ষ্টাফ রিপোর্টার:
আওয়ামীলীগের পলায়নের ২ বছর ছুঁইছুঁই! ফতুল্লা তথা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতে আওয়ামী দোসরদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে জুলাই-আগষ্টের আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও নিহতের ঘটনায়। নারায়ণগঞ্জের মেয়র আইভী প্রায় ৩৯১ দিন জেল খেটে ১২টি মামলায় জামিন নিয়ে মুক্ত হয়েছেন ৩দিন আগে।৫ আগষ্ট পরবর্তী অপরাধীদের গ্রেফতারে সারাদেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট কিংবা চিরুনী অভিযানের কার্যক্রম চললেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকাটি ছিল একেবারেই ব্যতিক্রম। বরং এখানে অপরাধী কিংবা আওয়ামী ডেভিলরা প্রকাশ্যে বেড়ালেও থানা পুলিশের বড়কর্তা এবং বিএনপির অর্থলোভী একাধিক নেতাকে ম্যানেজ করেই এলাকাতে বীরদর্পে অবস্থাস করছে আলোচিত এ ডেভিলরা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে কাশিপুরে আওয়ামী গডফাদার শামীম ওসমানের চেলাচামুন্ডা ডাকাত গেসুসহ তার পরিবারের সকল সদস্যরা যেন ডেবিল হান্ট কিংবা চিরুনী অভিযান সবকিছুরই উর্ধে রয়েছেন শুধুমাত্র বিগত সময়ে উপার্জিত ভুমিদস্যুতা ও মাদক নির্ভর টাকা দিয়ে।
যদিও গত কয়েক মাসে যে কজন আওয়ামী দোসর গ্রেফতার হয়েছে তা শুধুমাত্র বিএনপি নেতারাই আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে তা গনমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু ম্যানেজকৃত পুলিশ সদস্যদের কাছে আওয়ামী দোসররা আবারও ফিরবে আসবে এবং তাদের সঙ্গী হিসেবেই কাজ করবে।
বিগত সময়ে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পুনরায় পতিত সরকারকে ফিরিয়ে আনতে সুসংগঠিত হওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে একটি আলোচিত ও সমালোচিত পরিবার হলো আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন ওরফে ডাকাত গেসুর পরিবার এমনটাই অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানান,বিগত দিনে একাধিকবার স্থানীয় পত্রপত্রিকায় এই গিয়াস উদ্দিনকে “ডাকাত গিয়াস বা ডাকাত গেসু” নামে আখ্যায়িত করে বহু সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। ভয়ংকর ভুমিদস্যুতার মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা মালিক বনে যাওয়া ডাকাত গেসু পরিবারের এক সন্তান ব্যতিত সবাই পুর্বের ন্যায় এলাকাতে প্রকাশ্যে চলাচল করছেন বিএনপির নামধারী অর্থলোভী কিছু নেতা এবং থানা পুলিশের বড়বাবুদেরকে টাকা বিনিময়ে ম্যানেজ করে।
ঢাকার পল্টনে নারায়ণগঞ্জ থেকে শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহনে একটি ঝটিকা মিছিল এমনকি নারায়ণগঞ্জেও বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী ছাত্রলীগের রাতের আধারে মশাল কিংবা ঝটিকা মিছিল সবকিছুইতেই রয়েছে সেই গেসু পরিবারের অর্থ্যায়ন এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। কাশিপুরের নরসিংপুরে বসে সবকিছুর কলকাঠি নাড়ছেন গেসুপুত্র শামীম মেম্বার,আলোচিত ভুমিদস্যু সুমন,তারই ভাই শাকিল।
তবে স্থানীয়দের মতে, আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে ডাকাত গেসুর ছেলে শামীম মেম্বার,সুমন ও শাকিলরা অনেকটা গোপনে মিটিং করলেও চলাচল করছেন প্রকাশ্যে।
