ছবি- ফটোফাইল
ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপা এলাকার আলোচিত একটি পরিবারের নাম শহিদ ওরফে ডাকাত শহিদ। পরিবারে তিনি ছাড়াও তার ছেলে-মেয়েরা যেন আরো আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি রুপে পরিনত হয়েছে। বড় ছেলে আজমীর ওরফে ডাকাত আজমীর। পিতার পথ অনুসরন করে আজমীর নিজেও চুরি-ডাকাতি-মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে নেয়। ছোট ছেলে আসিফও এলাকাতে চুরি-ছিনতাইকাজে বেশ পারদর্শী। একমাত্র মেয়ে শরমী সেও এলাকায় আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী। ইসদাইরের অন্যতম মাদক বিক্রেতা শামীম প্রতিপক্ষের হাতে নিহতের পর তারই বন্ধু ও কেইস পার্টনার অন্যতম চিহিৃত মাদক বিক্রেতা স¤্রাটকে বিয়ে করে এ শরমী। আর বর্তমানে স্বামী-বড়ভাই ডাকাত আজমীরসহ প্রায় ৫০ জনের একটি বলয় নিয়ে পুরো সাহারা সিটির মাঠের চর্তুপাশে গড়ে তুলেছে বিশাল মাদকের হাট।
শুধু মাদকই নয় ফতুল্লার সাহারা সিটি মাঠে মাদকের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি চোরাই অটো-মিশুকের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে এলাকার চিহিৃত ডাকাত পরিবারের অন্যতম সদস্য ডাকাত আজমীরের বিরুদ্ধে। মাত্র ৩শ গজ দুরে ফতুল্লা মডেল থানা অবস্থিত হলেও তাদের নাকের ডগার পাশেই অটো-মিশুক চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা ডাকাত আজমীরের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না দেয়ায় পুলিশের প্রতি স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকার করতে দেখা যায়। অথচ প্রতিদিনই থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে মাসদাইর ও কাশিপুরের প্রতিটি মহল্লায় অভিযান চললেও অজ্ঞাত কারনে সাহারা সিটিসহ আশপাশ এলাকাতে মাদক বিরোধী অভিযান না চলাতে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। আবার অনেকে বলছেন “ঢাল মে কুচ কালা হ্যায়”।
সাহারা সিটির আশপাশে বসবাসকারী সাধারন মানুষের মতে,ডাকাত শহিদের পুরো পরিবারের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে রয়েছে। চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-মাদক বিক্রির বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে চালাচ্ছে অপরাধের বিশাল সা¤্রাজ্যে। এমন কোন অপরাধ নেই যা এ পরিবারের সদস্য দ্বারা হচ্ছেনা। এক সময়ে যুবলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা ডাকাত শহিদ ৫ আগষ্ট পরবর্তী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় জেল খেটে বের হয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে থেকে বর্তমানে পিতা-পুত্রের অপরাধের ধরন সেই আগের মতই রুপ নিয়েছে। থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক নেতার বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি করে সকল মালামাল লুটে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করেছে ডাকাত শহিদ পুত্র ডাকাত আজমীর। সেখানে থাকা স্বেচ্ছাসেবকলীগের বাড়িটি ভাড়াটিয়া শূন্য করে এখন সেখানে মাদক সেবনের আখড়া হিসেবে রুপান্তরিত করে তুলেছে ডাকাত আজমীর। তবে স্থানীয়দের মতে, এত অপরাধ করেও কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ডাকাত আজমীর ও তার বোন-ভগ্নিপতি। যুবসমাজের ধ্বংসের অন্যতম কারিগর ডাকাত আজমীরগংদের প্রকাশ্যে চলাচল ও মাদকের হাট গড়ে তুলেছে তবুও কেন পুলিশ এত নিরব তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যসুত্রে জানা যায়,দাপা এলাকার যুবলীগ নেতা শহিদ ওরফে ডাকাত শহিদের বড় ছেলে অপর ডাকাত আজমীর তারা উভয়ই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামী এবং চিহিৃত ডাকাত। দাপাসহ আশপাশ এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের পুরাতন সড়ক এবং এলাকার অলিগলিতে ডাকাতিসহ ব্যাপক অপরাধের মহানায়ক হিসেবে ব্যাপক সুপরিচিত আজমীর। প্রতিদিন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের পুরাতন এ সড়কে মালবাহী ট্রাক থেকে চলন্ত অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার মালামাল টেনে নামিয়ে রেখে তা অন্যত্র বিক্রি করে।
