ষ্টাফ রিপোর্টার
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা আপিলে জয়ী হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারী) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানিতে তার আবেদনটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপটঃ
এর আগে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রূপগঞ্জ-১ আসনের এই প্রার্থীর কাগজপত্রে ত্রুটি ও অন্যান্য কারিগরি কারণ দেখিয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। ওই সময় প্রার্থীতা বাতিলের ঘোষণায় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করলেও মোহাম্মদ দুলাল হাল ছাড়েননি।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দেন।
ইসির রায় ও আইনি বিজয়ঃ
নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে মোহাম্মদ দুলালের আইনজীবী তার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও সঠিক নথি উপস্থাপন করেন। কমিশন উভয় পক্ষের যুক্তি খণ্ডন শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশ বাতিল করে মোহাম্মদ দুলালকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে রূপগঞ্জ-১ আসনে ভোটের লড়াইয়ে তার অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
মাঠে ফেরার আনন্দঃ
প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ার খবর রূপগঞ্জে পৌঁছানোর সাথে সাথেই মোহাম্মদ দুলালের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর মতে, দুলালের প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মদ দুলাল বলেন:
“আলহামদুলিল্লাহ, সত্যের জয় হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তারা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে আমাকে ন্যায়বিচার দিয়েছেন। রূপগঞ্জের আপামর জনতা আমার সাথে ছিল এবং আছে। আমি মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে পিছপা হব না।”
নির্বাচনী সমীকরণঃ
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে যেখানে রাজনৈতিক মেরুকরণ অত্যন্ত প্রখর, সেখানে মোহাম্মদ দুলালের মতো একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটের লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তার যে জনপ্রিয়তা রয়েছে, তা বড় দলগুলোর প্রার্থীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এখন প্রতীক বরাদ্দের অপেক্ষাঃ
এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামবেন তিনি। রূপগঞ্জের রাজপথে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু—তৃণমূলের প্রিয় মুখ দুলাল সাহেব কি পারবেন ভোটের মাঠে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে?




