নিজস্ব প্রতিবেদক, বন্দর: নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভোলা থেকে ডেকে এনে এক যুবককে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে উপজেলার ঘারমোড়া এলাকার একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনতা বিষয়টি টের পেয়ে অপহৃতকে উদ্ধার করে এবং সাহাদাত (২৮) নামে এক অপহরণকারীকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ভুক্তভোগী শাকিল (২৫) ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার আহাম্মদপুর এলাকার সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাহাদাতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সাহাদাত তাঁকে জাহাজে ওয়েল্ডিং কাজের আশ্বাস দিয়ে বন্দরে আসতে বলেন। চাকরির আশায় বুধবার সকালে শাকিল নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে সাহাদাত, রাব্বি ও আক্তার তাঁকে জিম্মি করে পাশের একটি নির্জন আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মারধর করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালায় তারা।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘারমোড়া এলাকার ইমান শরীফের আমবাগানে শাকিলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে রাব্বি ও আক্তার দৌড়ে পালিয়ে গেলেও সাহাদাতকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। উত্তেজিত জনতা তাকে উত্তম-মধ্যম (গণপিটুনি) দেওয়ার পর বন্দর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাকিল বাদী হয়ে আটক সাহাদাত এবং পলাতক রাব্বি ও আক্তারের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় একটি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সাহাদাতকে বৃুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামী রাব্বি (মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে) এবং আক্তার (মৃত চারু মিয়ার ছেলে)-কে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। অপহরণ ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে।




