সেবা গ্রহীতার আইডি লক ও নায়েব বদলী
ষ্টাফ রিপোর্টার:
আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌর ভূমি অফিসের নির্ধারিত দালাল ইয়ানুছ মিয়ার বিরুদ্ধে ভূমি উন্নয়ন কর বা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে দেখা যায়, গোপালদী ভূমি অফিসের আওতাধীন রামচন্ড্রী মৌজার ই-নামজারী ২০২৬-১০০১০০ নম্বর খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর বা সরকারি রাজস্ব, যেখানে ১৯৭৬ সাল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর খাজনা আসে ৩১,১৫৯ টাকা সেখানে অভিযোগ রয়েছে, সেবা গ্রহীতা জাকির হোসেনের কাছ থেকে ২৫,০০০ টাকা নেওয়ার পর পরবর্তীতে শ্রেণি পরিবর্তন করে মাত্র ১,৩৭১ টাকা সমপরিমাণ খাজনা অনলাইনে আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে সেবা গ্রহীতা জাকির হোসেন খাজনার রসিদে ১,৩৭১ টাকা দেখে বাকি টাকার ফেরত চাইলে দালাল ইয়ানুছ মিয়া টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দালাল ইয়ানুছ মিয়া সেবা গ্রহীতা জাকির হোসেনকে বলেন, “কন্ট্রাকে নিয়ে কাজ করি, বাকি টাকা অডিট ও নায়েবকে দিতে হইছে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব খাতের ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ক্ষেত্রে ফাঁকি দিয়ে অডিট ও নায়েবের নাম ব্যবহার করে দালাল ইয়ানুছ মিয়া নিজেই ২৩,৬২৯ টাকার সমপরিমাণ অর্থ আত্মসাত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, দালাল ইয়ানুছ মিয়া প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের ফলে তাকে একাধিকবার অফিস থেকে বের করে দেওয়ার পরও স্থানীয় নেতাদের টাকা দিয়ে পুনরায় অফিসে দালালি শুরু করেন। এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অবগত রয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে, আড়াইহাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোস্তাফিজুর রহমান ইমন, সেবা গ্রহীতা জাকির হোসেনের ভূমি উন্নয়ন করের আইডি স্থগিত করেন বলে জানা গেছে। পরে, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবগত করা হয়েছে।
সরকারি রাজস্ব টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই, যেখানে সাধারণত দুর্নীতি তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরদারি প্রত্যাশিত, সেখানে বিষটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে এলে, গোপালদী ভূমি অফিসের বর্তমান নায়েব ফরিদা বেগমকে দ্রুত বদলির আদেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে ফরিদা বেগম কোনো মন্তব্য করেননি।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার যেখানে সরকারি রাজস্ব আদায়ে প্রশাসন ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করছে, সেখানে গোপালদী ভূমি অফিসে রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গোপালদী ভূমি অফিসের একজন কর্মরত ব্যক্তি ফোনের মাধ্যমে জানান, গোপালদী পৌরসভায় প্রতি শতাংশ খাজনা সাধারণত ১০ থেকে ১৫ টাকা হারে আদায় করা হয়। সেই হিসাবে অভিযুক্ত খাজনাটি রাজস্ব আসে ৩১১৫৯ টাকা কিন্তু অভিযুক্ত খতিয়ানটি যাচাই করে দেখা গেছে, রাজস্ব আত্মসাত করে প্রায় ২৩ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে ১৩৭৩ টাকা খাজনা আদায়ের পর।
অডিট ও নায়েবের নাম করে আত্মসাৎকৃত অর্থ দালাল ইয়ানুছ মিয়া নিজেই আত্মসাত করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসি ল্যান্ড কর্তৃক সেবা গ্রহীতার আইডি লক করা হলেও অভিযুক্ত দালাল ইয়ানুছ মিয়ার বিরুদ্ধে টাকা ফেরত বা এখন পর্যন্ত সরকারী রাজস্ব আত্মসাতের প্রমানিক ঘটনার পরও দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।




