমা হল মার্কেট
পঞ্চবটী ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ফোন নম্বরঃ ০১৯২১৩৮৮৭৯১, ০১৯৭৬৫৪১৩১৮
ইমেইলঃ jagonarayanganj24@gmail.com

Website Design & Developed By
MD Fahim Haque
<Power Coder/>
www.mdfahim.com
Web Solution – Since 2009

error: Content is protected !!