নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তেল চুরির মহোৎসব চলছে জ্বালানি তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে। দীর্ঘদীন ধরে স্থাণীয় প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে চোরাই তেলের রমরমা ব্যবসা চলে আসলেও রহস্যজনক নীরবতায় উৎসাহ পাচ্ছে তেল চোর মিলনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা।
এমনকি, যমুনা ও মেঘনা ডিপোর আশে পাশে গড়ে উঠা বিভিন্ন চোরাই তেলের দোকানগুলো থেকে র্যাব, ডিবি, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের নাম ভাঙ্গিয়ে মাসিক হাফতা তোলে থাকেন বলেও উঠেছে অভিযোগ। এদিকে, মিলনের চোরাই তেলের বিষয়ে, ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ মাসিক চাঁদা আদায় করলে তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করার অনুরোধ করেন। তাছাড়, সুনিদিষ্ট ভাবে অভিযোগ জানালে আমরা মিলনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের প্রথম ধাপ থেকেই শুরু হয় চুরি। নানা প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার তেল লোপাট হচ্ছে। জ্বালানি তেল সরবরাহের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিমাণে কম দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। ডিপো থেকে তেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে যাওয়ার পথে এই তেলচোর মিলনের নেতৃত্বেই তেল লোপাটের ঘটনা ঘটছে। এলাকায় চোরাই তেল বিকিকিনির জমজমাট সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এই তেলচোর মিলনের নেতৃত্বেই। জল পথে পরিবহণকালে জাহাজের গোপন খুপরির মাধ্যমেও তেল লোপাটের ঘটনা ঘটছে মিলনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের নেতৃত্বে। দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে তেল চোর মিলনের নেতৃত্বে তেলচুরির ঘটনা ঘটলেও তা ঠেকানোর কার্যত কোন উদ্যোগ নেই কারও। অভিযোগ রয়েছে, এই তেলচোর মিলন স্থামীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিশেষ পরিচয়দানকারী ব্যাক্তিদের মাসোয়ারা প্রদানের মাধ্যমে চোরাই তেলের ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলেও উঠেছে অভিযোগ।
আর এভাবেই বছরের পর বছর ধরে লক্ষ লক্ষ টাকার তেল লোপাটের ঘটনা ঘটে আসলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না এই তেল চোর মিলনের বিরুদ্ধে।
ফতুল্লায় যমুনা এবং মেঘনা অয়েল কোম্পনির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে যোগায়োগ করা হলে তারা জানান, বিভিন্ন এবং বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। তবে, তেলচোর মিলনের বিষয়ে এর আগেও একাধিক অভিযোগে উঠেছে। তেলচোর মিলনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশের অব্যাহত অভিযানে চোরাই তেল ব্যবসায়ীরা গাঁ দিয়েছে। এছাড়া চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা অনুযারী তেলচোরদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও ওসি জানান।




