নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আজমেরী ওসমানের ক্যাডার, পাগলা হামিদের সহযোগী বিসিক চাঁদনী হাউজিং এলাকার অস্ত্র, মাদক ব্যবসায়ী অভিকে প্রায় সময়ই ফতুল্লা থানায় অবস্থান করতে দেখা যায়। থানার একাধিক অফিসারের সঙ্গেও তাঁর সখ্যতার অভিযোগ উঠেছে। একজন চিহ্নিত অপরাধীর এভাবে থানায় যাতায়াত নিয়ে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে চাঁদনী হাউজিং অপরাধের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এই হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের জিম্মি করে পতিতা, মাদক, অস্ত্র এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন এই পাগলা হামিদ। অপরাধ সাম্রাজ্য ধরে রাখতেই পাগলা হামিদ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে যুবদল নেতা অভিকে। আর বিএনপিকে দমনে ব্যবহার করছে আজমেরী ওসমানের রেখে যাওয়া অস্ত্র।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কিছুদিন পূর্বে আগে পঞ্চবটী চাঁদনী হাউজিং এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ব্যবহৃত অস্ত্রের বেশীর ভাগই আজমেরী ওসমানের। ওই সংঘর্ষে পাগলা হামিদের সমর্থকেরাও অংশ নিয়েছে। কথিত যুবদল নেতা অভি পাগলা হামিদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী সরকারের সময়ে চাঁদনী হাউজিং পাগলা হামিদের নিয়ন্ত্রণ থাকলে সরকার পরিবর্তনের পর এই হাউজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে অভি। বর্তমানে পাগলা হামিদের ক্যাডার এবং অস্ত্র ব্যবহার করে অভি এবং পল্লব এলাকায় ত্রাসে রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপির রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে পাগলা হামিদ পলাতক সন্ত্রাসী আজমেরী ওসমানের নির্দেশে বিসিক শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আর এসব করতে গিয়ে বিএনপিকে বিতর্কীত করতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। বিএনপির মধ্যে বিরোধ তৈরি করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে পাগলা হামিদ গং।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাগলা হামিদ যুবদল কর্মী অভির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পাগলা হামিদ। বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে যেসব ক্যাডার পাগলা হামিদের সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে সেসব ক্যাডাররা অভির হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাগলা হামিদ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদনী হাউজিংয়ের অধিপত্য ফিরে পেতে তৎপর রয়েছে। আর একাজে ব্যাবহার করছে যুবদল কর্মী অভিকে। শেষ পর্যন্ত পাগলা হামিদের মিশন সফল হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় একটি কারখানার ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবদলের দুপক্ষের মধ্যে ১ ঘণ্টা এ সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষে এনায়েতনগর ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন খোকার ছেলে রাকিব (২৩), বিএনপির কর্মী রফিক (৪০) ও স্থানীয় বাসিন্দা আসমাউল হোসেনের ছেলে ইমরান হোসেন (১৩) আহত হয়। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা খোকা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় যে ক’জনকে আসামী করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে অভি অন্যতম।




