ষ্টাফ রিপোর্টার:
গত ১০ জুন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান মুন্সি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলার কুতুবপুরে গিয়ে সেখানে মাদক বিরোধী অভিযানের ঘোষনা দেন। সেই ঘোষনা পর শনিবার ১৩ জুন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস্ তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুব আলমের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির যৌথ দল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ফতুল্লা মডেল থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের পাগলা, বৌ বাজার, শাহী মহল্লা ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। মাদক অধ্যুষিত ফতুল্লার অন্যতম কুতুবপুরে বিশাল এ লোক দেখানো অভিযানে মাত্র ১৬০ পিস ইয়াবা ও ১০০গ্রাম গাজাঁ উদ্ধারসহ ৯ জন বিশিষ্ট মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে যা নিয়ে পুরো কুতুবপুর জুড়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে কুতুবপুরে লোক দেখানো এ মাদক বিরোধী অভিযানকে “You run away, we are coming” তোমরা পালাও আমরা আসছি” বলে দাবী করছেন কুতুবপুরের সর্বসাধারন।
তবে মাদকের অন্যতম ঘাটি পাগলার কুতুবপুর থেকে বিশাল অভিযানে যৎসামান্য মাদক উদ্ধার যেন হাসির খোরাকে পরিনত হয়েছে পুরো কুতুবপুর জুড়ে। কারন যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ইয়াবা এবং কয়েক মন গাজাঁ বিক্রি হচ্ছে সেখানে সামান্য পরিমানে এ মাদক উদ্ধার কার্যক্রমটি সত্যিই হাসির বিষয়। অথচ ঘোষনা ছাড়া একই দিনে থানাধীন মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকা হতে ১৫ কেজি গাজাঁসহ তিনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুতুবপুরের একাধিক মানুষ জানান, প্রথমত মাদক বিরোধী অভিযান চলবে সেটা ঘোষনা দেয়ার কি প্রয়োজন ছিল পুলিশ সুপারের। মাদকের কড়ালগ্রাসের কারনে জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লাতে যেহারে অপরাধ বেড়েছে সে সর্ম্পকে নতুন করে বলার কিছু প্রয়োজন নেই। ঘোষনা দিয়ে অপরাধ নির্মূল শতভাগ সফল হয়েছে এমন নজির বাংলার জমিনে রয়েছে কিনা সেটা আমাদের কারোর জানা নেই।
তাছাড়া পুরো কুতুবপুর জুড়ে কে বা কারা মাদক বিক্রি করছে এবং মাদক বিক্রির টাকায় প্রচুর বিত্তভৈবরের মালিক বনে গেছেন সেটাও কারোর অজানা নেই। কুতুবপুরে কোন বিএনপি নেতার শেল্টারে তার ভাই-ভাতিজাসহ কারা মাদকের বিশাল হাট বসিয়েছে সেটাও ভালভাবে অবগত রয়েছে থানা পুলিশ। এছাড়াও উক্ত মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোন সমাজপতি,পুলিশ কিংবা সাংবাদিক নিয়মিতভাবে মাসোহারা নিচ্ছে সেটা স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রশাসনের কর্তাবাবুরাও ভালভাবে জানেন। কোন মাদক ব্যবসায়ীর টাকা দিয়ে বিএনপির কোন নেতা দামী আইফোন এবং ৮০ লাখ টাকা গাড়ি উপহার নিয়েছেন এবং পাগলা এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আক্তার ওরফে কিলার আক্তার। এছাড়াও রয়েছেন মিথুন ও শাহাদাত।
