ষ্টাফ রিপোর্টার:
ফেন্সিডিলের সাথে যেন তার আত্মার সর্ম্পক গড়ে উঠেছে যা ছাড়া তিনি অন্যকিছু চিন্তা করতে পারেনা। ২০১৪ সালে একবার ফেন্সিডিলসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন তিনি। এবার সেই ফেন্সিডিলসহ দুই সহযোদ্ধা অপর বিএনপি নেতা শাহীন কাদির ও হযরতকে নিয়ে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। শুধু ফেন্সিডিল নয় পাশের একটি ছবিতে জুয়া খেলায় মত্ত হয়ে উঠেছেন এমনটাই স্থিরচিত্র দেখা যাচ্ছে কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো.আরিফ মন্ডলকে। শুধু বিএনপির সাধারন সম্পাদক পদেই খুশি নন তিনি। তিনি নাকি আবার আসছে ইউপি নির্বাচনে কাশিপুরের চেয়ারম্যান পদেও লড়বেন।
তবে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ মন্ডলকে নিয়ে যেন ইউনিয়নের সাধারন মানুষের মানুষের মাঝে অনুভুতিটা অন্যরকম। তাদের মতে,৫ আগষ্টের পর পুরো কাশিপুর জুড়েই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা আরিফ মন্ডল এখন স্থানীয়দের মাঝে আতংকের একটি নাম। পতিত আওয়ামী দোসরদেরকে টাকার বিনিময়ে এলাকাতে বসবাসের সুবিধা দেয়া,তাদের সাথে মিলিত হয়ে ব্যবসা বানিজ্য করাটা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে রুপ নিয়েছেন আরিফ মন্ডল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশিপুরের অনেক বাসিন্দা জানান, আরিফ মন্ডল ফেন্সিডিল আসক্ত অনেক আগ থেকেই। ইতিপুর্বে ফেন্সিডিল বিক্রির দায়ের ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তবুও সে এ পথ থেকে সরে দাড়াতে পারেনি। ২৪’র ৫ আগষ্টের পর থেকে আরিফ মন্ডল আগের চেয়ে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। সে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদেও বাসা-বাড়িতে হামলা-লুটপাট ও টাকার বিনিময়ে অর্থশালী আওয়ামীলীগের নেতাদেরকে পালাতে সহায়তা করা এবং এলাকাতে বসবাসের সুযোগ তৈরী করে দেয়াসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। সম্প্রতি সে পঞ্চবটী থেকে মুক্তারপুর উড়াল সড়কের নিচে রাতের আধারে ভেকু দিয়ে মাটি খুড়ে ডিপিডিসির কয়েক কোটি টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরি করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে আরিফ মন্ডলের বিরুদ্ধে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা-ডিপিডিসর কর্মকর্তা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে বিশাল এ অপকর্ম করলেও আরিফ মন্ডলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তারা আরও বলেন,আরিফ মন্ডল এর মত একজন পেশাদার ফেন্সি খোর যদি ইউপি চেয়ারম্যান হয় তাহলে মাদক নির্মূল তো দুরের উল্টো মাদক অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে রুপ ধারন করবে পুরো কাশিপুর ইউনিয়ন। তাদের দাবী,চেয়ারম্যান হিসেবে নয়,আওয়ামী দোসরদেরকে টাকার বিনিময়ে পালাতে সহায়তা এবং এলাকাতে থাকতে দেয়া,বৈদ্যুতিক ক্যাবল বিক্রি করাসহ নানা অপরাধে আরিফ মন্ডলকে দল থেকে বহিস্কারের পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা উচিত বিএনপি ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর।
হাতে ফেন্সিডিল ও পাশে জুয়া খেলায় মত্ত এ বিষয়ে জানতে কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো.আরিফ মন্ডলকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই আমি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো তাই কিছু কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে একবার আমাকে ফেন্সিডিল দিয়ে ডিবি পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়েছিলো। আপনি ছবিটি ভালভাবে দেখবেন আমার হাতে ফেন্সিডিলের বোতলটি বসানো হয়েছে মুলত সেটা ফেন্সিডিল না। জুয়া সর্ম্পকে তিনি বলেন,ভাই মাঝে মধ্যে ভাই-ব্রাদার-বন্ধুবান্ধব নিয়ে একটু কার্ড খেলি সময় কাটোনোর জন্য যা সবাই খেলে থাকে।
ছবিতে থাকা অপর বিএনপি নেতা শাহীন কাদির বলেন, ওটা একটা বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি প্রায় ৪/৫ বছরের আগের। এটা হয়তবা আমাদেরই কোন বন্ধু তুলেছিলো এবং কাউকে দিয়ে দিয়েছে। আসলে আরিফ মন্ডল সামনে চেয়ারম্যানী নির্বাচন করবে তো তাই ওর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।




