ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ জেলা আড়াইহাজার উপজেলার চিহ্নিত লেডি সন্ত্রাসী সীমা আক্তার, তার সহযোগী ডাকাত শাহিনুর বাহিনীর হয়রানি বন্ধ ও দখলকৃত বাড়ি উদ্ধার এবং বৃদ্ধ পিতা,দাদীকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করতে ুপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম আজাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলেজ ছাত্রী তাসনুভা জাহান পারুল।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানান।
তাসনুভা জাহান পারুল লিখিত বক্তব্যে বলেন,গত ২০০১ সালে আমার মাতা সীমা আক্তারের অনৈতিক সম্পর্কের কারনে আমার পিতা আমার মাতাকে আড়াই হাজার নারায়ণগঞ্জ সহকারী জজ (পারিবারিক) আদালত এর মাধ্যমে তালাক প্রদান করেন। তালাক প্রদানের সময় আমার বয়স ছিল মাত্র ০৪ বছর এবং আমার ছোট বোন তাবাসসুম জাহান শাহানাজ এর বয়স ছিল মাত্র ০২ বছর। আমাদের পিতা অনেক কষ্টে মায়ের অভাব বুঝতে না দিয়ে আমাদেরকে লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন। আমরা বড় হয়ে জানতে পারি আমাদের মাতা একাধিক বিয়ে করেছেন এবং সেই সংসারে তার আরো কন্যা ও পুত্র সন্তান আছে।
তারা হলো স্মৃতি আক্তার, শাওন ও সিয়াম।
আমার মাতা সীমা আক্তার বর্তমানে আমার পিতার সাথে আদালত-কর্তৃক তালাকের রায়, তার অন্যত্র বিয়ে এবং তার সন্তানগনকে অস্বীকার করছেন।
আমাদের পিতা তার সকল সহায় সম্পত্তি আমাদের দুই বোনের নামে ২০২২ সালে রেজিষ্ট্রি মূলে দলিল করে দেন। যেহেতু আমাদের কোন আপন ভাই নেই। সকল সম্পত্তির দলিল মুলে মালিক হয়ে আমরা দুই বোন নিজ নিজ নামে নামজারী করে ভোগ দখল করে আসছি।
বিএনপি পন্থী পরিবার হওয়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এসপি নজরুল ইসলাম বাবুর দেহ রক্ষীতা হিসেবে সীমা আক্তার সম্পত্তির লোভে আমাদের বাড়ি দখলের চেষ্ট করে।
কিন্তু স্থানীয় প্রতিবেশি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের সহায়তায় আমরা তাকে প্রতিহত করতে পেরেছিলাম।
জুলাই-আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আমার মাতা সীমা আক্তার বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এর নাম ব্যাবহার করে আমাদের বাড়ি দখলের চেষ্টা করে, উক্ত ঘটনা তৎকালীন সময় আইন শৃঙ্খলা,সেনাবাহিনী এবং মিডিয়ার ভাইদের সহযোগীতায় আমরা আমাদের বাড়ি রক্ষা করতে পেরেছিলাম কিন্তু উক্ত ঘটনার কারণে আমার পিতা স্ট্রোক করেন।
তারপর থেকে আমি আমার ছোট বোন, অসুস্থ পিতা এবং বৃদ্ধ দাদীকে-নিয়ে আমাদের বাড়িতে বসবাস করে আসছি, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমার মাতা সীমা আক্তার, তার কন্যা স্মৃতি আক্তার এবং স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীদের সাথে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পুনরায় আমাদের বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমাদেরকে মারধর করে এবং আমাদের বাড়ি দখল করে।
সীমা আক্তার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, তার ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং তাদের মায়ের নির্দেশে আমাদের বাড়ি দখল করেছেন।
আড়াই হাজার থানার এসআই আনোয়ার পারভেজ, সীমা আক্তারের হয়ে আমাদের বাড়িতে এসে জোরপূর্বক বেআইনিভাবে আমার পিতার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী- সীমা আক্তারকে আমাদের বাড়ির চাবি এবং দখল বুঝিয়ে দিয়ে যায়।
এসআই বলেন, এই মহিলাকে আশ্রয় না দিলে, তার সিদ্ধান্ত মেনে না নিলে আমাদেরকে এমন মামলা দিবে যাতে সারাজীবন জেলে কাটাতে হয়।
এসআই আনোয়ার পারভেজ বলেন, এটা নাকি নজরুল ইসলাম আজাদ এমপি সাহেবের নির্দেশ, তারপর সীমা আক্তার আমাদের দুই বোনের সম্পত্তি তার নামে লিখিত ভাবে নেওয়ার জন্য আমাদেরকে জিম্মি করে অত্যাচার করে।
আমি অনেক কষ্টে ২০ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে বাড়ি থেকে পালিয়ে আদালতে গিয়ে মামলা করি।
তারপর সীমা আক্তার, তার কন্যা স্মৃতি আক্তার, তাদের সহযোগী স্থানীয় ডাকাত-শাহিনুর, ডাকাত জাহাঙ্গীর, শাহিনুরের এক ভাই বশির এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা জুয়েল এর সহযোগিতায় আমার অসুস্থ পিতা, বৃদ্ধ দাদীকে জিম্মি করে রেখেছে। আমাদের বাড়িতে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্নালংকার,আসবাবপত্র, পুকুরের মাছ, টিনশীড বিল্ডিং করার সরঞ্জাম, টিনশীড বিল্ডিং এর টিনের চাল পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যায়।
এতে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এখানেও তারা শান্ত না হয়ে আড়াই হাজার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায মিথ্যা বানোয়াট হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমার ছোট বোনকে পুলিশে সোপর্দ করে আমাদের বাড়ি পুন: রায় দখল করে।
আমিও সেই মিথ্যা মামলার আসামি, সকল আসামিরা জামিনে আছি। সীমা আক্তার, তার সন্ত্রাসী বাহিনী,আড়াইহাজার থানা পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভয়ে আমরা দুই বোন বাড়িতে দূরের কথা এলাকাতে যেতে পারছিনা।
বর্তমানে আমার বৃদ্ধ দাদী, আমার অসুস্থ পিতা এবং আমার আদরের পালিত বিদেশি স্পীচ জাতের বিদেশি কুকুর হানি তাদের হাতে জিম্মি আছে। আমাদের বাড়ি তারা দখল করে রেখেছে। সীমা আক্তার এবং তার সহযোগীদের দাবি আমরা দুই-বোন যাতে আমাদের সকল সম্পত্তি তাদের নামে লিখিতভাবে দিয়ে দেই- নতুবা আমার বৃদ্ধ দাদী, অসুস্থ পিতা, আমার পালিত কুকুর হানিকে খুন করে ঘুম করে ফেলবে।
আমি এখন নিরুপায় হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আমাদের নারায়ণগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ এবং তার ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম রাকিব এর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা যাতে আমাদের বাড়িতে আবার নিরাপদ ও শান্তিপূর্নভাবে বসবাস করতে পারি।
নজরুল ইসলাম আজাদের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা হয়রানিমূলক-মামলা দিয়ে আমাদের যে হয়রানি করা হচ্ছে তার একটি সঠিক বিচার করে দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আমাদের স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ, তার ও ছোট ভাই-রাকিবুল ইসনাম রাকিব এর নিকট পূনরায় অনুরোধ করছি।




