সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে থানা পুলিশকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে বহাল তবিয়তে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে মাদক কারবারিরা বলে অভিযোগ এ এলাকার বাসিন্দাদের। থানা পুলিশের কোন অভিযান না থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা।আদমজী এলাকার নতুনবাজার, বিহারী ক্যাম্পসহ একাধিক এলাকার মাদক ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে। এই মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে জমজমাটভাবে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও থানা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে। ফলে তাদের গ্রেফতার করার বিষয়ে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। এমন অভিযোগ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় সূত্র জানায়, আদমজী নতুন বাজার এলাকার পক্ষী মুজিবরের ছেলে নাহিদ (৩৫), নাহিদের ভাই রাব্বি (২০), মিজান (২৫), টাল মজিবুরের ছেলে তুষার (৩৫), আদমজী সুমিলপাড়া পাম্প হাউজ এলাকার বাবলা (৩৬), বিহারি কলোনির ছোট মসজিদ স্কুলের পাশে আরমান (৩৭), বিহারী ক্যাম্প ৩নং বালুর মাঠ এলাকার জলিলের ছেলে ওকিল (৪২), আকাশ (২০), আদমজীর পাশে নদীর পাড়ের বিল্লাল (২৮), লোহা মানসুরের ছেলে পিচ্চি, তাজুর ছেলে সারোয়ার, ফকিরার ছেলে ছনু, জাকির, শাকিলের ছেলে চাঁন, ভাত মুন্নার ছেলে হীরা, মাদক ব্যবসায়ী শুক্কুর, কাল্লু, বারেকের ছেলে ইরফান, দুঃখিনী, জাহিদ, ফাকু, বালতি মুন্নার ছেলে সোহেল, ইবরাল, জাহাঙ্গীর, খুরশিদের ছেলে সাজ্জাদ, মেজরের ছেলে মিথুন, মোস্তফার ছেলে লামিম, বাবুসহ মাদকের ডিলার নাহিদ এবং ভুয়া সাংবাদিক তুষার তাঁদের মাধ্যমে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করে এই মাদক ব্যবসায়িরা। গত কয়েকদিন আগে মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মুস্তাক (৪৫) নামে এক নাপিতকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় মাদক সম্রাট নাহিদ ও তুষার বাহিনী। এ ঘটনায় আহত মুস্তাকের ভাই বাদী হয়ে নাহিদ ও তুষার সহ তাদের বাহিনীর ১৩ মাদক ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলার এক আসামি সোলায়মান (২৭)কে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মূলহোতারা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এলাকাবাসী আরও জানায়, মাদকের ডিলার নাহিদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ এক ডজন মামলা রয়েছে। একাধিকবার সে গ্রেফতারও হয়েছিল। কিন্তু মোটা অংকের টাকা খরচ করে জামিনে বেরিয়ে আসে। তার সহযোগি তুষার পুলিশের সোর্স হওয়ায় পুলিশের তৎপরতার খবর আগেই পেয়ে যায় মাদকের ডিলার নাহিদ। এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাসহ বিহারী কলোনি পুরো এলাকা মাদকের ডিলার নাহিদের নিয়ন্ত্রণে। বৈষম্যবিরোধী মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে নাহিদ দিনে এলাকায় থাকে না। রাতে আসে। তার প্রধান সোর্স চাচাতো ভাই মাদক ব্যবসায়ী তুষার ও দুই ভাই মিজান ওরফে ডিলার মিজান রাব্বি এই তিন জনকে দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে নাহিদ। এসব মাদক ব্যবসায়ীর কারণে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় হাত বাড়ালেই মিলছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। এদিকে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের ভূমিকাকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছে এলাকাবাসী। তারা সেনাবাহিনী, র্যাব-১১’র অভিযানের মাধ্যমে এসব আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।




