নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ পরিদর্শক ও স্থানীয় এক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী মো. মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়া একাধিক মামলা করেও সুফল পাচ্ছেন না। বরং আদালতের ১৪৫ ধার আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম ও সাবেক এমপি গাজীর সহযোগী স্থানীয় ভূমিদস্যু মোবারক।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ থানার খাদুন মৌজার জেএস খতিয়ান নং-৭৪, দাগ নং-৭১৪ ও ৭৪৯ নম্বর জমি নিয়ে মো. মোস্তফা মনোয়ার ভূঁইয়া বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে আদালত ১৪৫ ধারা জারি করেন।
ইতোমধ্যে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম ও মোবারককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নোটিশে বলা হয়, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কার্যক্রম থেকে উভয় পক্ষকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত উভয় পক্ষকে আগামী ১/০৮/২০২৬ তারিখে হাজির থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ১৪৫ ধারায় মামলা হলে আদালত সাময়িকভাবে জমির শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৫ ধারা জারি করে থাকেন। এতে জমির দখল-স্বত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় না, শুধু বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয়।
তবে আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করেই জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্তরা।
জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম রূপগঞ্জ থানায় কর্মরত থাকাকালীন ভূমিদস্যু মোবারকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তিন শতাংশ জমি নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করেন। জহিরুল বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
রূপগঞ্জের সাবেক এমপি গাজীর সহযোগীদের ঘনিষ্ঠ মোবারক বিগত সময়ে ভুক্তভোগী মোস্তফাকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে রেখেছিলেন। মোবারক ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। এরই মধ্যে ইয়াবা সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।




