নারায়ণগঞ্জ বৃহস্পতিবার | ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  সর্বশেষঃ
লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের প্রবেশগেটে নতুন তালা, দুই পক্ষকে চাবি হস্তান্তর
দেশে গোয়েন্দা সংস্থা কি এখনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে?
সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-২৬
বিজয়া দশমী/অশ্রুসিক্ত নয়নে নারায়ণগঞ্জে দেবী দুর্গার বিদায়
অতিরিক্ত ডিআইজির ট্রিপ্লেক্স বাড়িতে চলত যত অপকর্ম, লাগত রেজিস্ট্রেশন ফি
অগ্রবাণী প্রতিদিনের প্রকাশক-সম্পাদক স্বপন কুমার পোদ্দার আর নেই
কাশিপুর ভোলাইলে মূর্তিমান আতংক নামধারী যুবদলের ক্যাডার পাগলা সোহেল!
সিদ্ধিরগঞ্জে কথিত বিএনপি নেতার শেল্টারে রমজান বাহিনীর কোটি টাকার মাদক ব্যবসা !!  
সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল হতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
লক্ষী নারায়ণ দূর্গা মন্দির নিয়ে বিএসপি নেতা টনি মল্লিকের হুশিয়ারী!
আমতলীতে অসহায় বৃদ্ধার পাশে স্বপ্নছোঁয়া,
সৌদিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনারের ব্যর্থতার বলি “নজরুল-সিতি”
রাজনৈতিক সরকারের সময়ও মব থামছে না কেন, নেপথ্যে কী?
বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯ মাসে নিহত ৪০
মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক
কবিরাজির আড়ালে নারীদের ফাঁদ: স্ত্রী ফেলে নতুন নারীকে নিয়ে ফতুল্লায় আস্তানা!
রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
সোনারগাঁয়ে পানাম নগরী ও জাদুঘর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
দল চায়নি, বিশেষ কারণে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক হোসেন
শেরপুরে পূজামণ্ডপ ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারিতে সিআইডি
সোনারগাঁয়ে কারবারি-সেবীসহ গ্রেফতার ২১
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, অস্ত্র, মাদক এবং কিছু প্রশ্ন
সাত খুন, সিনহা ও আবরার হত্যা মামলা আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ
মিরুর ক্যাডার সাদ্দামের বিরুদ্ধে বৃদ্ধার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
“ভয় নেই, পাশে আছি” নিশ্চিন্তে উৎসব উদযাপন করুন-কর্নেল আরাফাত
লালপুর অর্ণিবান ক্রীড়া সংঘকে সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্যারাম ও টিভি উপহার
সোনারগাঁয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার-২২, ইয়াবা উদ্ধার 
সোনারগাঁয়ে চণ্ডীপাঠ ও মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু
সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ
সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ২৯
Next
Prev
প্রচ্ছদ
সিলেটে পাথরের সঙ্গে লুট হয়ে গেল শাহ আরেফিন টিলাও

সিলেটে পাথরের সঙ্গে লুট হয়ে গেল শাহ আরেফিন টিলাও

প্রকাশিতঃ

টিলা ধ্বংসে জড়িত ২৬ জনের চক্র

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা ধ্বংসের পেছনে স্থানীয় ২৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ চক্রে রয়েছেন বিএনপি, আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশে টিলাটি বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সুত্র: সমকাল

টিলার কিছু অংশ ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনের পর কেবল হযরত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানাসহ একাংশ অক্ষত ছিল। স্থানটিকে কেন্দ্র করে অবশিষ্ট ছিল কিছু গাছ ও বড় আকারের কয়েক হাজার সংরক্ষিত পাথর। এক বছরে শুধু শাহ আরেফিনের (রহ.) আস্তানাই নয়, পুরো টিলা ও পাশের মসজিদ-কবরস্থানের জায়গাও ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন করেছে পাথরখেকোরা। ফলে ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত জায়গাটিতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

