নিজস্ব প্রতিনিধি
আগামী ২৮ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনেও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান চেয়েছিলেন বিগত বছরের নির্বাচনের মতই বিনা ভোটে তার পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলের আইনজীবীরা। তারা দলীয় প্যানেলের বাহিরে গিয়ে আইনজীবীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও লড়াই করে যাচ্ছেন। বিএনপির মুল প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের শীর্ষ নেতারা নিয়মিত হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন বিদ্রোহী প্যানেলের আইনজীবীদের। নির্বাচন থেকে সরাতে নানা চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয় তখন কেন্দ্রীয় আইনজীবী ফোরামের নেতাদের বিশেষ তদবিরে ম্যানেজ বিদ্রোহী প্যানেলের তিন আইনজীবীকে বহিষ্কার করানো হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট আইনজীবী সমিতি তলবী সভার মাধ্যমে আওয়ামীলীগের আমলের সভাপতি মোহসীন মিয়া ও রবিউল আমিন রনির পরিষদকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এডহক কমিটি গঠন ও নির্বাচন কমিশন গঠন সহ পরবর্তী মাসের ৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। ওই নির্বাচনে একই প্যানেল থেকে বিএনপির ১৫ জন ও জামায়াত ইসলামীর ২জন আইনজীবী একক প্রার্থী থাকায় বিনা ভোটে ভোট গ্রহণের পুর্বেই ২৫ আগস্ট নির্বাচিত হয়ে যান।
বিগত বছরের ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে সভাপতি পদে রেজাউল করিম খান রেজা ও সাধারণ সম্পাদক পদে এসএম গালিব বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনতে চাইলেও তাদের কাছে বিক্রি করেনি। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র হিসেবে সমিতির নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করতে চাইলে সেখানেও তাদের কাছে ফরম বিক্রি করেনি বিএনপির গঠিত চাটুকার নির্বাচন কমিশন। উল্টো সেদিন আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলায় রেজা খান ও গালিব সহ তাদের সহকর্মীদের জিম্মি করে বেদম মারধর করেন সাখাওয়াত ও আনোয়ার প্রধান সহ তাদের বাহিনীর লোকজন। ওইদিন গালিবের বন্ধু আইনজীবী আব্দুল মোমেনের নাক ফাঁটিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
কিন্তু এ বছর আবারো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন রেজা খান ও এসএম গালিব। নির্বাচনে এবারো দল থেকে তাদেরকে অপকৌশলে বঞ্চিত করা হলে তারা বিদ্রোহী প্যানেল নিয়ে মাঠে নামেন। রেজা খান সভাপতি ও এসএম গালিব সাধারণ সম্পাদক সহ ১৪জনের একটি প্যানেল নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে যান তারা। একই সঙ্গে এবার প্রথমবারের মত বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলের মতই বিএনপির জোটের বাহিরে গিয়ে হাফিজ মোল্লাকে সভাপতি ও মাঈন উদ্দীন মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ জনের পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করে জামায়াত ইসলামীরা আইনজীবীদের সংগঠন ল’ইয়ার্স কাউন্সিল।
আইনজীবীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সরকার হুমায়ুন কবিরের জয়ের সম্ভাবনা একেবারেই ফিকে হয়ে গেছে হাফিজ মোল্লা ও রেজা খানের অংশগ্রহণে। শীর্ষ লড়াইয়ে হাফিজ মোল্লা ও রেজা খানের মধ্যেই হবে পারে চূড়ান্ত লড়াই। বিএনপি প্যানেলের সেক্রেটারি প্রার্থী আনোয়ার প্রধানের জয় নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে আদালতপাড়ায়। সেক্রটারি পদেও এসএম গালিব ও মাঈন উদ্দীন মিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঠিক এমন বিষয়টি আচ করতে পেরে বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেল ও জামাতের প্যানেলের আইনজীবীদের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপির আইনজীবীরা। ১৮ আগস্ট মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলের আইনজীবীদের জোর করে মারধর করে বসিয়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথাটি জেনে গেলে সেদিন কোর্টেই আসেনি বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলের আইনজীবীরা।
সেদিন নির্বাচন থেকে সরাতে বিএনপি নেতা সাখাওয়াত সহ তাদের অনুগামীরা ঢাকা দৌড়ঝাপ শুরু করেন। ঢাকা থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেলকে সরে যেতে চাপ প্রয়োগ করানো হয়। কিন্তু নির্বাচন থেকে না সরার কারনে রেজা খান ও এসএম গালিব সহ বিদ্রোহী প্যানেলকে সমর্থন করায় আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন মোল্লাকেও আইনজীবী ফোরামের সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার ঘোষণা করানো হয়। কিন্তু তাতেও নির্বাচন থেকে সরেনি বিএনপির বিদ্রোহী প্যানেল। আইনজীবীরা বলছেন, রেজা খান ও গালিবের প্যানেলের কারণে আইনজীবীদের ভোটের অধিকার পুনুরুজ্জীবিত হয়েছে। তারা প্যানেল না দিলে জামায়াতও পৃথক প্যানেল দিতো না। সেজন্য রেজা খান ও গালিব প্যানেলের প্রতি আইনজীবীদের সহানুভুতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।




