ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় যুবদল নেতা মামুনের শেল্টারে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজি সহ নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে মুস্তাকিম আরিফ ও সাজিদ বাহিনী। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিকচ্ছুক এলাকাবাসী জানান যুবদলনেতা মামুনের শেল্টার পেয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাইনবোর্ড এলাকার শহীদুল্লাহর পুত্র মুস্তাকিম আরিফ ও মোশারফ এর পুত্র সাজিদ।
এরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, জমিজমা দখল, চাঁদাবাজি সহ এমন কোন কাজ নেই যা করে না। গতকাল রাতে পুলিশ চাঁদাবাজির অভিযোগে সাজিদ নামে একজনকে আটক করলেও অন্যরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এ ব্যাপারে মোছাম্মৎ কহিনুর নামে এক মহিলা মুস্তাকিম আরিফ, সাজিদ সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ গতকাল রাতে মোশারফ এর পুত্র সাজিদকে আটক করে।
মোসাঃ কহিনুর পিতা: মৃত শহিদুল ইসলাম, স্বামী: শামছুল হক, সাং- সাইনবোর্ড, শান্তিধারা ১নং রোড, থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জ বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তাতে তিনি উল্লেখ করেন, আসামী- ১। জাহাঙ্গীর আলম পিতা: মৃত আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া, ২। জামাল পিতা: অজ্ঞাত, ৩। জামান পিতা: মৃত মফিজ উদ্দিন, ৪। ইমরান পিতা: নজরুল ইসলাম,৫। সোহেল পিতা: মজিবর রহমান, ৬। কাজী সাজিদ পিতা: কাজী মোশারফ, ৭। কাজী মোস্তাকিম আরিফ পিতাঃ কাজী শহিদুল্লাহ সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন সাইনবোর্ড শান্তিধারা সাকিনস্থ ২২ শতাংশ সম্পত্তি আমার স্বামী- শামছুল হক বায়নানামা দলিল সূত্রে মালিক হইয়া বাউন্ডারী ওয়াল দিয়া এবং বর্ণিত সম্পত্তিতে ঘর উঠাইয়া ভোগ দখলে নিয়োজিত আছে। বর্ণিত সম্পত্তি হইতে ৮.২৫ শতাংশ সম্পত্তি নিয়া আসামীদের সহিত বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। উক্ত বিরোধের জের ধরিয়া বিজ্ঞ আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলমান আছে। বিজ্ঞ আদালত হইতে বিরোধপূর্ণ ৮.২৫ শতাংশ সম্পত্তিতে স্থাপনা স্থাপন (নির্মাণ) কাজের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উক্ত আসামীরা জোর পূর্বক পেশী শক্তি খাটাইয়া নিষেধাজ্ঞাকৃত সম্পত্তিতে স্থাপন নির্মাণের চেষ্টা করিয়া আসিতেছে।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ১০/০৮/২০২৫ তারিখ বেলা অনুমান ১২:৪৫ ঘটিকার সময় উক্ত আসামীগণ বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করিয়া আমার সম্পত্তিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে। আমি ও আমার বোন- মাহিনুর বিরোধীয় সম্পত্তিতে উপস্থিত হইয়া আসামীদেরকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করিতে নিষেধ করায় আসামীরা আমাকে ও আমার বোনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে আসামীগণ ক্ষিপ্ত হইয়া প্রত্যেকের হাতে ধারালো চাপাতি, রামদা, ছোরা, লোহার রড, পাইপ, লাঠিশোঠা সহ সজ্জিত হইয়া বেআইনী জনতাবদ্ধে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করতঃ মারপিট করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। একপর্যায়ে ৩নং আসামী জামানের হুকুমে ১নং আসামী জাহাঙ্গীর আলম তাহার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বোন মাহিনুর (৩৫) এর কপালের বাম পার্শ্বে স্ব-জোরে কোপ মারিয়া কাটা রক্তাক্ত জখম করে। আমার বোন রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হইয়া মাটিতে লুটাইয়া পড়িলে ২নং আসামী জামাল আমার বোনের গলায় পরিহিতা ১.৫ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, মূল্য অনুমান ২,৪০,০০০/- টাকা নিয়া যায়। আমি আমার বোনকে আসামীদের কবল হইতে রক্ষা করিতে গেলে ৪, ৫ ও ৬নং আসামীরা তাহাদের হাতে থাকা লাঠিশোঠা দ্বারা আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাইরায়া নীলাফোলা জখম করে। আমাদের ডাক-চিৎকারে আমার ছোট বোন- নাজমা আক্তার (২৮) আগাইয়া আসিলে ৬ ও ৭নং আসামীদ্বয় সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাহার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি মারিয়া নীলাফোলা জখম করে এবং পরিহিত কাপড় ধরিয়া টানা হেচড়া করিয়া শ্লীলতাহানী ঘটায়। আমাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে আসামীরা বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও খুন জখমের হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। আমার বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।
সাজিদ আটক হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি হলেও শেল্টার দাতা মামুন ও মোস্তাকিম আরিফ গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকা বাসী তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মামুনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ( ০১৭১১-২৬৪৩@@) একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।




