বন্দর প্রতিনিধি // নারায়নগঞ্জের বন্দরে নব্য বিএনপির একক আদিপত্য বিস্তারে কোন ঠাসায় ত্যাগী, আপোসহীন ও রাজপথের নেতাকর্মীরা। দল ক্ষমতায়, মূল্যায়ন হচ্ছে বহুরুপীদের খাটাচ্ছে প্রভাব ও আধিপত্য। যে বিষয়টি দলের প্রবীন, ত্যাগী ও বর্ষিয়ান নেতাদের ভাবিয়ে তুলছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের একটি অংশ কর্মীসহ সংগঠনের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে বিদেশ পাড়ি জমাায়। আগস্টের ৫ তারিখ থেকে বিএনপি রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় অবস্থায় ফিরে আসে। অন্তভর্ন্তীকালীন সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়তা, গতিশীলতা সহ কর্মীবাহিনী ও জনগনের মাঝে ভিন্নতা দেখা মিলে। সেই সাংগঠনিক গতিশীলতা প্রতিনিয়ত যেন নিম্নমুখী হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নেতাদের একক আধিপত্য বিস্তার, ত্যাগী, নির্যাতিত, হামলা মামলায়, প্রশাসনিক নির্যাতনে কুপোকাত তাদের খুঁজ নেয়ার লোকও নেই। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাদের বাড়িঘরে থাকতে কষ্ট হতো এখনো তারাই অবহেলিত। বিএনপির বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকটাই কর্মী ও জনবিচ্ছিন্ন সংগঠনের দিকে দাবিত হচ্ছে।
অপরদিক স্বৈরাচারী সরকারের দোসররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরে সমর্থকদের সক্রিয় রাখার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির লক্ষ্যেই বিভিন্ন বক্তব্য, ভিডিও ও প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীদের বক্তব্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা দ্রুত ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কনটেন্ট দেশের অভ্যন্তরে থাকা দলীয় সমর্থকদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ঘিরে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এটি বিভিন্ন গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে শেয়ার হতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএনপির রাজনীতিতে কর্মী ও জনগনের আস্থা হারাতে বসছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে যারা ঘরে ঘুমাতে পারেনি। হামলা, মামলা, প্রশাসনিক হয়রানি ও নির্যাতনে সব কিছু হারিয়ে দিশেহারা। ক্ষমতাসীন দলের ( বিএনপির) নেতারা সেই দোসরদের সাথে গোপন আতাতুর্কের হাতে হতাশা ও দিশেহারা হয়ে পড়ছে। নেতাদের আতাত, ত্যাগী, কারা নির্যাতিত, আপোষহীন নেতা, কর্মীদের বুকে ক্ষোভের সঞ্চয় হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটের বিএনপির রাজনীতিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন আর ভীরতে না পারার আফসোস নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। দলের সাংগঠনিক অবস্থা ফেরত আনতে নারায়ণগঞ্জ – ৫ আসনের সাংসদ এড আবুল কালাম ও তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশার কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দূর্রদিনের ত্যাগীরা।
ক্ষোভের সাথে বলেন বিএনপির রাজনীতিতে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। বিএনপির আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে জান- মালসহ নানা প্রকার অযাচিত অশোভন আচারন সহ্য করে দিন কাটিয়েছে। বিগত প্রায় ২০ বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। সরকার ক্ষমতায় অবমূল্যায়ন হচ্ছে স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে হামলা, মামলা, প্রশাসনিক নির্যাতন সহ্য করেছে। সেই ত্যাগী, হামলা, মামলা, বাড়িঘরে হামলার শিকার, বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করেছে। রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে চর্থুরমুখী চাঁপের মুখে নিজ এলাকায় যেতে পারেনি এমনই নেতার সংখ্যা অনেক। সংগঠনের আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে নানামুখী নির্যাতন সহ্য করেছে যে প্রবীন নেতারা। সেই ত্যাগী ও প্রবীন নেতারা হাইব্রিড, ফেইসবুক নব্যদের চাটুকারিতায় নেতার কাছে ভীরতে না পারার আফসোস যেন দীর্ঘ হচ্ছে। মনের ভেতরে থাকা হাজারো দুঃখ তাদের অভিভাবক স্থানীয় সাংসদ এড আবুল কালামের সাথে শেয়ার করতে না পারার দুঃখ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নব্য ও হাইব্রিড, ফেইসবুক নেতাদের বিরুদ্ধে সিনিয়র নেতাদের অভিযোগ না থাকলেও ক্ষোভ রয়েছে। ত্যাগী আপোষহীন নেতাদের(সিনিয়র) সম্মানতো দূর্রের কথা, নেতার সামনে যাওয়ার কোন উপায় থাকে না। বর্তমান বিএনপির রাজনীতিতে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। এর সারি প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাংসদ এড আবুল কালাম ও তার রাজনৈতিক সচিব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




