দাবি সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপন
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রনির ভাগিনার নেতৃত্বে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে একটি পোশাক কারখানায় অন্তত ৬ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সাথে জড়িত জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ভাগিনা রিফাত ঘটনার নেতৃত্ব দিলেও রহস্যজনক কারনে অভিযোগ থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রোমান জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির ব্যবসায়ীক অংশীদার এবং সালাম রনির অন্যতম সহোযোগিবলে স্থানীয়রা জানায়।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ইসদাইরের অক্টো অফিস এলাকার নিঝুম সোসাইটির গলি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. সাগর হোসেন।
ঘটনার শিকার সাগর ফতুল্লা থানার দেওভোগ নূর মসজিদ এলাকার শরিফ হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী।
সাগর বলেন, রোববার বিকেল আনুমানিক পৌনে চারটার দিকে এক বন্ধুর সঙ্গে নিঝুম সোসাইটির গলি দিয়ে যাওয়ার সময় ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে থাকা বন্ধুকেও অস্ত্রের মুখে হুমকি দেওয়া হয়। পরে সাগরকে বিসিকের একটি অফিসের ভেতর ছয় ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।
রাতেই নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন বলেও জানান।
অভিযোগে বিসিকের শাসনগাও এলাকার অরুন হাওলাদারের ছেলে ও যুবদল নেতা মশিউর রহমান ব্যবসায়িক অংশীদার মো. রাইসান রোমান (৩২), মো. আতিক ও রনির ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন মাসদাইরের আব্দুস সালামের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫ থেকে ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে রহস্য জনক কারনে রনির ভাগিনা রিফাতের নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরকে অভিযুক্তরা একটি প্রাইভেট কারে তুলে বিসিকের শাসনগাও এলাকার ‘এম্প্যায়ার কটন’ নামে একটি অফিসের ভেতর আটকে রাখে। পরে সেখানে তাকে লোহার দিয়ে এলোপাথারি মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে তারা সাগরের মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে ওই মুঠোফোন থেকে তার দুবাই প্রবাসী ভগ্নিপতি হিরু সিকদারকে হোয়াটস অ্যাপে কল করে মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে ৩ কোটি টাকা দাবি করে।
“অন্যদিকে আমার বন্ধু আমাকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনি পদক্ষেপের জন্য তৎপরতা শুরু করে। বন্ধুর এই তৎপরতার টের পেয়ে অভিযুক্তরা রাত আনুমানিক পৌনে দশটার দিকে আমাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়ার আগে আমি যদি তাদের দাবি করা টাকা না দেই এবং এ বিষয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাউকে জানাই তাহলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকি দেয় বলে ও জানান ভুক্তভোগী সাগর।
তবে প্রতক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে, বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে বাংলা ভবন সংলগ্ন নিঝুম আবাসিক সোসাইটির প্রথম গেইট দিয়ে বের হওয়া মাত্র সড়কের উপর দাড় করানো একটি প্রাইভেট কার থেকে
যুবদল নেতা রনির ভাগিনা ও সৈনিক লীগের সভাপতি নিহত মোকসেলুর রহমানের পুত্র রিফাতের নেতৃতে ্ব৪-৫ জন নেমে তাদরেকে মারধর শুরু করে। এ সময় এক যুবক নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তাকে ছেড়ে দিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপর যুবককে টেনে হিচড়ে প্রাইভেট কারে তোলার করে। এ সময় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ঐ যুবক সহযোগিকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে দিয়ে অপর যুবককে প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনাটি আশপাশের অনেকে দেখলেও সাহাযার্থে কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রাইভেট কার চলে যাওয়ার পর ঐ সাংবাদিকের নিকট স্থানীয় পথচারিরা এগিয়ে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাইসার রোমানের হোয়াটস অ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে তার অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। সামনা-সামনি কথা বলি। অনেক সময় অনেক কিছু ভুল হতে পারে আমার। সামনা-সামনি কথা বলবো।
ফতুল্লাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি ওসি স্যার দেখছেন। তিনি পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিবেন।
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহাবুব আলম জানান,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য যে,এ ঘটনায় উক্ত সাংবাদিক সালাম,রিফাত,রোমান ও রায়হানসহ অজ্ঞাতনামা জ্জ জনের বিরুদ্ধেও ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তবে সে সময় ঐ সাংবাদিকের সাথে অপর সাংবাদিক মশিউর রহমান রহমান রনি’র ভাগিনা এ ঘটনায় জড়িত বলেও জানান। তবে কি কারনে রনি’র ভাগিনা রিফাতের নামটি বাদ দেয়া হয়েছে তাও রহস্যজনক।
তবে সেই অভিযোগে উল্লেখিত ছিলো যে, বিষয়টি তাৎক্ষনিক মুঠোফোনের মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করি এবং তিনি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। বিবাদীরা মশিউর রহমান রনির লোক বলে পরিচয় দেওয়ায় আমি তাকেও মুঠোফোনে কল করি এবং বিষয়টি জানাই। এ সময় মশিউর রহমান রনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানালেও ঘটনার সাড়ে ৪ ঘন্টার পরও আমার বন্ধুর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।




