নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ন্যায়বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মারিয়া আক্তার নামের এক মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে মহানগর বিএনপি নেতা পরিচয় দানকারি জাকির খান ও তার পিএস পরিচয় দানকারি আবু সাইদের বিরুদ্ধে দেনমোহরের অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, পড়াশোনা চলাকালিন সময় পাইকপাড়ার বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান নুরের সাথে আমার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে কিন্তু দুই পরিবারের কেউ আমাদের সর্ম্পকটাকে মেনে নেয় নি। পরবর্তীতে বিষয়টা আমার ফুপা আবু সাইদ যিনি নিজেকে বিএনপি নেতা জাকির খানের পিএস হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি জানতে পারেন এবং এক প্রকার জোড় করে মাকসুদুর রহমান নুরকে তুলে নিয়ে আসেন, যা কিনা আমার জানা ছিলোনা। পরবর্তীতে আমার ফুপা আবু সাইদ ও তার দলবল মিলে আমার ও নুরের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক আমাদেরকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করান। যেখানে কাবিন দেয়া হয় ২০ লক্ষ টাকা, এর মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা উসিল যা আমি হাতে পাইনি ও ১০ লক্ষ টাকা দেনমোহর হিসেবে উল্লেখ ছিলো।
মারিয়া বলেন, বিয়ের পর প্রায় দুই মাস নুর ও তার পরিবার আমার ফুপা ও তার লোক জনের ভয়ে পালিয়ে ছিলো। পরবর্তীতে পারিবারিক ভাবে তাদের খুঁজে বের করে মিমাংসায় আনা হয়। এর পর প্রায় দেড় মাস আমি আমার শ্বশুরবাড়ি মানে আমার স্বামী নুরের বাড়িতে অবস্থান করি। পরে আমার গর্ভে সন্তান আসলে আমাকে না জানিয়ে আমার স্বামী নুর ঔষধের মাধ্যমে গর্ভপাত করায়, যা আমি পরবর্তীতে জানতে পারি। এ দিকে আমার ফুপা আবু সাইদ যিনি নিজেকে জাকির খানের পিএস পরিচয় দিয়ে থাকেন তার কুটকৌশলের বিষয় আমার বা আমার পরিবারের কোন সদস্যদের ধারনা ছিলো না।
বিয়ের শুরু থেকে তার লোভ ছিলো আমার দেনমোহরের ১০ লক্ষ টাকার দিকে যেটা আমরা পরে বুঝতে পেরেছি। আমার গর্ভপাতের খবর শুনে আমার ফুপা রাত ১২টায় বাজে নতুন কোর্টে এক উকিলের চেম্বারে আমাকে ও আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্যদের নানা হুমকী ধমকী দিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে আমার স্বামী মাকসুদুর রহমান নুর ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে আতাঁত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময় চুক্তি করেন আমাকে ডির্ভোস করিয়ে দিবে। যা সর্ম্পকে আমি বা আমার পরিবারের কোন সদস্যদেই অবগত ছিলাম না।
তিনি আরও বলেন, আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানা হুমকী দিয়ে ডির্ভোস দিতে বাধ্য করে। কিন্তু আমার দেনমোহরের ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে আমার ফুপা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আমার হাতে তুলে দেন আর বাকি টাকা জাকির খান নিয়ে গেছে বলে জানিয়ে দেন।
পরবর্তীতে আমি স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করি। এর পর থেকে আমার ফুপা আবু সাইদ বিভিন্ন সময় আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানা হুমকী দিয়ে আসছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার সব সময় আতংকের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাছি।
আপনাদের মাধ্যমে আমি বিএনপি নেতা জাকির খানের কাছে জানতে চাই আপনার কি এতোই অভাব ছিলো যে আমাকে ডির্ভোস করিয়ে দেনমোহরের টাকা আপনাকে নিতে হবে। আপনারও তো আমার বয়সের একটা মেয়ে আছে একবার তার দিকে তাকিয়ে দেখেন। আমি তো আপনার মেয়ের মত। একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হলে বাবা মা ও পরিবারের সদস্যদের উপর কি পরিমান মানসিক অশান্তি নেমে আসে তা আপনাকে বুঝাতে পারবো না।
আমার আরো একটি প্রশ্ন একজন অশিক্ষিত জুয়ারী ও অটো চালক এবং প্রশাসনের সোর্স কিভাবে আপনার পিএস হয়। যে কখনোই কোন রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো না। আমি প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে আকুল আবেদন করবো সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হউক। যাতে করে আমার মত কোন মেয়ের জীবন এই ভাবে নষ্ট না হয়। সেই সাথে আমার ন্যায্য পাওনা আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হউক।




