ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের ইস্পাহানি একরামপুর এলাকায় চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিবের নির্দেশ অমান্য করে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুনরায় এলাকায় পুনর্বাসন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি ও কথিত দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকের খবরও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও তাঁর পুত্র আবুল কাউছার আশা ২৩নং ওয়ার্ড এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রমজানের গ্যারেজ বন্ধ করে দেন এবং তাকে এলাকা ছাড়া করেন। সেই সাথে এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী থাকতে পারবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
তবে এই নির্দেশের এক মাস পার হতে না হতেই ইস্পাহানি একরামপুর এলাকার মনির, কাশেম ও রাকিবের আশ্রয়ে পুনরায় এলাকায় ফিরে আসে রমজান।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় ফেরার সুযোগ করে দিতে মনির, কাশেম ও রাকিবের সাথে রমজানের ৯০ হাজার টাকার একটি চুক্তি বা রফাদফা হয়। এলাকায় ফিরেই রমজান পুনরায় হানিফ মিয়ার দোকান ভাড়া নিয়ে আবারও গ্যারেজ ব্যবসা চালু করে।
এলাকায় ফিরলেও চুক্তির ৯০ হাজার টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় গত ১৩ জুলাই মাদক ব্যবসায়ী রমজানের সাথে মনির, কাশেম ও রাকিবের তুমুল হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরবর্তীতে এই বিরোধ মেটাতে ইস্পাহানি একরামপুর বাজারের একটি কথিত বিএনপি কার্যালয়ে আমানের নেতৃত্বে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশে ৯০ হাজার টাকার বিষয়টি রফাদফা করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয় এবং বাকি ৬০ হাজার টাকা আগামী ২ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে মর্মে মাদক ব্যবসায়ী হবি ও তার মেয়ে দায়িত্ব নেন।
সংসদ সদস্যের পুত্রের মাদকবিরোধী অবস্থান ও নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও প্রকাশ্য সালিশের ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবং মাদক ব্যবসায়ী রমজানসহ তাকে আশ্রয় দাতা মনির, কাশেম ও রাকিবকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউছার আশার হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।