সড়ক-মহাসড়ক কিংবা অলিগলিতে চলাচলকারী অটো-মিশুক চুরির ঘটনা এবং চালককে হত্যা করে তা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাগুলো অহরহ ঘটছে শহর ও শহরতলীতে। শূন্য থেকে হঠাৎ করে সাহারা সিটির মাঠে দুটি অটো গ্যারেজের মালিক বনে যাওয়া এবং দুটি গ্যারেজে প্রায় ৬০টি অটো গাড়ির মালিক বনে যাওয়া ডাকাত আজমীরের এরুপ উথ্থানকে অনেকেই ভিন্ন চোখে দেখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে বলেন, শহর ও শহরতলীর বিভিন্নস্থানে চুরি হওয়া অটো মিশুকগুলো চোর চক্রের মাধ্যমে ডাকাত সামান্য টাকায় ক্রয় করে তা পুনরায় মডিফাই করছে নিয়মিত। এক গাড়ির বডি ও অন্যান্য পার্টস অন্য গাড়িতে লাগিয়ে দিয়ে রং দিয়ে রুপ পাল্টিয়ে তা বিক্রি করছে এবং নিজের গ্যারেজে রেখে তা নিজ নামে ভাড়া দিচ্ছে। তারা আরও বলেন, ডাকাত আজমীরের গ্যারেজে যে ৬০টি অটো-মিশুক রয়েছে তার সর্বোচ্চ ৮/১০ গাড়ির কাগজপত্র রয়েছে নিজ নামে আর বাকীগুলো শহর ও শহরতলীতে থেকে চুরি হওয়া অটো-মিশুক।
অপরদিকে ডাকাত আজমীর তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাটগংরা ফতুল্লার সাহারা সিটির মাঠটিকে যেন মাদকের হাট হিসেবেই খ্যাতি রুপধারন করেছে নতুনভাবে। এখানে মাদকের হাটের ইজারাদার হয়েছেন স্থানীয় চিহিৃত ডাকাত শহিদের পরিবারের সকল সদস্য। আর এ ত্রিরতেœর সাহায্যকারী হিসেবে রয়েছে প্রায় ৫০ জনের অধিক সেলসম্যান। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এ ত্রিরতেœর জমজমাট মাদকের হাট।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, যুবলীগ নেতা শহিদ ওরফে ডাকাত শহিদ তার নামে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলাসহ একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে ফতুল্লাসহ বিভিন্ন থানায়। তার গুনধর পুত্র ফতুল্লা অঞ্চলের আরেক সুপরিচিত ডাকাত আজমীর। সেও বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামী ছাড়াও রয়েছে একাধিক ডাকাতি মামলা। তার শরমী ইসদাইরের আরেক মাদক বিক্রেতা প্রতিপক্ষের হাতে নিহত শামীমের স্ত্রী। শামীম হত্যাকান্ডের পর অপর শীর্ষ মাদক বিক্রেতা স¤্রাটকে বিয়ে করে বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক বিক্রি।
তারা আরো জানান,প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভাই-বোন ও ভগ্নিপতির প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি যেন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে রুপ ধারন করে তুলেছে। সাহারা সিটি মাঠের এক অংশে একটি অটো গ্যারেজকে পুজি করেই চলছে ডাকাত আজমীর-শরমী ও স¤্রাটের মাদকের আখড়া। প্রায় ৬০টির মত অটো গাড়ি,মাঠের একপাশে ২টি বাড়ির মালিক বনে যাওয়া ডাকাত শহিদের পরিবার যেন এখন অন্যতম প্রভাবশালী রুপ ধারন করেছে। মাদক বিক্রির টাকাতেই গড়ে তুলেছে এ সকল সম্পদ। পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর নগদ অর্থ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানান, ভাই-বোন ও ভগ্নিপতির প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির ফলে অনেকের কাছে ফতুল্লার চিরচেনা সাহারা সিটি মাঠটি নতুনভাবে মাদকের সিটি হিসেবে আখ্যা পেতে শুরু করেছে। ডাকাত আজমীর-শরমী ও স¤্রাটের সেলসম্যানরা প্রতিদিনই সেখান থেকে তাদের নিজস্ব অটোযোগে ফতুল্লার রেলষ্টেশন,দাপাসহ আশপাশ এলাকায় পাইকারীভাবে মাদক সাপ্লাই দিচ্ছে। আর এ কাজে ব্যবহার করছে তাদের অটো গ্যারেজের দুইজন প্রতিবন্ধি চালককে।
তারা আরও বলেন,ডাকাত শহিদের পরিবারের সদস্য ডাকাত আজমীর,তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাটকে অত্র এলাকাতে মাদকের হাট গড়ে তুলতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে স্থানীয় কতিপয় অর্থলোভী নেতা,বিশেষ ব্যক্তি আর পুলিশের নামধারী সোর্স।
একাধিক সুত্রে জানা যায় যে,ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কয়েকজন অর্থলোভী পুলিশ সদস্যকে সাপ্তাহিক মাসোহারা ভিত্তিতে নাকি প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ডাকাত আজমীর,তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাট। তাদেরকে নাকি সপ্তাহ ভিত্তিকভাবে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিচ্ছে অন্যতম মাদক বিক্রেতা ডাকাত আজমীর,তার বোন শরমী ও ভগ্নিপতি স¤্রাট। যে কারনে থানাধীন প্রতিটি এলাকাতে মাদক বিরোধী অভিযান চললেও সাহারা সিটি মাঠ ও আশপাশ এলাকাতে মাদক বিরোধী কোন অভিযান চলেনা।
তবে স্থানীয়দের মতে, মাদক ব্যবসা ছাড়াও আশপাশ এলাকাতে ছিচকে চুরি-ছিনতাই এবং ডাকাতি কাজেও জড়িত ডাকাত আজমীর। সে বর্তমানে তার বাহিনী দিয়ে এ সকল অপকর্মগুলো চালিয়ে যাচ্ছে।
সাহারা সিটি ও আশপাশ এলাকার সাধারন বাসিন্দারা ডাকাত শহিদ পরিবারের মাদক ব্যবসা বন্ধ ও চোরাই অটো গ্যারেজটি উচ্ছেদসহ তাদের দ্বারা সংঘটিত সকল অপরাধকর্ম থেকে বাচঁতে জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।