সম্প্রতি পাথর নিয়ে হইচই শুরু হলে অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী। সে সুযোগে তিন দিন ধরে টিলা ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন থেকে সরে দাঁড়ায় পাথরখেকোরা। তাদের লক্ষ্য ছিল টিলা এলাকার অবশিষ্ট মসজিদ ও কবরস্থানে জায়গা ধ্বংস করে পাথর উত্তোলন করা। কিন্তু প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে তারা সরে দাঁড়ায়– এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।

সোমবার সরেজমিন একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এত অভিযান ও পাথর উদ্ধারের পরও শাহ আরেফিন টিলা এলাকা থেকে এখনও যন্ত্রপাতি সরায়নি পাথরখেকোরা। গত দুই দিনে কেউ কেউ সরিয়ে নিলেও অনেকে অপেক্ষায় আছেন আবার পাথর উত্তোলনের। গতকাল বিকেলে চার শ্রমিককে একটি গর্ত থেকে মেশিন সরিয়ে নিতে দেখা গেল। তারা মালিকের নাম বলতে চাননি। বিভিন্ন গর্তে পাইপ ও পাথর উত্তোলন যন্ত্র দেখা গেছে।

শাবল আর খুন্তির আঘাতে এক বছরে ১৩৬ একরের শাহ আরেফিন টিলার অবশিষ্ট অংশ এখন বিরান ভূমি। এখন সেখানে টিলা বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। স্থানে স্থানে পুকুরসম গর্ত। টিলার ভেতরে একাধিক রাস্তা করা হয়েছে পাথর বহনের জন্য। পুরো টিলা এলাকায় এমন ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে দেখলে মনে হবে কেউ বোমা ফেলেছে। সীমান্তঘেঁষা টিলাটির পাদদেশের পানি একসময় স্থানীয় সূর্যখাল হয়ে সোনাই নদীতে গিয়ে পড়ত। সেই খালটি ভরাট হয়ে গেছে পাথর উত্তোলনের বালু ও মাটিতে।

স্থানীয় চিকাডহর, জালিয়ারপাড়, মটিয়া টিলা শাহ আরেফিন টিলাটি ঘিরে রাখলেও এখন সব একাকার। ছনবাড়ির বাসিন্দা আব্দুন নুর নামের এক যুবক জানান, তিন দিন ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ আছে। টিলার তো আর অবশিষ্ট কিছু নেই। কোটি কোটি টাকার পাথর সেখান থেকে দিনরাত উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে।

শাহ আরেফিন টিলা ও পাথর কোয়ারি
বিখ্যাত দরবেশ হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) থেকে টিলার নামকরণ হয়েছে শাহ আরেফিন। তিনি কোম্পানীগঞ্জের চিকাডহর মৌজার ওই টিলায় কয়েকশ বছর আগে আস্তানা গেড়েছিলেন। সেখানে তিনি মাঝেমধ্যেই বসতেন। পরে ওই স্থানে স্থাপনা গড়ে তোলেন ভক্তরা। বড় আকারের কালো রঙের পাথর দিয়ে সেখানে সীমানা গড়ে তোলা হয়। পরে ওই আস্তানায় ওরসও হতো, যেখানে সারাদেশ থেকে জড়ো হতেন শাহ আরেফিনের (রহ.) ভক্তরা।

১৯৯৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ওই এলাকায় আরেফিন পাথর কোয়ারি চালু করে। তিনবার ইজারা দেওয়ার পর শাহ আরেফিন টিলার অস্তিত্ব রক্ষায় গেজেট থেকে কোয়ারি বাদ দেওয়া হয়। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত থেমে থেমে ধ্বংসযজ্ঞ চলে আরেফিন টিলা ও সেখানকার পাথর কোয়ারিতে। অবশিষ্ট থাকে দরবেশের আস্তানা এলাকা, মসজিদ, খেলার মাঠ ও কবরস্থান। কিন্তু গত এক বছরে আস্তানাসহ পুরো টিলাই ধ্বংস করা হয়েছে।

