ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় এক মগের মুল্লুক রাজত্ব কায়েম হয়েছে। বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিনের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। গত কয়েক মাসে বন্দর পরিণত হয়েছে খুনি, ছিনতাইকারী, মাদক বিক্রেতা ও ডাকাতদের অভয়ারণ্যে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ পুলিশ সদস্যরাও এখন রাজপথে অনিরাপদ।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ভয়াবহ ধসে খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) বর্তমান ওসির ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
পুলিশি ইতিহাসে লজ্জাজনক অধ্যায়:
বন্দরের আইনশৃঙ্খলা কতখানি ভেঙে পড়েছে, তার বড় উদাহরণ হলো পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি অস্ত্র ছিনতাই। গত মে মাসে চৌধুরী বাড়ি এলাকায় অপরাধী ধরতে গিয়ে দুর্ধর্ষ ‘সিফাত বাহিনী’র রামদার কোপে দুই পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত হন এবং তাঁদের হাত থেকে শর্টগান ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন যে ওসি নিজের ফোর্সের নিরাপত্তা ও সরকারি অস্ত্র রক্ষা করতে পারেন না, তিনি পুরো বন্দরবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখবেন?
রক্তাক্ত বন্দর: একের পর এক হত্যাকান্ড
মদনগঞ্জে ড্রেজার ব্যবসা ও মাদকের প্রতিবাদ করায় মাকসুদুর রহমান জুয়েলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা এবং অতি সম্প্রতি এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজে মাত্র একটি মোবাইল ফোনের জন্য ১৮ বছরের তরুণ হোসিয়ারি শ্রমিক জোবায়েরকে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে বন্দর। ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে জোবায়েরের মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ জনতা মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করতে বাধ্য হয়।
মামলার বদলে ঘুষের নেশা:
অপরাধ দমনের চেয়ে বর্তমান প্রশাসনের ‘বাণিজ্যিক’ মনোভাব এখন ওপেন সিক্রেট। নিহত জোবায়েরের শোকাতুর পরিবার যখন থানায় মামলা করতে যায়, তখন এসআই মাসুদ তাদের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। যদিও বিক্ষোভের মুখে ওই এসআই-কে ক্লোজড করা হয়েছে, কিন্তু ওসির কমান্ড ও তদারকির অভাবকেই এই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। এছাড়াও বন্দর বাসস্ট্যান্ডে ‘ঢালী বিরিয়ানি হাউজে’ প্রকাশ্যে লুটপাটের ঘটনাও পুলিশের নিস্ক্রিয়তাকেই প্রমাণ করে।
আস্থা হারাচ্ছেন সংসদ সদস্য (এমপি):
বিশ্বস্ত সূত্রমতে, বন্দরের এই ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপরাধে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি)। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ওসির অযোগ্যতা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও এখন বর্তমান ওসির অপসারণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
বন্দরবাসী এখন নিরাপদ জীবনের গ্যারান্টি চায়। অবিলম্বে এই ব্যর্থ ওসিকে প্রত্যাহার করে একজন দক্ষ ও সাহসী কর্মকর্তার হাতে বন্দরের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সর্বস্তরের জনগণ।