ডাকাত গেসুর ছেলে শামীম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে নিজেকে জনপ্রতিনিধি ভাব দেখালেও ভেতরে ভেতরে যোগসাজেস রয়েছে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের সাথে। অপর দুই ছেলে ভুমিদস্যু সুমন ও শাকিল জেলা মৎসজীবি দলের সভাপতি এসএম হোসেনের শেল্টারে প্রকাশ্যে চলাচল করছে আর পুর্বের ন্যায় বর্তমানেও ভুমিদস্যুতায় লিপ্ত রয়েছে। আর এদের অবাধ চলাচলের অন্তরালে ভেসে উঠেছে জাকির খান ও তার ভাই জিকু খানের নামটি। কারন জাকির খানের ভাই জিকু খানকে সাথে নিয়েই উন্মুক্তভাবে জীবন যাপন করছে। গেসুপুত্র ভুমিদস্যু সুমন সারাদিন নিজ এলাকা সামসুল আলমের মোড় নিজেদের মার্কেটের আশপাশে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামলেই চলে যান নগরীর মিশনপাড়া এলাকায়। সেখানে দুই শিল্পপতির এক আত্মীয়ের বিল্ডিংয়ে স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন এ সুমন। সেই বিল্ডিংয়ে জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতাও নাকি বসবাস করছেন তার পাশের ফ্লাটে। ডাকাত গেসু পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার হত্যা মামলা। তারপরও চলছে তাদের প্রকাশ্যে জীবন-যাপন যা নিয়ে পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকা পালন করাটাও ভাবিয়ে তুলেছে সাধারন মানুষকে। তবে একাধিক বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী হয়েও কিভাবে প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে বীরদর্পে এলাকাসহ শহর দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে কাশিপুরের সাধারন মানুষের। পুলিশ প্রশাসন এবং এবং বিএনপি নেতাদের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেই যদি ডাকাত গেসুর পরিবারের সকল সদস্য এলাকাতে দিব্ব্যি বসবাস করতে পারে তাহলে এত মামলার আসামী হয়েও কি লাভবান হয়েছে গেসুর পরিবারের সদস্যরা? আর সবকিছুর মুলে কি পুলিশ প্রশাসন ও বিএনপির সাথে সখ্যতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মানুষ জানান,আওয়ামী লীগ আমল থেকেই ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যুদের কবলে পড়েছে কাশীপুরের সাধারণ মানুষ। যারা কাশীপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর এবং উত্তর নরসিংপুর এলাকায় বহু খালি জায়গা তথা খাস জমি থেকে শুরু করে ওয়ারিশ জমি, বেজাল জমি, নাল জমি সবই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম. সাইফউল্লাহ বাদলের ছত্রছায়ায় নিজ দখলে নিয়েছিলেন কুখ্যাত ভুমিদস্যু বাপ-বেটা কাশীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ওরফে ডাকাত গেসু এবং তার বড় ছেলে কাশীপুর ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম আহম্মেদ ও তার আরেক ভাই ভূমিদস্যু সুমন আহম্মেদ,শাকিল । এই বাপ বেটা এখন শত শত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। এই ‘ডাকাত গেসু’ এবং তার দুই ছেলে ভয়ংকর ব্যাক্তি ছিলেন। তারা সরাসরি সাইফউল্লাহ বাদলের শেল্টারে ছিলেন এ ছাড়া শামীমের ভিতরে ভিতরে অয়ন ওসমানের সাথে ব্যাপক সখ্যতা ছিলো। গিয়াস ও শামীম এবং সুমনের ভূমি ব্যবসার পার্টনারও ছিলেন সাইফউল্লাহ বাদল। সেই সুবাধে গিয়াস উদ্দিন সাইফউল্লাহ বাদলকে আয়ত্বে নেয়ার জন্য তার ছেলে সুমনের বিয়েতে উকিল দেন সাইফউল্লাহ বাদলকে। সাইফউল্লাহ বাদল হলেন সুমনের উকিল বাবা। মূলত এভাবেই নিজেরদের মাঝে গভীর সখ্যতা গড়ে তুলে বেপরোয়া ভূমি সন্ত্রাস চালিয়ে এই ডাকাত পরিবার চক্র। শামীম-সুমন-শ্যামল-শাকিল এতত্রিত হয়ে বাদলের ছত্রছায়ায় চর নরসিংপুর এবং উত্তর নরসিংপুর তথা বক্তাবলীর রাজাপুর থেকে শুরু করে সেখানে কয়েকটি এলাকায় বাদলের শেল্টারে আজমেরী ওসমানের নাম বিক্রি করে ব্যাপক ভূমি খেকো তান্ডব চালিয়েছেন এই সুমন। এ ছাড়া সুমনের দখলকৃত দিঘলীপট্টি সামসুল আলমের মোড়ে রয়েছে প্রায় সাড়ে সাতশত শতাংশ জায়গা। আর নগদে রয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা।
কিশোরী ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাকারী সেই শাকিল আবারও বেপরোয়া:
ডাকাত গেসুর অপর সন্তান: শাকিল কথায় আছে, ‘কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না, আর মানুষের স্বভাব পরিবর্তন হয় না।’ এর এক জীবন্ত প্রমাণ ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুখ্যাত ডাকাত গিয়াস উদ্দিন গেসুর ছেলে শাকিল। শৈশবে এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের মধ্য দিয়ে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি হওয়া এই শাকিল বর্তমানে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
এক নজরে অপরাধের খতিয়ান:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোর বয়সেই শাকিল এক মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। সেই সময় তার বাবা ডাকাত গেসু বিপুল অংকের টাকা খরচ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে শাকিলকে বিদেশে পাঠিয়ে দেন। দেশের পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে এলে সে পুনরায় ফিরে এসে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘বিল্লু বাহিনী’র সাথে আঁতাত করে নরসিংপুর এলাকায় মাদক ও ভূমিদস্যুতার রামরাজত্ব কায়েম করেন শাকিল ও তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী।
একটি বিতর্কিত ও অপরাধী পরিবার:
অনুসন্ধানে জানা যায়, শাকিলের পুরো পরিবারই অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তার ভাই মেহেদী হাসান সুমন একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু, শ্যামল অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং সাঈদ সরাসরি অটোরিক্সা চোর সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। মেঝ ভাই শামীম ভদ্রবেশী লেবাস ধরে ভাইদের সকল অপকর্মের ছায়া দেয়। পরিবারের ছোট ছেলে শাওনও বর্তমানে ভাইদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অপরাধ জগতে পা রেখেছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পুনর্বাসন:
৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শাকিল কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, হোসেন বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে এই বিতর্কিত আওয়ামী পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করছেন।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন:
শাকিলের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একাধিক মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করছে না। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে সে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকমাস আগে এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে সুইচ গিয়ার দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা চালায় শাকিল। এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
শ্যামলের অস্ত্র হাতে মাস্তানী:
প্রায় ২/৩ মাস পুর্বে ডাকাত গেসুর বাড়ির সামনে অবস্থিত জারজিস নামে এক রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস এর সামনে এক যুবককে ব্যাপক মারধর করতে দেখা গেছে শ্যামলকে। এ সময় শ্যামলের হাতে একটি অস্ত্রও দেখা গিয়েছিল ভিডিও ফুটেজে। সে সময়ে উক্ত ভিডিও ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হলেও জেলা পুলিশের পক্ষে কোনরুপ ব্যবস্থা নেয়নি অস্ত্রধারী শ্যামলের বিরুদ্ধে। এমনকি ভিডিওতে দেখা যাওয়া সেই অস্ত্রটিও উদ্ধারের কোন পদক্ষেপও নেয়া হয়নি অধ্যবদি।
এলাকাবাসীর দাবি: চিহিৃত আওয়ামী দোসর একাধিক বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামী গিয়াসউদ্দিন ওরফে ডাকাত গেসুর পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেয়া হোক।




