আশেকপুর ও মির্জাপুর নায়েবদের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার খাস জমি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: বগুড়া
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর তহশিলের নায়েব আজমত এবং শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর তহশিলের নায়েব স্বপ্না যোগসাজশ করে সরকারি খাস পুকুর, কবরস্থান ও ভিটাসহ প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের ১৩ বিঘা জমি মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অজ্ঞাত কারণে বগুড়া জেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এলাকাবাসীর ধারণা, জেলা প্রশাসন উক্ত দুই নায়েবের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ায় তারা বিরতিহীনভাবে খাস জমি, ভিটা, কবরস্থান ও পুকুর ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর অব্যাহত রেখেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আশেকপুরের প্রভাবশালী নায়েব আজমত শাকপালা মৌজায় পুকুর ও কবরস্থানসহ ৪৭০ ও ৫১৬ নং আরএস দাগের প্রায় ১০ বিঘা জমি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেন।
অন্যদিকে, মির্জাপুর তহশিল অফিসের প্রভাবশালী নায়েব স্বপ্না খাতুন মির্জাপুর মৌজার ৮৯ শতক খাস ভিটা জমি ৩টি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান।
উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও অজ্ঞাত কারণে বগুড়া জেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
সরকারি সম্পত্তি স্থানীয়ভাবে দেখভালের দায়িত্ব নায়েবদের দেওয়া আছে। নায়েবদের ত্রুটি-বিচ্যুতি বিবেচনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের এডিসি (রেভিনিউ)-এর ওপর ন্যস্ত। কিন্তু এডিসি (রেভিনিউ) খাস জমি বিক্রিতে জড়িত দুর্নীতিবাজ নায়েবদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, জেলা প্রশাসনের এডিসি (রেভিনিউ) শাখার কর্তাব্যক্তি হয়তো নায়েবদের কালো টাকার প্রভাবে প্রভাবিত অথবা তাদের ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
এই নীরবতার আসল রহস্য কী? সেলামি, নাকি ক্ষমতা?




