সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডে ফের নিজেদের আধিপত্য জানান দিতে আওয়ামী লীগের পূর্নবাসনকারী সন্ত্রাসী কথিত যুবদল নেতা পরিচয়দানকারী রুহুল আমিন ভোলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় আহত হয়েছে বিএনপির ৩ নেতাকর্মী। এদের মধ্যে আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে ৬নং ওয়ার্ডের সুমিলপাড়া সাতঘোড়া সিমেন্ট কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শাহ আলম মানিকের সাথে জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধ রয়েছে ঐ ওয়ার্ডের আবুল ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী শায়লার পরিবারের সাথে। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাবে শাহ আলম মানিক বিএনপি নেতা হওয়ায় তাঁকে তার ক্রয়কৃত জমি দখল নিতে বারবার বাঁধা প্রদান করে। পরে ০৫ আগস্টের পর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ বিতাড়িত হলে গত বছরের সেপ্টেম্বরে শাহ আলম মানিক তার জমি দখলে নেয়ার উদ্যোগ নিলে কাউন্সিলর মতির সহযোগী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ কে পূর্নবাসনকারী রুহুল আমিন গ্রুপ আবুল গ্রুপের হয়ে প্রতিনিয়ত বাঁধা প্রদান করতে থাকে। বৃহস্পতিবার শাহ আলম মানিক, তার স্ত্রী, পুত্র, ভাই ও বোনদের জড়িয়ে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আবুলের ভাই বাবুলকে বাদী করে কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে। শাহ আলম মানিক মামলার বিষয়ে বাবুলকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদকালে রুহুলের নেতৃত্বে তার গ্রুপের সন্ত্রাসী কাইল্যা স্বপন, ইয়াবা রাসেল, নাদিম, রমজান সহ ৫০/৬০ জনের সন্ত্রাসী সুমিলপাড়া স্কুলের সামনে থাকা শাহ আলম মানিক সহ তার লোকজনের ওপর গুলি বর্ষণ করে এবং মামুন মাহমুদের পক্ষে ভোট চেয়ে শাহ আলম মানিকের ব্যানার ফ্যাস্টুন ছিঁড়ে ফেলে ও বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় শাহ আলম মানিক গ্রুপের ২ জন ও বাবুল নামের একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এবিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ আলম মানিক বলেন,আমি আমার বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় রুহুল আমিন তার ৫০-৬০ জন সহযোগীদের নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তবে,কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে আমি নিশ্চিত নই। আর আমি লোকমুখে শুনেছি রুহুলের লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে। তবে এটি আমি নিশ্চিত নই। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে। আমার কাছে হামলার সিসি টিভি ফুটেজ রয়েছে।
এবিষয়ে কথিত যুবদল নেতা রুহুল আমিন কে কল দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনূর আলম বলেন, মারামারির ঘটনার পর আমি টিম পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।
গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলে, না গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত অভিযোগ করতে আসেনি।
উল্লেখ্য, এর আগে (০৬ মার্চ) বৃহস্পতিবার আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল নামক একটি গার্মেন্টসের ঝুঁট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রুহুল আমিন গ্রুপে সাথে সাগর গ্রুপের হামলায় অস্ত্রের মহড়া হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।




