স্টাফ রিপোর্টার: জার্সি বদলাতে যে আলসেমি নেই সেটা আবারও প্রমাণ করলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দরের বিএনপির পল্টিবাজ নেতা বিল্লাল হোসেন। বিল্লাল একজন আইনজীবি হয়েও পেশার চেয়ে ভূমিদস্যুতা আর ভিলেজ পলিটিক্সকে ব্যবসা হিসেবে রপ্ত করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করেন। রাজনীতির সূত্রিতায় স্বার্থের জন্য বিল্লাল হোসেন কখনো তৈমুর আলম খন্দকার,কখনো হাজী নূরউদ্দিন কখনো বা আবার আতাউর রহমান মুকুলের পিছনের ঘুর ঘুর করেছেন। তাদের কাছ থেকে মধু খাওয়া শেষে এখন সান্নিধ্য পেয়েছেন অতিথি পাখি খ্যাত ব্যবসায়ী মডেল গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান ওরফে মডেল মাসুদ। মাসুদকে এমপি বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে তার সঙ্গে ভিড়েছেন কুটিল মনের অধিকারী এই নেতা। এতোদিন আতাউর রহমান মুকুলেরটা খেয়ে পড়ে ভোল পাল্টে তার কর্মীদের সঙ্গে মিশে নিজের অবস্থান পাকা পোক্ত করেছেন। আর তাই সে মুকুলের কর্মীদের নানা প্রলোভনে ফেলে মাসুদ বলয়ে নিতে তালগোল পাকাচ্ছেন। রীতিমতো কর্মীদেরকে টাকার লোভ দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করছেন তিনি। বিল্লালের অনৈতিক কর্মকান্ড বিএনপির রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করছে। এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা পরিষদের দুই দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান মহানগর বিএনপির সাবেক সহ–সভাপতি ও যুগ্ম আহবায়ক আতাউর রহমান মুকুলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান,এ্যাড. বিল্লাল সুবিধাবাদী লোক। তার কাছে কোন রাজনৈতিক আদর্শ নেই। আমি তাকে অনেক বিশ্বাস করেছি কিন্তু উনি নিজ স্বার্থের জন্য আরেক পক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তার কাছে রাজনীতির চেয়ে সুবিধাটাই আসল। তিনি এখন একরকম ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে চলছেন। যখন যার কাছে সুবিধা পান তখন তার কাছেই যান। এই ধরণের নেতাদের থেকে সকলেরই সাবধান থাকা উচিত। এদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়,এ্যাড.বিল্লাল তার নিজ এলাকাতেও ভূমিদস্যূতার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পদ পদবী ব্যবহার করে সে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও দখলবাজি করে থাকে। আজ থেকে প্রায় ২০বছর আগে সে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৬নং ওয়ার্ডের রামনগর এলাকার রহিম নামে এক হিজড়ার সম্পত্তি দখল করে। এ বিষয়ে বিচার শালিসও হয়। বর্তমানেও একই এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা হাসেম,মান্নাহ ও তার বোনের ১০শতাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে। এই ১০ শতাংশের ওয়ারিশ তারা ৪ ভাই–বোন হলেও বিল্লাল শুধুমাত্র হাসেম সেক্রেটারীর অংশ কিনে পুরো জায়গা নিজ আয়ত্বে রেখেছে। বিল্লালের মতো একজন সুবিধাবাদী ব্যক্তি রাজনৈতিক পদ পদবী পাওয়ায় দেশের রাজনীতি অনেকটা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারী বিল্লালের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে সচেতন মহল মনে করেন। অপরদিকে মাসুদুজ্জামানের মতো ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে আগমন এবং ফায়দা লুটার বিষয়টি বিগত স্বৈরাচার সরকারের অনুরূপ সিদ্ধান্ত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই অভিমত। ব্যবসায়ীরা থাকবে ব্যবসা নিয়ে তাদের কাজতো জনপ্রতিনিধিত্ব নয়। এখানে একটি দলীয় ব্যানারে মডেল মাসুদের এমপি হওয়ার স্বপ্ন জনমনে নানা প্রশ্নের সঞ্চার করছে। এক্ষেত্রে দলের নীতি নির্ধারকদের গভীর বিবেচনা মাফিক কাজ করা উচিত বলে তৃনমূলের দাবি। কেননা টাকার জোরে হঠাৎ করেই একজন উড়ে এসে জুড়ে এমপি হয়ে যাবেন তা সত্যিকার অর্থেই বেমানান। এটা দীর্ঘ দিনের মাঠে থাকা ত্যাগী নেতাদের জন্য রাজনৈতিক অপমৃত্যু হবে বলা যায়।




