দীর্ঘদিন ধরেই শান্ত নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার মিশন নিয়ে মাঠে মেনেছে স্বেরাচারী খেতাব পাওয়া আওয়ামী দোসররা। ৫-ই আগষ্টের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতারা আত্মগোপনে চলে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া চামচা চামুন্ডাদের দিয়ে জেলাব্যাপী চালাচ্ছে অপতৎপরতা। এমনকি, মিছিল মিটিংয়ের নামে ছড়ানো হচ্ছে আতংক! আর পলাতক আওয়ামী দোসরদের এমন কান্ডে নিপদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে দলের সাধারন নেতাকর্মীদের।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে জেলাব্যাপী যে আওয়ামী দোসররা অপতৎপরতা চালাচ্ছে তারকে কে বা কাহারা অর্থের জোগান দিচ্ছে?? এমন খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, শহরের নয়ামাটি এলাকায় নেপাল হোসিয়ারীর মালিক নিহার দাস এ অর্থের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি, শহরের অবস্থিত নেহারের মালিকানাধীন নেপাল হোসিয়ারীর ভিতরে বসেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের কোথায় কোথায় নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামীলীগের মিছিল মিটিং এবং অপতৎপরতা চালানো হবে!
অভিযোগ রয়েছে, শহরের টান বাজার এস এম সালেহ রোড এলাকার মৃত নেপাল দাসের ছেলে নিহার। দীর্ঘ সময় ধরেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি। তবে, তাকে কখনই প্রকাশ্য রাজনৈতিক কোন কর্মসূচীতে দেখা যায়নি। বিষয়টি আশ্চর্যের হলেও, আওয়ামীলীগের বিভিন্ন গোঁপন মিশন বাস্তবায়নে আন্ডারগ্রাউন্ডে নিহারকে রেখেই গোঁপন মিশন বাস্তবায়ন করতেন আওয়ামী দোসররা। আর ৫-ই আগষ্টের পর পরই আওয়ামীলীগের গোঁপন মিশনে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক নয়ামাটি এলাকায় অবস্থিত নেপাল হোসিয়ারীর পাশের দোকানদাররা জানান, আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এ হোসিয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেক প্রভাবশালী নেতারাই আসতেন। সে সাথে দীর্ঘ সময় হোসিয়ারীর মালিক নিহারের সাথে একান্তে সময় কাটাতেন। তবে, কি কারনে জেলার শীর্ষ নেতারা নিহারের সাথে যোগাযোগ রাখতেন তা তারা জানেন না বলে দাবি করেন।
এমনকি, ৫-ই আগষ্টের পর হাসিনা সরকারের পতনের পর পরই নিহার কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যন। কিছুদিন পর আবারও নিয়মিত হোসিয়ারীতে তার ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তবে, রহস্যজনক বিষয়টি হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের কোন মিছিল কিংবা অপতৎপরতা ঘটানোর কিছুূদিন আগে থেকেই আওয়ামীলীগের কিছু লোকজন দলীয় ব্যানার নিয়ে নিহারের হোসিয়ারীতে চলে আসেন এবং এ হোসিয়ারীর ভিতর থেকেই সকল ধরনের পরিকল্পনা হয়ে থাকে বলেও পাশ্ববর্তী দোকানদাররা ধারনা করছেন। মূলত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিহারকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এর রহস্য উন্মোচন হবে বলেও ধারনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, এমন বিষয়ে আমরা অবগত নই। যেহেতু বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে কাজ করব এবং জেলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সকল ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




