ষ্টাফ রিপোর্টার:
আমিরউল্লাহ রতন আওয়ামীলীগের অন্যতম একজন দোসর। যিনি কাশিপুরের আলোচিত-সমালোচিত সাবেক চেয়ারম্যান এম.সাইফউল্লাহ বাদলের ছোটভাই ও বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে ছিলেন। শুধুমাত্র বড়ভাই থানা আওয়ামীলীগৈর সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান থাকার সুবাদে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার কওে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে ভাই সাইফউল্লাহ বাদল ও ভাতিজা নামজুল হাসান সাজন বিএনপির কিছু অর্থলোভী নেতাদেরকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ ও সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে পালাতে পারলেও পালাতে হয়নি আমিরউল্লাহ রতনকে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যসুত্রে জানা যায়, কাশিপুর ইউপির পুরো অপরাধ জগতগুলো নিয়ন্ত্রন করতো সাইফউল্লাহ বাদলের ভাই আমিরউল্লাহ রতন, অপরভাই খোকন এবং ছেলে নাজমুল হাসান সাজনগং। পুরো ইউপি জুড়ে ভুমিদস্যুতার অন্যতম হোতা ছিলেন বাদলপুত্র সাজন এবং ভাই রতন। জমি ক্রয়-বিক্রয় এমনকি নতুন বাড়ি নির্মান করতেও টাকা দিতে হতো এদেরকে। এলাকাতে দামী জমিগুলো ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মুল্যে তা সংগ্রহ করে চড়া দামে অন্যত্র বিক্রি করতেন এ রতন ও সাজন। এছাড়াও পুরো কাশিপুরে মাদকের অঘোষিত হাটের মহানায়কও ছিলো বাদলপুত্র নাজমুল হাসান সাজন। আওয়ামী দুঃশাসনামলের পুরো ১৭ বছর বাদল-রতন-সাজন ছিলো স্থানীয়দের কাছে একটি আতংকের নাম। বাদল চেয়ারম্যান তার সাঙ্গপাঙ্গদের অন্যতম রেহান শরীফ বিন্দু,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইউব আলী,উকিলপুত্র আলআমিনসহ শতাধিক অপরাধীকে কাছে টেনে নিয়মিতভাবে তাদের মাধ্যমে কাশিপুরের হাট-বাজার-ঘাট-পশুরহাট,ড্রেজার ব্যবসা-ভুমিদস্যুতা ও মাদক ব্যবসা এমন কোন অপরাধকর্ম ছিলনা যা বিগত ১৭ বছর তাদের মাধ্যমে হয়নি। ৫ আগষ্টের পর সাইফউল্লাহ বাদল,রেহান শরীফ বিন্দু,ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইউব আলী,উকিলপুত্র আলআমিন,পুত্র সাজনসহ সঙ্গীয়রা পালালেও এখন নিজ এলাকা কাশিপুর ছেড়ে মাসদাইর কবরস্থান সংলগ্ন জার্জিস গার্ডেনে জেলা যুবদলের এক প্রভাবশালী নেতা আশ্রয়ে নিরাপদেই রয়েছেন আমির উল্লাহ রতন এমনটাই জানালেন স্থানীয়রা।
তারা আরও বলেন,শামীম ওসমান তার বড়ভাইয়ের মত সম্মান করতেন ইউপি চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদলকে। সেই সুযোগে নিজের ভাই আমিরউল্লাহ রতনকে একাধিকবার বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেন। একদিকে কাশিপুরে অপরাধের জগত হতে টাকা আর অপরদিকে বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা কামিয়েছেন এ আমিরউল্লাহ রতন। তারা আরও বলেন,জুলাই-আগষ্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে বড়ভাই সাইফউল্লাহ বাদলের নির্দেশে ভাতিজা সাজনসহ সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে কাশিপুর ও আশপাশ এলাকায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলো এ আমিরউল্লাহ রতনগং। তার বড়ভাই সাইফউল্লাহ বাদল পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকাতে নিজস্ব ফ্লাটে অবস্থান করলেও রতন মাসদাইরে অবস্থান করে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নিয়মিতভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিকসুত্রে জানা যায়।
সুত্রটি জানায়,গত মাসে কাশিপুরের রনি গার্মেন্টস এর সামনে রাতের আধারে অয়ন ওসমানের ব্যানারে যে ঝটিকা মিছিলটি বের হয়েছিলো সেখানেও নাকি আমিরউল্লাহ রতন ও ভাতিজা নামজুল হাসান সাজনের যোগসাজেস রয়েছে।
বর্তমানে অপারেশন ডেভিল হান্টের ফ্ইেস ২ অভিযানে আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসর অমিরউল্লাহ রতনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের গ্রেফতারের জন্য জেলা পুলিশ ও র্যাবের সার্বিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন শান্তিকামী সাধারন মানুষ।




