বকশীগঞ্জ জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মামলার কারনে একটি স্থায়ী পাকা ভবন পায়নি। নদীভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হওয়ার পর নতুন স্থানে টিনশেড ঘরে পাঠদান চললেও জমি-সংক্রান্ত মামলার কারণে বারবার সরকারি বরাদ্দ এসেও ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে ১৩৪ জন শিক্ষার্থীকে অবকাঠামোগত নানা সংকটের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৯৪ সালে নিবন্ধিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৫ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ শিক্ষক। বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লকসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধারও অভাব রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির আলী জানান, ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট নতুন স্থানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়। এরপর একাধিকবার সরকারি বরাদ্দ এলেও চলমান মামলার কারণে পাকা ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টি মাইছানিরচর গ্রামে অবস্থিত। মাইছানিরচর, মাদারেরচর ও ঘুগড়াকান্দি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র বর্তমানে মাদারেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ফলে মাইছানিরচর গ্রামের ভোটারদের ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে প্রায় তিন মাইল পথ অতিক্রম করে ভোট দিতে যেতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে এটিকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান মো. রেজাউল করিম বলেন, “বিদ্যালয়ের জন্য ভবন নির্মাণের বরাদ্দ এসেছিল। কিন্তু মামলা চলমান থাকায় এলজিইডি ভবন নির্মাণ করতে পারেনি। মামলা নিষ্পত্তি হলে ভবন নির্মাণে আর কোনো বাধা থাকবে না। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধানের আহ্বান জানানো হলেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোরাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নই।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার বাদী মো. আব্দুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের পর রসুলপুর (দুর্গাপুর) মাইছানিরচর এলাকার কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর স্বার্থ ও শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মুছা আলী বলেন, আমরা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়েছি। দ্রুত পাকা ভবন নির্মাণ হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার দ্রুত নিষ্পত্তি করে দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




