ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত দশ দিনের ব্যবধানে দুই শিশুর মৃত্যুসহ তিনজন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা ও আড়াইহাজার উপজেলায় এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রূপগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আইভি ফেরদৌস বলেন, গত ১০ দিনে দুজন শিশু এসেছিল হাসপাতালে। হামের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ ছিলো রাইয়ান নামে এক শিশুর মধ্যে। আরেক শিশু নোহাশ জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল। পরে তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর থেকে আমাদের মাঠ কর্মীরা ২২০ জন শিশুর উপর জরিপ চালিয়েছে। তাদের মধ্যে হামের কোন লক্ষণ পাওয়া যায়নি। আমরা মেডিকেল টিম ও মাঠকর্মীরা মাঠে রয়েছেন।
হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া এক বছর বয়সী নোহাশের মা শাকিলা আক্তার বলেন,‘আমার ছেলে হামে আক্রান্ত ছিল।
গত ১৯ মার্চ সকাল ১১ টায় মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মারা যায়। আমরা রূপগঞ্জের চরচনপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতাম।
মারা যাওয়া আরেক শিশু রাইয়ান মিয়ার নানা শামীম মিয়া জানান, তার নাতী দীর্ঘদিন ধরে জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলো। গত ২৪ তারিখ অবস্থা খারাপ হলে তাকে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিলে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ২৪ মার্চ রাত ১০ টায় মারা যায়।
এদিকে, আড়াইহাজার উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, হাইজাদি ও উচিৎপুরা এলাকায় ৩ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। তাদের মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া উচিৎপুরা ইউনিয়নের সুমাইয়া বেগমের আট মাসের যমজ শিশু জোবায়েদা ও সাইফাকে হামের লক্ষণ নিয়ে গত ২৫ মার্চ মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অপরদিকে হাইজাদী ইউনিয়নের ছয় মাসের যোবায়েরকে হামের লক্ষণ নিয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই এলাকার ২০ পরিবারের শিশুদের উপর আমরা রিসার্চ করি। তবে তাদের মধ্যে কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ খানপুর তিনশ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের এখানে এখনো কোনো আক্রান্ত হওয়ার খবর পাইনি বা আসেনি। তবে আমরা প্রস্তুত আছি।’
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন অফিসার ডা. আফম মশিউর রহমান বলেন, ‘কিছু কিছু শিশু আক্রান্ত হয়েছে খবর পাচ্ছি। রূপগঞ্জের দুই শিশু মারা গেছে। তবে তাদের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। একজন মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মারা গেছে। আরেকজন সোরওয়ার্দী হাসপাতালে মারা গেছে। আসলে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। বাচ্চার জ্বর কিংবা সর্দি হলে পল্লী চিকিৎসকদের কাছে যায়। এটা না করে হাসপাতালে যাওয়া দরকার। বায়ু দূষণ ও শিল্প কারখানার কারণে এ জেলার পরিবেশ খুব খারাপ। তাই এ এলাকার শিশুদের প্রতি যতœ নেওয়া দরকার।’




