সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঝে মাঝেই ঝটিকা মিছিল ও শোডাউন করে প্রকাশ্যে নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ভেতরগত নানা প্রস্তুতির খবর আসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবার গোপনে বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন করে চলেছেন। এরই মধ্যে কয়েক জায়গাতে বিক্ষিপ্ত সভা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের ব্যানারেও হয়েছে মিছিল।
২০২৪ এর ৫ আগষ্টের আগে পরে নারায়ণগঞ্জ ছাড়েন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মী সহ নেতৃবৃন্দরা। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পদধারী নেতারা এখনো দেশের কারাগারে, বিদেশে মাটিতে ও দেশের বিভিন্ন এলাকাতে পলাতক জীবনে রয়েছেন।নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতারা পলাতক থেকে নারায়ণগঞ্জকে অস্থির করার ষড়যন্ত্র করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমানের থেকে নেতাকর্মীদের ওপর এসেছে নানা নির্দেশনা। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলার পলাতক আসামি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে গডফাদার শামীম ওসমানের নির্দেশ মোতাবেক সিদ্ধিরগঞ্জে বিশালাকাড়ে মাঠে নামার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক এদের অনেকে আবার নিজ দলের সাইনবোর্ড পাল্টিয়ে অন্য দলে যোগ দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের নতুন বাজার হাজী বাড়ির আওয়ামী নেতা ইসমাইল ও তার বোন জামাই কদমতলী চুন্নুর বাড়ির যুবলীগ নেতা শাওন ইতোমধ্যে ঢাকায় পলাতক আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করেছেন। গত ০৫ আগস্টের পর তারা পলাতক থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের গ্রেফতার অভিযান না থাকায় শামীম ওসমানের নির্দেশে এলাকায় ফিরে বিভিন্ন গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে যাচ্ছেন।স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা পলাতক ও গা ডাকা দিলেও গ্রেফতারকৃত নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের দুই সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল ও যুবলীগ নেতা শাওন ০৫ আগস্টের পর সাময়িক নিশ্চুপ থাকলেও, এখন অনেকটা বেপরোয়া। অনেকটা নির্ভয়ে তারা গোপনে সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষ হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার জন্য কাজ করছেন।পাশাপাশি, ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টাও চালিয়েছেন। এবিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিএনপি নেতৃবৃন্দরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং শহরের ভেতরের অলিগলিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, তাঁতীলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল ও প্রতিবাদী শোডাউন করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দিব্যি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামিরা বেশিরভাগই এলাকায়। পুলিশের এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের বেশিরভাগ লোকজনই আওয়ামী লীগের সময়ের। তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে আওয়ামী লীগের লোকদের। এজন্যই তারা আসামি ধরছে না।




