সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী বিহারী কলোনি, নতুন বাজার তথা ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় এক কথিত বিএনপি নেতার শেল্টারে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন কুখ্যাত মাদক সম্রাট জাকির, জাহিদ ও ছনু। আদমজীর বিহারী কলোনি ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা মাঝেমধ্যে গ্রেফতার হলেও এই তিন মূল হোতা রহস্যজনক কারণে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁদের গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী, আঙুল উঠছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার দিকে। যাদের শেল্টারে বিহারী ক্যাম্পে চলছে রমরমা মাদক বাণিজ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আদমজী সুমিলপাড়া বিহারী ক্যাম্প ৩নং বালুর মাঠ এলাকার রুস্তম মেকারের ছেলে জাহিদ একজন চিহ্নিত মাদক সম্রাট। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মাদকের মামলা রয়েছে। অন্যদিকে বিহারী কলোনির আতঙ্কের নাম জাকির ও ছনু।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিহারি কলোনির পুরো মাদক সাম্রাজ্য এখন আওয়ামী লীগ নেতা ভোলা মেম্বারের ভাগ্নে জাকির, জাহিদ, ছনুর নিয়ন্ত্রণে। আর এসব মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী চাঁদাবাজ আকরাম। বর্তমানে আদমজী বিহারী ক্যাম্পে যে কয়টি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে মাদকের কারবার পরিচালিত হয় এরমধ্যে তারা একাই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছেন মাদকের।
এলাকাবাসীর দাবি, বিহারী ক্যাম্প থেকে ছিঁচকে মাদক বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও জাহিদ, জাকির ও ছনু দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো এলাকা। এছাড়াও জাহিদের স্ত্রী তাহমিনা, জাকিরের বোন জামাই জুয়েল ওরফে ফর্মা জুয়েল মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়। অভিযোগ উঠেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু অসাধু এসআই ও এএসআই তাঁদের কাছ থেকে প্রতিমাসে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাঁদেরকে গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন। কোনো এক অদৃশ্য কারণে তারা বারবার বেঁচে যাচ্ছে, যার ফলে অত্র এলাকায় মাদকের জয়জয়কার দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর তাঁদের কোনো সহযোগী মাদক মামলায় গ্রেফতার হলেও টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে ৩৪ ধারায় চালান। ফলে গ্রেফতারের সাথে সাথেই তারা আবার বেড়িয়ে যাচ্ছে জেল হাজতে যাওয়ার আগেই। সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ মাদকসহ জাহিদ কে গ্রেফতার করা হলেও থানায় চালান দেয়া হয় ৩৪ ধারায়। ফলে সেদিনই জামিনে বের হয় এ মাদক ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রশাসনও ম্যানেজ হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইয়াবাসহ সব ধরনের মরণনেশা ছড়িয়ে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই চক্রটি। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। আমি যোগদানের পর থেকে একাধিক অভিযান ও মামলা হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদক নির্মূলে এলাকাবাসীর সঠিক তথ্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।




