নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে যাওয়া বহুল বিতর্কিত আজমেরী ওসমানের ক্যাডারদের সাম্প্রতিক ‘ঝটিকা মিছিলের’ অর্থের উৎস নিয়ে রাজনৈতিক পাড়ায় নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক মেম্বার জাকারিয়া ওরফে জাকিরের সাথে এখনো আজমেরী ওসমানের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে মাসে মাসে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা দেওয়া জাকির মেম্বারই এখন ওসমানদের ইশারায় নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিলগুলোতে নেপথ্যে থেকে অর্থ জোগান দিচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী আমলে ফতুল্লার বাড়ৈভোগ এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এই জাকির মেম্বার। ঝুট সেক্টর একচেটিয়া কবজায় রেখে তিনি নামে–বেনামে অঢেল ধন–সম্পদের মালিক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, টাকার গরমে ক্ষমতার দাপট বজায় রাখতে তৎকালীন সময়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদটি বাগিয়ে নিতে তাকে ১০ লক্ষ টাকা ঢালতে হয়েছিল বলেও জোর গুঞ্জন রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শামীম ওসমান ও আজমেরী ওসমানের সরাসরি ছত্রচ্ছায়ায় রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া জাকির মেম্বারের পক্ষে এখনো ওসমানদের পারিবারিক বলয় এবং তাদের আদেশের বাইরে চলা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একাধিক স্থানে আজমেরী ওসমানের অনুসারীরা হঠাৎ করে যে ঝটিকা মিছিলগুলো করেছে, তার পেছনে দেশে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশাল ফাণ্ডিং রয়েছে। আর এই ফাণ্ডিং বা অর্থ জোগানের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন ক্যাশিয়ার জাকির মেম্বার।
সচেতন মহলের মতে, বিগত আমলে জাকিরের মতো যারা সুবিধাভোগী ও টাকার মালিক হয়েছেন, তারা এখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এবং দলকে গোপনে সংগঠিত করতে এই ধরনের চোরাগোপ্তা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে জাকির মেম্বার সম্পূর্ণ ভোল পাল্টে দাবি করেন, তিনি এখন আর কোনো রাজনীতিতে যুক্ত নন এবং রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। ওনার দাবি, “আমি যে কমিটিতে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলাম, সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।” তবে সেই কমিটি কবে এবং কখন ভাঙলো—সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
একই সাথে, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জে আজমেরী ওসমানের ব্যানারে যে সমস্ত মিছিল ও মিটিং হচ্ছে, সেখানে তিনি এখনো নিয়মিত অর্থায়ন করে যাচ্ছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাকির মেম্বার তা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের গোপন মিটিংগুলোতে ওনার উপস্থিতি বা যোগাযোগের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করে এড়িয়ে যান।
তবে স্থানীয় দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। মুখে কমিটি ভাঙার দাবি কিংবা অস্বীকার করলেও খাতাকলমে ও দলীয় নথিতে এখন পর্যন্ত ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ পদে বহাল রয়েছেন তিনি।
ক্ষমতা হারিয়েও ওসমানদের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত জাকির মেম্বারের এমন গোপন অর্থায়নের সন্দেহ এবং ওনার অসংলগ্ন বক্তব্য স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের উচিত এই সমস্ত মাসোয়ারা দাতা ও অর্থ জোগানদারদের ব্যাংক হিসাব এবং বর্তমান কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে আনা।