গতকাল পাগলা এলাকায় যে সকল জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে সেখানে কি পরিমানে মাদক উদ্ধার করা যাবে সে সর্ম্পকেও কিন্তু থানা পুলিশ শতভাগ অবগত। কিন্তু মাদকের যে মুল ঘাটি পাগলা ষ্টুডিও এলাকাতে কিলার আক্তার-মিথুন-শাহাদাতের যে বিশাল মাদক স্পটটি রয়েছে সেখানে কিন্তু কোন অভিযান চালায় নি যৌথ বাহিনী। স্থানীয়দের মতে,পুরো কুতুবপুর জুড়েই মাদকের অন্যতম সাপ্লাইয়ার হচ্ছে আক্তার ওরফে কিলার আক্তার। আক্তার ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পাগলা রেললাইন এলাকাতে যাদের মাধ্যমে কুতুবপুরের বিভিন্ন মাদক স্পটে মাদক সাপ্লাই দিচ্ছেন তাদের কাউকে কি গ্রেফতার করতে পেরেছিল পুলিশ? পারেনি কারন পুলিশ যদি মাদকের মুল হোতাকে আটক করে ফেলে তাহলে তাদের ভেতরে থাকা অর্থলোভী কর্মকর্তারা না খেয়ে মরার উপক্রম হবে বলে অভিমত স্থানীয়দের। এছাড়াও পাগলার কুতুবপুরে পুলিশের হয়ে যে সমস্ত সোর্সগুলো কাজ করে থাকেন তাদেরও রয়েছে একাধিক মাদক স্পট। তাদের অন্যতম শক্তি হচ্ছে তারা পুলিশের পক্ষে সোর্সও কাজ করে থাকে যে কারনে মাদক স্পটগুলো চালাতে তাদেরকে কোন প্রকার হিমসিম খেতে হয়না। আবার পুলিশের সাথে সোর্সদের মাত্রাতিরিক্ত সখ্যতা থাকার ফলে মাদকের মুল ডিলারদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয় বলে থানা পুলিশও মাদক বিক্রির সাথে সম্পৃক্ত রাঘব-বোয়ালদেরকে গ্রেফতারও করতে চায়না। যদি মাঝে-মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালায় যেটা হয়েছিল গতকাল শনিবার। আর গতকাল যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা কেউ রাঘব-বোয়াল নয় সবগুলোই চিনোপুটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ফতুল্লা থানা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে তার পরিবারের ভাই-ভাতিজাদের নিয়ন্ত্রনে কুতুবপুরের মাদকসহ সকল অপকর্ম। বিগত আওয়ামীলীগের শাসনামলে স্বেচ্ছাসেবকলীগের মীর হোসেন মীরুর মাদকসহ সকল অপরাধের ঘাটিগুলো নাকি উক্ত বিএনপি নেতা হেফাজতে রয়েছে। এমনকি কুতুবপুরে মাদকের ডন বলে খ্যাত আক্তার ওরফে কিলার আক্তার নাকি সপ্তাহে দুইদিন উক্ত নেতার বাড়িতে এসে মাদক বিক্রির লভ্যাংশের একটি অংশ দিয়ে যায়।
তারা বলেন,হঠাৎ বৃষ্টির মতই মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে হয়। এ ধরনের অভিযান যদি ঘোষনা দিয়ে করতে হয় তাহলে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পরিমানটা একটু বেশীই দেখা যায়।
স্থানীয়দের দাবী,যদি কুতুবপুর জুড়ে মাদক বিরোধী অভিযানই চলবে তাহলে পুলিশ সুপার কেনইবা ঘোষনা দিয়ে গেলেন। অপরাধ নির্মূল করতে গেলে ঘোষনা দিতে হবে কেন ? আর ঘোষনা দেয়ার মানে তো অপরাধীকে আগে থেকেই সতর্ক করে দেয়ার সামিল। তারা আরো বলেন, পুলিশ সুপারের সেই ঘোষনা কি অপরাধীদের এলাকা ছেড়ে সাময়িক সময়ের জন্য অন্যত্র চলে যাওয়া বার্তা নাকি অন্যকিছু?
ভবিষ্যতে মাদক বিরোধী অভিযান সর্ম্পকে কোন আগাম নির্দেশনা ছাড়া যেন পরিচালনা করা হয় সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের প্রতি সদয় আহবান জানান কুতুবপুরের সর্বস্তরের সাধারন মানুষ। পাশপাশি ফতুল্লা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ এর প্রতিও সর্বস্তরের সাধারন মানুষের আহবান মাদকের সাথে জড়িত কোন চুনোপুটি নয়,মাদকের গডফাদার আক্তার ওরফে কিলার আক্তার, মিথুন ও শাহাদাতগংদেও দ্রুত গ্রেফতার কওে আইনের আওতায় নেয়া হলে কুতুবপুরকে মাদকের রাহু থেকে মুক্ত করা সম্ভব।