১৩৭ একর জায়গার মধ্যে ১০ একর ছিল মাজার, তথা আস্তানার ওয়াক্‌ফকৃত জায়গা। বাকি অংশ সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। কোয়ারি তালিকাভুক্তি থেকে বাদ পড়লে পুরো ওয়াক্‌ফের জায়গা ছাড়া বাকি অংশ চলে যায় খাস খতিয়ানে। পাথর কোয়ারি এলাকা ধ্বংসের অভিযোগে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরের ক্ষতি নির্ধারণী টিম তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে ১৩৭ দশমিক ৫০ একরের টিলাকে ‘মরা কঙ্কাল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এখন মসজিদ ও কবরস্থানের অংশবিশেষ ছাড়া সব এলাকাই ধ্বংস করা হয়েছে। সরকার কঠোর না হলে সেটিও বিলীন করে ফেলত তারা।

টিলায় ধ্বংসে ২৬ সদস্যের চক্র
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে পাথর লুট করতেন। ৫ আগস্টের পর নতুন করে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন শুরু করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাকর্মীসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জালিয়ারপাড়ের বাসিন্দা ও মাজারের সাবেক খাদিমের ছেলে মনির মিয়া, ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি ফয়জুর রহমান, পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেবুল আহমেদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজির উদ্দিন, উপজেলা তাঁতী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমাইল আলী, তাঁর ভাই ইব্রাহিম মিয়া, জামায়াতের ইয়াকুব আলী ও যুবদল নেতা বাবুল আহমদ।

চক্রে আরও আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হুশিয়ার আলী, শাহ আরেফিন ওয়াক্ফ এস্টেটের সাবেক মোতাওয়ালি আনোয়ার হোসেন আনাই, জালিয়ারপাড়ের কালা মিয়া, চিকাডহর গ্রামের শাহীন মিয়া, আব্দুর রশিদ, আইয়ুব আলী, আব্দুল কুদ্দুছ, বাবুলনগরের সোনা মিয়া, বাহাদুরপুরের রতন মিয়া, জালিয়ারপাড়ের হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগের বশর মিয়া (বশর কোম্পানি), জালিয়ারপাড়ের বাশির মিয়া ও আব্দুন নুর। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে টিলা কেটে পাথর লুট করা হয়। গত এক বছরে প্রতিদিন ২০-৪০টি ট্রাক পাথর সেখান থেকে বিক্রি করা হয়েছে।

আরেফিন ওয়াক্‌ফ এস্টেটের সাবেক মোতাওয়ালি আনোয়ার হোসেন আনাই জানান, তিনি শুরু থেকে মাজার, কবরস্থান ও মাঠ রক্ষার আন্দোলন করেছেন। পাথর উত্তোলনে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। বশর মিয়া বলেন, দলের মানুষ তাঁর বদনাম করছে। তিনি হালচাষ করেন। পাথর উত্তোলনে জড়িত নন। ইসমাইল আলী বলেন, আমি ব্যবসায়ী মানুষ। শ্রমিকরাই লুটপাট করেছে। আরেফিনের  সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, আরেফিন  টিলায় অভিযান ও সেখানকার পাথর লুট রোধ করতে গিয়ে চারবার পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে উত্তোলন বন্ধ আছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার জানান, এক বছরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক অভিযান করা হয়েছে আরেফিন টিলায়। কিন্তু টিলাটি রক্ষা করা যায়নি। আগে মামলাও হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোঃ শহীদুল্লাহ রাসেল

প্রধান নির্বাহীঃ

মোঃ রফিকুল্লাহ রিপন

সতর্কীকরণঃ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সকল স্বত্ব
www.jagonarayanganj24.com
কর্তৃক সংরক্ষিত
Copyright © 2024

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ

বনানী সিনেমা হল মার্কেট
পঞ্চবটী ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ফোন নম্বরঃ ০১৯২১৩৮৮৭৯১, ০১৯৭৬৫৪১৩১৮
ইমেইলঃ jagonarayanganj24@gmail.com

Website Design & Developed By
MD Fahim Haque
<Power Coder/>
www.mdfahim.com
Web Solution – Since 2009

error: Content is protected !!